চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে তুরস্ক থেকে অনিয়মিত পথে সীমান্ত পারাপারের সময় প্রায় ৪৭ হাজার অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে দেশটির আইন শৃঙ্খলা বাহিনী

ইউরোপ ডেস্কঃ মঙ্গলবার(৮ আগষ্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে,২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় এই প্রচেষ্টা ৭৩ শতাংশ বেড়েছে৷
২০২২ সালের ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২৭ হাজার ৮৩ জন অনিয়মিত অভিবাসী তুরস্কের সাথে থাকা সীমান্ত থেকে বুলগেরিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, যদিও এ সকল অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকিয়ে তাদেরকে পুনরায় তুরস্কের দিকে পুশব্যাক করেছিল সোফিয়া। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন ৪৭ হাজার ৯৪০ জন অভিবাসী।
ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত অভিবাসন বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস জানিয়েছে,বর্তমানে দেশটি আগের চেয়ে আরও
বেশি তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে তার সীমান্তে। ইউরো বাংলা টাইমসে ইতিমধ্যেই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল যে,অস্ট্রিয়া এই অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বুলগেরিয়া ও রুমানিয়ার শেনজেন জোনে প্রবেশে ভেটো দিয়ে রেখেছে।
অনলাইন পোর্টালটি আরও জানায়,এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্ত এলাকায় বুলগেরিয়ার সীমান্ত বাহিনীর নিকট আটক হওয়া অভিবাসীদের সংখ্যা এখন ৪০০-তে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের একই সময়ে ২০০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছিল। বাকীদের আটক না করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বুলগেরিয়া জুড়ে পরিচালিত অভিযানের ফলস্বরূপ বিচারের আওতায় নিয়ে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সোফিয়া কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের জুন এবং জুলাই মাসে পরিচালিত অভিযানের পর ১৯৪টি প্রাক-বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের একই সময়ে সেটি বেড়ে ৩৪৩-এ দাঁড়িয়েছে।
সীমান্ত ছাড়াও বুলগেরিয়ার অভ্যন্তরে আটক হওয়া অ-ইউরোপীয় বা তৃতীয় দেশের নাগরিকদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আঞ্চলিক ও অভিবাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন হাজার ৪৫২ জন তৃতীয় দেশের নাগরিক আটক হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯২৮ জন – অর্থাৎ ৩,৭ গুণ বা ২৭০ শতাংশ বেশি।
চলতি বছরের শুরু থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত তুরস্ক থেকে বুলগেরিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের ব্যর্থ প্রচেষ্টার সংখ্যা এক লাখ ৮ হাজার ৯৫৪। গত বছরের একই সময়ে যেটি ছিল ৬৭ হাজার ৮৪৬। ২০২৩ সালের শুরুতে অনিয়মিত অভিবাসীদের পাচারের বিরুদ্ধে ‘হাওয়ালা’ নামে বড় আকারের একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রসিকিউটর অফিস৷
চলতি বছরের এপ্রিলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্টেটওয়াচের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বুলগেরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আর তাই বুলগেরিয়াকে প্রায় ৬০ কোটি ইউরো সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ইউরোপীয়ান কমিশন।
তবে বুলগেরিয়ান সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, চুরি, পুশব্যাক ও আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকায় এই অর্থায়নে ক্ষোভ জানিয়েছে এনজিওগুলো। তুরস্ক-বুলগেরিয়া সীমান্তে চাপ বাড়লেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বুলগেরিয়া- সার্বিয়া এবং বুলগেরিয়া-রোমানিয়া সীমান্তে। এ দুই অঞ্চলে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করার সময় গ্রেপ্তার হওয়া তৃতীয়-দেশের নাগরিকদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। মূলত অভিবাসীদের অনিয়মিত উপায়ে পশ্চিম ইউরোপে পৌঁছতে বাঁধা দিতে নেওয়া পদক্ষেপের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস




















