ভিয়েনা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা প্রেমের বিয়ের তিন মাস পর নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে স্বৈরাচারের দোসররা: প্রতিমন্ত্রী টুকু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে সমাবেশ ও গণ মিছিল বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন রাতের আঁধারে অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে গেল স্ত্রী সরকার মানবপাচার রোধে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

লালমোহন মমিন নেছা বালিকা মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে টিউশন ফি আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৪৭ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক’র বিরুদ্ধে টিউশন ফি ও বৃক্ষ রোপন না করে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশ।

গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পরে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: জহির উদ্দিন,মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশের পক্ষে স্বাক্ষর দিয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীগণ ২০০২ সাল থেকে স্ব-স্ব পদে কর্মরত আছি। আমাদের মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত সরকারের দেওয়া টিউশন ফির টাকা ও প্রতি বছর বৃক্ষরোপন কর্মসুচির জন্য প্রদত্ত টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আসছে।

শিক্ষকরা টিউশন ফি ও মাদ্রাসার অভ্যন্তরীন আয়ের টাকার সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারের নিকট জানতে চাইলে,সুপার আবু বকর ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন এবং বেতন বন্ধ করে দিবে বলে নানা রকম হুমকি ধামকি ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিজেই ওই টাকা একক ভোগ করেন।

এছাড়াও অত্র প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ে আমিনুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে বিল করা পর্যন্ত কিছু দিন প্রতিষ্ঠানে থাকলেও, পরবর্তীতে তার নিজ এলাকায় চলে যায়। সেই থেকে আর কখনোই সে মাদ্রাসায় আসেনি। শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসার সুপার আবু বকর এর সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে বেতন তোলে তার বেতনের একটি অংশ সুপার ভোগ করেন বলে সূত্র জানায়।

ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসায় না আসলেও তার বেতন উত্তলন করে সুপার ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবান হলেও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণ ইংরেজী বিষয়েরমত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এবিষয়ে ইংরেজী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।

অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার মাও: আবু বকর নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তবে শিক্ষকরা যখন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, আমাকে ফোন না দিয়ে আমার সাথে দেখা করতেন। এছাড়াও ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর সম্পর্কে বলেন, মে মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে।

লালমোহন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, আমি লালমোহনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এই ধরনের কোন অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সিফাত বিন সাদেক এবিষয়ে বলেন, গত বৃহস্পতিবার এই ধরনের একটি অভিযোগ অফিস শেষ সময়ে পেয়েছি। আজকে জেলায় মিটিং ছিলো। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গাছ না লাগিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন সুপার। এছাড়াও সম্প্রতি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি এর ৮১ হাজার দুই শত টাকা উত্তলন করে আত্মসাৎ করেন সুপার আবু বকর।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Tag :

লালমোহনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহন মমিন নেছা বালিকা মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে টিউশন ফি আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ

আপডেটের সময় ০৩:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক’র বিরুদ্ধে টিউশন ফি ও বৃক্ষ রোপন না করে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশ।

গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পরে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: জহির উদ্দিন,মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশের পক্ষে স্বাক্ষর দিয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীগণ ২০০২ সাল থেকে স্ব-স্ব পদে কর্মরত আছি। আমাদের মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত সরকারের দেওয়া টিউশন ফির টাকা ও প্রতি বছর বৃক্ষরোপন কর্মসুচির জন্য প্রদত্ত টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আসছে।

শিক্ষকরা টিউশন ফি ও মাদ্রাসার অভ্যন্তরীন আয়ের টাকার সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারের নিকট জানতে চাইলে,সুপার আবু বকর ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন এবং বেতন বন্ধ করে দিবে বলে নানা রকম হুমকি ধামকি ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিজেই ওই টাকা একক ভোগ করেন।

এছাড়াও অত্র প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ে আমিনুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে বিল করা পর্যন্ত কিছু দিন প্রতিষ্ঠানে থাকলেও, পরবর্তীতে তার নিজ এলাকায় চলে যায়। সেই থেকে আর কখনোই সে মাদ্রাসায় আসেনি। শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসার সুপার আবু বকর এর সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে বেতন তোলে তার বেতনের একটি অংশ সুপার ভোগ করেন বলে সূত্র জানায়।

ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসায় না আসলেও তার বেতন উত্তলন করে সুপার ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবান হলেও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণ ইংরেজী বিষয়েরমত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এবিষয়ে ইংরেজী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।

অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার মাও: আবু বকর নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তবে শিক্ষকরা যখন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, আমাকে ফোন না দিয়ে আমার সাথে দেখা করতেন। এছাড়াও ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর সম্পর্কে বলেন, মে মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে।

লালমোহন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, আমি লালমোহনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এই ধরনের কোন অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সিফাত বিন সাদেক এবিষয়ে বলেন, গত বৃহস্পতিবার এই ধরনের একটি অভিযোগ অফিস শেষ সময়ে পেয়েছি। আজকে জেলায় মিটিং ছিলো। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গাছ না লাগিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন সুপার। এছাড়াও সম্প্রতি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি এর ৮১ হাজার দুই শত টাকা উত্তলন করে আত্মসাৎ করেন সুপার আবু বকর।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস