ভিয়েনা ০৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, জরিমানা মাভাবিপ্রবিতে নেক্সটজেন গ্লোবাল ইকো-লিডারশীপ সামিট অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে রেড ক্রিসেন্ট দিবস পালিত, সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত লালমোহনে নারিকেল পাড়া নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ৪ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরায় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াকফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ বায়ার্নকে বিদায় করে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পিএসজি লালমোহনে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

ইইউতে বেড়ে গেছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩
  • ৯৯ সময় দেখুন

কবির আহমেদ, ভিয়েনা: ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন ৮ লাখ ৮১ হাজার ২০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ যা ২০২১ সালের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি৷

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ইউরোপের অভিবাসন প্রত্যাশী বিষয়ক
অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস জানান,
টানা দুই বছর আশ্রয় আবেদন বেড়েছে বলেও জানিয়েছে ইউরোস্ট্যাট৷ ২০২১ সালে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৪০০ জনের আবেদন জমা পড়েছিল। ২০২০ সালে অবশ্য বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে আবেদন কমে গিয়েছিল৷ সে বছর আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ১০০ জন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এমন লাখো আবেদন জমা পড়েছিল ২০১৫-২০১৬ সালের দিকে৷ সিরিয়ায় যুদ্ধের কারণে তখন বছরে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ২০২২ সালে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলো ৪০ লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে৷ রুশ আক্রমণ থেকে বাঁচতে ইউরোপের একাধিক দেশে আশ্রয় নিয়েছেন লাখো ইউক্রেনীয় শরণার্থী৷ অবশ্য তাদের বিশেষ সুরক্ষা দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো৷

ইইউর সদস্য দেশগুলি সে ক্ষেত্রে যদিও অস্থায়ী জরুরি নিয়ম গ্রহণ করেছে৷ কারণ রুশ আগ্রাসনের পর থেকে গত এক বছরে মানুষের আগমন বেড়েই চলেছে৷ তবে সে ক্ষেত্রে মোট দুই বছরের জন্য ‘এক্সটেনশন’ সম্ভব। প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয় প্রক্রিয়া এড়াতে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের আবেদন দ্রুত বিবেচনা করতে হবে৷

২০১৩ থেকে আশ্রয় আবেদনের শীর্ষে সিরীয়রা।
২০২২ সালে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৭১ জন সিরীয় নাগরিক আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নে জমা পড়া আশ্রয় আবেদনের শতকরা ১৫ শতাংশই দেশটির নাগরিকদের৷

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানের নাম৷ তালেবান ক্ষমতায় এলে, দেশটির অনেক নাগরিক ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷ গত বছর দেশটির এক লাখ ১৩ হাজার ৪৯৫ জন নাগরিক আশ্রয় চেয়ে (১৩ শতাংশ) আবেদন করেছেন৷ভেনেজুয়েলা এবং তুরস্ক থেকে যথাক্রমে ৫০ হাজার ৫০ জন এবং ৪৯ হাজার ৭২০ জন আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন৷ যা মোট আবেদনের ছয় শতাংশ৷

আশ্রয় আবেদন সবচেয়ে বেশি জমা পড়েছে জার্মানিতে৷ ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৫টি আবেদন জমা হয়েছে দেশটিতে৷ যা মোট আবেদনের প্রায় ২৫ শতাংশ৷ ফ্রান্সে ১৬ শতাংশ, স্পেনে ১৩ শতাংশ, অস্ট্রিয়ায় ১২ শতাংশ এবং ইটালিতে নয় শতাংশ আশ্রয়-আবেদন জমা পড়েছে৷

এদিকে ইনফোমাইগ্র্যান্টস আরও জানায়,এই
সময়ে প্রায় ৩৪ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশী ইইউতে আবেদন করেছে। ২০২১ সালে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইইউ প্লাস দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন৷ এবার এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে৷ অনিয়মিত উপায়ে আসা ৩৩ হাজার ৭২৯ জন বাংলাদেশির আবেদন জমা পড়েছে ২০২২ সালে, যা পাকিস্তানের নাগরিকদের পর আবেদনের দিক থেকে সপ্তম৷
ইইউএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, তুর্কি, ভেনেজুয়েলান, কলম্বিয়ান, বাংলাদেশি ও জর্জিয়ানদের আবেদনের সংখ্যা অন্তত ২০০৮ সালের পর সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে৷

অনেক সময়ই আবেদনের পর সিদ্ধান্ত পেতে শরণার্থী, অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়৷ তবে গত বছর ৬ লাখ ৩২ হাজার আবেদনেরই সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব হয়েছে৷ এর মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার বা প্রায় অর্ধেক আবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ৷ অন্যদিকে, ১ লাখ ৪৭ হাজার জন শরণার্থী হিসেবে এবং ১ লাখ ৬ হাজার জন সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন বা সহায়ক সুরক্ষার আওতায় থাকার অনুমতি পেয়েছেন৷

উল্লেখ্য, নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক কারণে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে বা কারো জীবন হুমকির মুখে থাকলে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলোতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করতে পারেন৷

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/ আরএস

জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, জরিমানা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ইইউতে বেড়ে গেছে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা

আপডেটের সময় ০৩:৫২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

কবির আহমেদ, ভিয়েনা: ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন ৮ লাখ ৮১ হাজার ২০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ যা ২০২১ সালের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি৷

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ইউরোপের অভিবাসন প্রত্যাশী বিষয়ক
অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস জানান,
টানা দুই বছর আশ্রয় আবেদন বেড়েছে বলেও জানিয়েছে ইউরোস্ট্যাট৷ ২০২১ সালে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৪০০ জনের আবেদন জমা পড়েছিল। ২০২০ সালে অবশ্য বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে আবেদন কমে গিয়েছিল৷ সে বছর আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেন ৪ লাখ ১৭ হাজার ১০০ জন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এমন লাখো আবেদন জমা পড়েছিল ২০১৫-২০১৬ সালের দিকে৷ সিরিয়ায় যুদ্ধের কারণে তখন বছরে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ২০২২ সালে একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলো ৪০ লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে৷ রুশ আক্রমণ থেকে বাঁচতে ইউরোপের একাধিক দেশে আশ্রয় নিয়েছেন লাখো ইউক্রেনীয় শরণার্থী৷ অবশ্য তাদের বিশেষ সুরক্ষা দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো৷

ইইউর সদস্য দেশগুলি সে ক্ষেত্রে যদিও অস্থায়ী জরুরি নিয়ম গ্রহণ করেছে৷ কারণ রুশ আগ্রাসনের পর থেকে গত এক বছরে মানুষের আগমন বেড়েই চলেছে৷ তবে সে ক্ষেত্রে মোট দুই বছরের জন্য ‘এক্সটেনশন’ সম্ভব। প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয় প্রক্রিয়া এড়াতে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীদের আবেদন দ্রুত বিবেচনা করতে হবে৷

২০১৩ থেকে আশ্রয় আবেদনের শীর্ষে সিরীয়রা।
২০২২ সালে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৭১ জন সিরীয় নাগরিক আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিলেন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নে জমা পড়া আশ্রয় আবেদনের শতকরা ১৫ শতাংশই দেশটির নাগরিকদের৷

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানের নাম৷ তালেবান ক্ষমতায় এলে, দেশটির অনেক নাগরিক ইউরোপে আসার চেষ্টা করছে৷ গত বছর দেশটির এক লাখ ১৩ হাজার ৪৯৫ জন নাগরিক আশ্রয় চেয়ে (১৩ শতাংশ) আবেদন করেছেন৷ভেনেজুয়েলা এবং তুরস্ক থেকে যথাক্রমে ৫০ হাজার ৫০ জন এবং ৪৯ হাজার ৭২০ জন আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন৷ যা মোট আবেদনের ছয় শতাংশ৷

আশ্রয় আবেদন সবচেয়ে বেশি জমা পড়েছে জার্মানিতে৷ ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৫টি আবেদন জমা হয়েছে দেশটিতে৷ যা মোট আবেদনের প্রায় ২৫ শতাংশ৷ ফ্রান্সে ১৬ শতাংশ, স্পেনে ১৩ শতাংশ, অস্ট্রিয়ায় ১২ শতাংশ এবং ইটালিতে নয় শতাংশ আশ্রয়-আবেদন জমা পড়েছে৷

এদিকে ইনফোমাইগ্র্যান্টস আরও জানায়,এই
সময়ে প্রায় ৩৪ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশী ইইউতে আবেদন করেছে। ২০২১ সালে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইইউ প্লাস দেশগুলোতে আশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন৷ এবার এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে৷ অনিয়মিত উপায়ে আসা ৩৩ হাজার ৭২৯ জন বাংলাদেশির আবেদন জমা পড়েছে ২০২২ সালে, যা পাকিস্তানের নাগরিকদের পর আবেদনের দিক থেকে সপ্তম৷
ইইউএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, তুর্কি, ভেনেজুয়েলান, কলম্বিয়ান, বাংলাদেশি ও জর্জিয়ানদের আবেদনের সংখ্যা অন্তত ২০০৮ সালের পর সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে৷

অনেক সময়ই আবেদনের পর সিদ্ধান্ত পেতে শরণার্থী, অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়৷ তবে গত বছর ৬ লাখ ৩২ হাজার আবেদনেরই সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব হয়েছে৷ এর মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার বা প্রায় অর্ধেক আবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ৷ অন্যদিকে, ১ লাখ ৪৭ হাজার জন শরণার্থী হিসেবে এবং ১ লাখ ৬ হাজার জন সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন বা সহায়ক সুরক্ষার আওতায় থাকার অনুমতি পেয়েছেন৷

উল্লেখ্য, নিজ দেশে বর্ণ, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক কারণে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে বা কারো জীবন হুমকির মুখে থাকলে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলোতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করতে পারেন৷

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/ আরএস