ভিয়েনা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স অর্জন সংবর্ধনা নিতে নয়, এই জনপদের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি – স্পিকার মেজর হাফিজ সালজবুর্গে ট্রেনের ধাক্কায় অস্ট্রিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন গোলরক্ষক ম্যানিঙ্গারের মৃত্যু ‘যতদিন লাগে’ ইরানের বন্দর অবরোধ করবে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন প্রধান ট্রাম্পের অন্য দেশকে হুমকি দেওয়ার অধিকার নেই : লুলা মাতামুহুরীতে পর্যটক নিখোঁজ নেত্রকোণায় জ্বালানি তেল মজুতের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বগুড়ায় ৪ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ ঝিনাইদহে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

নেই সেই চিরচেনা টুং টাং শব্দ, ঈদ আসলেও হতাশায় চলছে কামারদের জীবন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১
  • ৪৬ সময় দেখুন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: কোরবানির ঈদ আসলে পশু ক্রয় ও দা-ছুরি বানানোর ধুম পড়ে যায়। সারা বছর খুব একটা কাজের চাপ না থাকলেও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কামারদেরকর্ম ব্যস্ততা ও আয় বেড়ে যায় কয়েকগুন। সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত টুং টাং শব্দে মুখরিত হত কামারপাড়া এখন আর নেই সেই চিরচেনা টুং টাং শব্দ।

আগুনের তাপে শরীর থেকে অবিরাম ঘাম ঝড়া, সেইসাথে দিন-রাঁত সমানতালে কাজ করার দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না। করোনা মহামারী আর লকডাউনে সবকিছু যেন থমকে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লকডাউনের কারণে তেমন কাজ ও বেচাকেনা না থাকায় বেকার সময় পার করছে ঝিনাইদহের কামারেরা। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। আগের মতো ব্যবসা না থাকায় অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবন পার করছে তারা।

শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ী, খুলুমবাড়ী, হাটফাজিলপুর, গাড়াগঞ্জ, ভাটই, শেখপাড়া, নাগিরাট, রয়েড়া, শেখড়া, কচুয়া, শেখপাড়া বাজার ও শৈলকুপা থানা সদর সহ ছোট-বড় সব বাজারগুলো ঘুরে কামারদের এই দৈন্যদশা চোখে পড়ে। কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য দা, কাচি কেনার জন্য আবার কেউ কেউ কাচি ধার দেওয়ার জন্য বাজারে ঘুরছে।

লক ডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় কামারদের আয় যেমন কমেছে তেমনি আবার সাধারণ মানুষের দূর্ভোগও বেড়েছে। ঈদের ১/২ মাস আগ থেকে দা, কুড়াল, বটি, ছুরি, চাকুসহ ধারালো সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসত কামারেরা। সাধারণ মানুষেরা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করত। কেউবা অর্ডারকৃত আবার কেউবা নিজে লোহা দিয়ে ধারালো ব্যবহার সমগ্রী তৈরি করত। কিন্তু লকডাউনে এখন সবকিছু বন্ধের পথে।

উপজেলার কচুয়া বাজারের অনিল কামার বলেন, বর্তমান করোনাকালীন সময়ে কাজ কম থাকায় জীবিকা নির্বাহে আমাদের বেশ কষ্ট পেতে হচ্ছে। শুধু পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এ পেশাটিকে এখনো আঁকড়ে ধরে আছি। এবারের ঈদে তেমন কোন কাজ নেই তাই অলস সময় পার করছি। সরকারি কোন সাহায্য এখনো মেলেনি বলেও জানান তিনি।

শৈলকুপা সদরের কবিরপুর এলাকার নারায়ন চন্দ্র কর্মকার জানান, সারা বছর আমরা চেয়ে থাকি কোরবানির ঈদের দিকে তবে এবার করোনা ও লকডাউনের কারণে ঈদে কোরবানীর পশুর বাজার বন্ধ আছে, তাই পশু জবাইয়ের বিভিন্ন অস্ত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় তেমন কোন আয় হচ্ছে না।

শেখ ইমন/ইবিটাইমস /এম আর/আরএন

জনপ্রিয়

ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

নেই সেই চিরচেনা টুং টাং শব্দ, ঈদ আসলেও হতাশায় চলছে কামারদের জীবন

আপডেটের সময় ০৫:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুলাই ২০২১

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: কোরবানির ঈদ আসলে পশু ক্রয় ও দা-ছুরি বানানোর ধুম পড়ে যায়। সারা বছর খুব একটা কাজের চাপ না থাকলেও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কামারদেরকর্ম ব্যস্ততা ও আয় বেড়ে যায় কয়েকগুন। সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত টুং টাং শব্দে মুখরিত হত কামারপাড়া এখন আর নেই সেই চিরচেনা টুং টাং শব্দ।

আগুনের তাপে শরীর থেকে অবিরাম ঘাম ঝড়া, সেইসাথে দিন-রাঁত সমানতালে কাজ করার দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না। করোনা মহামারী আর লকডাউনে সবকিছু যেন থমকে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লকডাউনের কারণে তেমন কাজ ও বেচাকেনা না থাকায় বেকার সময় পার করছে ঝিনাইদহের কামারেরা। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। আগের মতো ব্যবসা না থাকায় অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবন পার করছে তারা।

শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ী, খুলুমবাড়ী, হাটফাজিলপুর, গাড়াগঞ্জ, ভাটই, শেখপাড়া, নাগিরাট, রয়েড়া, শেখড়া, কচুয়া, শেখপাড়া বাজার ও শৈলকুপা থানা সদর সহ ছোট-বড় সব বাজারগুলো ঘুরে কামারদের এই দৈন্যদশা চোখে পড়ে। কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য দা, কাচি কেনার জন্য আবার কেউ কেউ কাচি ধার দেওয়ার জন্য বাজারে ঘুরছে।

লক ডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় কামারদের আয় যেমন কমেছে তেমনি আবার সাধারণ মানুষের দূর্ভোগও বেড়েছে। ঈদের ১/২ মাস আগ থেকে দা, কুড়াল, বটি, ছুরি, চাকুসহ ধারালো সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসত কামারেরা। সাধারণ মানুষেরা ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করত। কেউবা অর্ডারকৃত আবার কেউবা নিজে লোহা দিয়ে ধারালো ব্যবহার সমগ্রী তৈরি করত। কিন্তু লকডাউনে এখন সবকিছু বন্ধের পথে।

উপজেলার কচুয়া বাজারের অনিল কামার বলেন, বর্তমান করোনাকালীন সময়ে কাজ কম থাকায় জীবিকা নির্বাহে আমাদের বেশ কষ্ট পেতে হচ্ছে। শুধু পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এ পেশাটিকে এখনো আঁকড়ে ধরে আছি। এবারের ঈদে তেমন কোন কাজ নেই তাই অলস সময় পার করছি। সরকারি কোন সাহায্য এখনো মেলেনি বলেও জানান তিনি।

শৈলকুপা সদরের কবিরপুর এলাকার নারায়ন চন্দ্র কর্মকার জানান, সারা বছর আমরা চেয়ে থাকি কোরবানির ঈদের দিকে তবে এবার করোনা ও লকডাউনের কারণে ঈদে কোরবানীর পশুর বাজার বন্ধ আছে, তাই পশু জবাইয়ের বিভিন্ন অস্ত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় তেমন কোন আয় হচ্ছে না।

শেখ ইমন/ইবিটাইমস /এম আর/আরএন