ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও দেশ গড়ার কাজে আরো বেশি অবদান রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও দেশ গড়ার কাজে আরো বেশি অবদান রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বৃহষ্পতিবার একবাণীতে এ কথা বলেন।
তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি গত ৫০ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দেশব্যাপী অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে সেনাবাহিনী আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকান্ড কিংবা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মহামারি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণ করার গৌরব অর্জন করেছে, যাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বিশ্বশান্তি রক্ষায় সেনাবাহিনীর ১২৫ জন সদস্য প্রাণ দিয়েছেন। তিনি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আলোকে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আজকে যে আধুনিক সেনাবাহিনী তা আমাদের গৃহীত সকল পদক্ষেপেরই বাস্তব প্রতিফলন।
বাণীতে তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও মহান আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিতা মা-বোনকেএবং দেশমাতৃকার সেবায় আত্মোৎসর্গকৃত সেনাবাহিনীর সকল শহিদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুবর্ণজয়ন্তীতে এ বাহিনীর সকল সদস্য এবং তাঁদের পরিবারবর্গের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এমএইচ