কয়লার দর নিয়ে আলোচনা আদানি ও পিডিবির, পায়রা ও রামপাল মডেলে কয়লার দাম নির্ধারণে আশ্বাস

মো: নাসরুল্লাহ, ঢাকা: বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকিউরমেন্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে ঢাকায় আসেন আদানি ঝাড়খন্ড পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল সারদানা। ঢাকায় পৌছে বিকেলেই পিডিবির সাথে বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার দর নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে আলোচনা হয়।

আদানির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে, কয়লার দাম বাংলাদেশের অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চেয়ে খুব বেশি হবে না। বিদ্যুতের দামও হবে কাছাকাছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আদানির তিনজন ও পিডিবির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘন্টা বৈঠক করে দু’পক্ষ। প্রাথমিক পর্যায়ে দু’পক্ষ নিজেদের প্রস্তাবনা তুলে ধরে বৈঠকে। এ বিষয়ে আরও বৈঠকের প্রয়োজন আছে বলে মনে করে পিডবি ও আদানি দু’পক্ষই।

বৈঠকে কয়লার দাম নির্ধারণ সংক্রান্ত পিডিবির প্রস্তাবনার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে অবহিত করার কথা জানিয়েছে আদানি প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে পিডিবি বলছে, কয়লার দর নির্ধারণে একটি ফলপ্রসূ পদ্ধতিতে পৌঁছানো যাবে।

পায়রাসহ অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে পিডিবির চুক্তিতে কয়লার ইনডেক্স প্রাইসের ওপর ভিত্তি করে ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর বিবেচনা করে দাম নির্ধারণের কথা বলা আছে। আদানির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এটা নেই। ফলে অনেক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এমনকি কয়লার দাম নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতিও থাকবে।

চুক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কয়লার দাম বেশি ধরেছে ভারতের আদানি গ্রুপ। কয়লার দাম বেশি হলে বিদ্যুৎ কিনতে বেশি খরচ হবে পিডিবির। আদানির সাথে পিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমলোচনা হয়। সমলোচনার মুখে দাম নির্ধারণ পর্যালোচনা করতে আদানিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ২৫ জানুয়ারি আদানি পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ঝাড়খণ্ড) অনিল সারদানাকে এ চিঠি পাঠান পিডিবির সচিব মোহাম্মদ সেলিম রেজা। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই ঢাকায় আসে আদানির প্রতিনিধিদল।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পিপিএতে কয়লার দর নির্ধারণের জন্য যে ফর্মুলা রয়েছে, তা অনুসরণ করলে বাংলাদেশের অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানির কয়লার দাম বেশি হবে।
এদিকে, দেশে বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কয়লা ক্রয় পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য বিদ্যুৎ সচিবের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পিডিবির সাথে বৈঠকের পরে আদানির প্রতিনিধিদল বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতে ফিরে যান তারা।

উল্লেখ্য ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় স্থাপিত আদানি গ্রুপের ১৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এই কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »