ভিয়েনা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘অভিবাসী শিশুদের জন্য আরো অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতি প্রয়োজন’ – ইউনিসেফ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:৩৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫০ সময় দেখুন

কবির আহমেদ/ভিয়েনা : ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে ইতালিতে এক বিশেষ সংলাপের আয়োজন করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক
সংগঠন ইউনিসেফ। অভিবাসী তরুণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইন্সটিটিউটের মধ্যকার এই সংলাপে কিশোর অভিবাসী এবং শরণার্থীদের বিভিন্ন চাহিদার কথা
উঠে এসেছে।

সংলাপের আগে অবশ্য একাধিক জরিপের আয়োজন করা হয় যাতে অভিবাসী বংশোদ্ভূত ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি তেরশো ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করে। জরিপে ক্যারিয়ার নির্দেশিকা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং লিঙ্গভিত্তিক সংহিসতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়৷

জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষা এবং চাকুরির সুযোগ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাচ্ছে না৷ জরিপে সাড়া দেয়া ২৩ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের কাছে এসব বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই এবং ৩২ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের কাছে কোনো তথ্যই নেই।

এককভাবে পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতি দশ জনের চার জন জানিয়েছে যে তারা মনে করে তারা সহায়তা পেয়েছে। তবে এরমধ্যে অর্ধেকই জানিয়েছে তারা পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি।

এক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে: জরিপে অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেক কিশোরই জানিয়েছে যে তারা অন্তত একবার হলেও কোনও ধরনের চুক্তি ছাড়া কাজ করেছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরো কাজ দরকার:

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রায় অর্ধেক কিশোর-কিশোরী জানিয়েছে যে তারা মনে করছে তাদের কথা শোনা হয়েছে। তবে, একটা বড় অংশ এখনো নিজেদেরকে বঞ্চিত মনে করছে। ১৩ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা খুব কম সময়ই মনে করেছে যে তাদের কথা শোনা হয়েছে৷ আর প্রতি দশজনের একজন মনে করছে তাদের কথা কখনোই শোনা হয়নি।

জরিপে অংশ নেয়াদের এক চতুর্থাংশেরও কম মনে করছে যে তারা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সবসময় সহায়তা পেয়েছে, তবে অর্ধেকের মতো জানিয়েছে যে, তারা মাঝেমাঝে সহায়তা পেয়েছে৷ আর ২৮ শতাংশ কখনো সহায়তা পায়নি বলে জানিয়েছে।

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি:

জরিপে অংশ নেয়া কিশোর-তরুণদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা সহিংসতার শিকার হওয়ায় সাহায্য নিয়েছে।তবে জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসী বংশোদ্ভূত কিশোর-তরুণদের অনলাইনে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া প্রতি দশ জনের মধ্যে মাত্র দুই জন জানিয়েছে যে তারা বিশ্বাস করে ডিজিটাল মাধ্যমেও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। জরিপের এই ফলাফল ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে আরো সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার দিকটি তুলে ধরেছে।

কিশোর-তরুণদের জন্য উপযুক্ত আরও তথ্য নিশ্চিতের বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যাতে করে তারা কখন কী প্রয়োজন এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে আরো সচেতন থাকতে পারে৷ ‘অভিবাসী শিশুদের জন্য আরো অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতি প্রয়োজন’ বলে মনে করছে ইউনিসেফ।
ইবিটাইমস/ভিয়েনা

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

‘অভিবাসী শিশুদের জন্য আরো অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতি প্রয়োজন’ – ইউনিসেফ

আপডেটের সময় ১১:৩৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

কবির আহমেদ/ভিয়েনা : ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে ইতালিতে এক বিশেষ সংলাপের আয়োজন করেছিল জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক
সংগঠন ইউনিসেফ। অভিবাসী তরুণ এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইন্সটিটিউটের মধ্যকার এই সংলাপে কিশোর অভিবাসী এবং শরণার্থীদের বিভিন্ন চাহিদার কথা
উঠে এসেছে।

সংলাপের আগে অবশ্য একাধিক জরিপের আয়োজন করা হয় যাতে অভিবাসী বংশোদ্ভূত ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি তেরশো ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করে। জরিপে ক্যারিয়ার নির্দেশিকা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং লিঙ্গভিত্তিক সংহিসতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়৷

জরিপ অনুযায়ী, শিক্ষা এবং চাকুরির সুযোগ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাচ্ছে না৷ জরিপে সাড়া দেয়া ২৩ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের কাছে এসব বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই এবং ৩২ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের কাছে কোনো তথ্যই নেই।

এককভাবে পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতি দশ জনের চার জন জানিয়েছে যে তারা মনে করে তারা সহায়তা পেয়েছে। তবে এরমধ্যে অর্ধেকই জানিয়েছে তারা পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি।

এক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে: জরিপে অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেক কিশোরই জানিয়েছে যে তারা অন্তত একবার হলেও কোনও ধরনের চুক্তি ছাড়া কাজ করেছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরো কাজ দরকার:

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রায় অর্ধেক কিশোর-কিশোরী জানিয়েছে যে তারা মনে করছে তাদের কথা শোনা হয়েছে। তবে, একটা বড় অংশ এখনো নিজেদেরকে বঞ্চিত মনে করছে। ১৩ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা খুব কম সময়ই মনে করেছে যে তাদের কথা শোনা হয়েছে৷ আর প্রতি দশজনের একজন মনে করছে তাদের কথা কখনোই শোনা হয়নি।

জরিপে অংশ নেয়াদের এক চতুর্থাংশেরও কম মনে করছে যে তারা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সবসময় সহায়তা পেয়েছে, তবে অর্ধেকের মতো জানিয়েছে যে, তারা মাঝেমাঝে সহায়তা পেয়েছে৷ আর ২৮ শতাংশ কখনো সহায়তা পায়নি বলে জানিয়েছে।

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি:

জরিপে অংশ নেয়া কিশোর-তরুণদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা সহিংসতার শিকার হওয়ায় সাহায্য নিয়েছে।তবে জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসী বংশোদ্ভূত কিশোর-তরুণদের অনলাইনে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া প্রতি দশ জনের মধ্যে মাত্র দুই জন জানিয়েছে যে তারা বিশ্বাস করে ডিজিটাল মাধ্যমেও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। জরিপের এই ফলাফল ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে আরো সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার দিকটি তুলে ধরেছে।

কিশোর-তরুণদের জন্য উপযুক্ত আরও তথ্য নিশ্চিতের বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যাতে করে তারা কখন কী প্রয়োজন এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে আরো সচেতন থাকতে পারে৷ ‘অভিবাসী শিশুদের জন্য আরো অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতি প্রয়োজন’ বলে মনে করছে ইউনিসেফ।
ইবিটাইমস/ভিয়েনা