ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: শিরোনাম আর ছবির সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছেন না,তাইতো? অনেকেই হয়তো ঘাবড়ে গেছেন। মাথায় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এত কম বয়সী শিক্ষার্থীরা কিভাবে ডাক্তার,পুলিশ,ইঞ্জিনিয়ার হলো। জানলে হলে পড়তে হবে পুরো সংবাদটি।
ছবিতে থাকা প্রত্যেক শিশু প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। তাদের স্বপ্ন বড় হয়ে কেউ ডাক্তার,কেউ ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউ পুলিশ হবেন। তবে অস্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে স্কুল ড্রেসও কিনে দিতে স্বক্ষম না পরিবার। তাই বলে তাদের স্বপ্ন তো আর ভেঙ্গে যেতে পারেনা। নিষ্পাপ মনে বোনা সেই স্বপ্ন পুরণে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘অবিরাম উন্নয়নে বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
বুধবার এই সংগঠনটি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ‘শাহবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ পড়ুয়া গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ ও বৃত্তি প্রদান করেছে। এসময় স্কুলটির শিক্ষিকাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ড্রেস ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। যা পেয়ে মুহুর্তের মধ্যে হাসি ঠোটে মলিন মুখে।

শিক্ষার্থী লামিয়া খাতুনের ইচ্ছা বড় হয়ে ডাক্তার হবার। তবে বাবা মারা যাওয়ায় সংসারে বোঝা এসে পড়েছে মায়ের উপর। একটি এনজিওতে চাকরী করে কোনমতে সংসার চালান মা। তবে অল্প বেতনের চাকরীতে লামিয়ার পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পুরনো ও ছেড়া ড্রেসেই স্কুলে আসতে হয় তাকে। লজ্জা লাগলেও বলতে পারেন না কাউকে। লামিয়ার চোখে-মুখে শঙ্কার ছাপ। তার ভাবুক মন যেন বলছিল,আসলেই কি লেখাপড়া শেষ করে ডাক্তার হতে পারবে সে?
স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা মনিকা বলেন,‘গরীব ও মেধাবীদের তালিকা অনুযায়ী ‘অবিরাম উন্নয়নে বাংলাদেশ’ সংগঠনটি স্কুল ড্রেস ও বৃত্তি প্রদান করেছে। গরীব হবার দরূণ এসব মেধাবী শিক্ষার্থীরা সুযোগ-সুবিধা পায় না, ফলে লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ে। তাদের পাশে এসে দাঁড়ালে তারাও একদিন নিজের পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জল করবে।’
‘অবিরাম উন্নয়নে বাংলাদেশ’ সংগঠনের সভাপতি উজ্জল আলী বলেন,‘অস্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠা মেধাবী শিক্ষার্থীদের খবর পেয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই স্কুল ড্রেস ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অস্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে মেধাবী এসব শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে পিছিয়ে পড়ে। তাদের মনে বড় কোন স্বপ্ন থাকলেও পূরণ করতে পারেনা। তাই তাদের স্বপ্ন পূরনে সামান্য সহযোগীতা করা হয়েছে। পরবর্তিতে যেকোন সমস্যায় ‘অবিরাম উন্নয়নে বাংলাদেশ’ সংগঠন তাদের পাশে থাকবে।
প্রসঙ্গত, ‘অবিরাম উন্নয়নে বাংলাদেশ’ সংগঠন ইতেমধ্যে শৈলকুপা উপজেলায় নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করে সুনাম অর্জন করেছে। পাশে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫শত অনেক পরিবারের।
শেখ ইমন/ইবিটাইমস