লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহনে সংঘবদ্ধ কিশোরদের বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন জুয়েল হাওলাদার বাদী হয়ে লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালাচাঁদ এলাকার ইউনুছ হাওলাদার বাড়িতে গত ৪ মে গভীর রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা প্রথমে বসতঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তবে ঘরে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে তারা পাশের হাঁস-মুরগির ঘর থেকে ১০টি চিনা হাঁস ও ৯টি দেশি মোরগ চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া বাড়ির সামনে থাকা একটি লিচু গাছের ডাল ভেঙে গাছের প্রায় সব লিচু নিয়ে যায়। পরদিন ৫ মে বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. মহিউদ্দিন জুয়েল হাওলাদার জানান, গ্রামের বাড়িতে আমার বাবা-মা একা থাকেন। বাবা বিভিন্ন ফলজ গাছ, গরু, হাঁস-মুরগি পালন করেন। আমি ও আমার ভাই কর্মসূত্রে লালমোহনে থাকি। এর আগেও আমাদের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাই বাবা-মায়ের নিরাপত্তা এবং চোর শনাক্ত করতে আমরা বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করি।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয় পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— এমজাদ (১৮), পিতা ইব্রাহিম খলিল; হাছান (১৯), পিতা অলি মিস্ত্রি; দুলাল (১৬), পিতা মিলন মৃধা; মেহেদী হাসান (১৮), পিতা মিলন মৃধা; এবং সিয়াম (২০), পিতা হিরন। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
জুয়েল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “চুরি করতে এসে তারা যে-কোনো সময় আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ক্ষতি করতে পারে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এমজাদের বাবা ইব্রাহিম খলিল বলেন, গভীর রাতে অন্যের বাড়িতে যাওয়া অবশ্যই অন্যায়। একজন বাবা হিসেবে আমি লজ্জিত। আমার সন্তান দোষ করে থাকলে তার বিচার হওয়া উচিত। তবে আমি মনে করি, তারা কিশোর গ্যাং নয়। উঠতি বয়সের ছেলেরা মৌসুমি ফল খাওয়ার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করেছে।
এ ব্যাপারে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মঙ্গল শিকদার ফাঁড়ির ইনচার্জ এরশাদ উকিল জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস




















