ভিয়েনা ১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে মসজিদের টাকা নয়ছয়, ধর্মমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৫৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৭ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী লালমোহন উত্তর বাজার বাইতুর রেজওয়ান জামে মসজিদের কার্যনির্বাহী কমিটির অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ লোপাট এর সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য ধর্মমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন মুসল্লিদের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক মুসল্লি।

অভিযোগে বর্তমান সভাপতি এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজের সুবিধার্থে স্বজনবান্ধব লোকদের নিয়ে ২০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. মিজানুর রহমানকে বেছে নেন তিনি।

অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর একের পর এক অর্থ কেলেংকারি, মসজিদের স্টাফ ও মুসল্লিদের সাথে অসাদাচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছেন। এছাড়াও মসজিদের কক্ষ দখল করে নিজে ব্যবহার করছেন। ওই কক্ষে বসে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

যার মধ্যে রয়েছে, নির্মিত দান বাক্সের অতিরিক্ত ইট কর্তৃপক্ষের কাউকে না জানিয়ে নিজের বাসার কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া, মসজিদের বিভিন্ন মালামাল, রমজানের ইফতার, পাইপ দিয়ে মসজিদের পানি, বিভিন্ন বাজার থেকে আসা দান বাক্সের টাকা আত্নসাত করার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, মসজিদের রিপেয়ারিং, অহেতুক কার্পেট ক্রয়, মসজিদে রং, গ্রিজার ক্রয়, ছাদ বাগানসহ প্রায় ৬ লাখ টাকা বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করার অভিযোগ রয়েছে এই মিজানের বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, মসজিদের খাদেম/ স্টাফদের দিয়ে নিজ বাসার বিছানা চাদরসহ কাপড়চোপড় ধোয়া, বাসার ময়লা আবর্জনা অপসারণ করানো, সকাল বিকাল হোটেল থেকে নিজের জন্য নাস্তা আনানো এবং ওই সকল খাদেম/স্টাফদেরকে দিয়ে নিজের পা ধরানো এবং বডি মেসেজে কোন গাফলতি করলে তাদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার ও চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়ার হুমকি প্রদান।

শুক্রবারে মসজিদে আসা তবারকের ফিন্নি মুসল্লিদেরকে দেয়ার আগে বিভিন্ন পাত্রে করে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মসজিদের সেক্রেটারির এ ধরনের হীন মনমানসিকতার বিষয়টি নিয়ে সমজিদের দায়মী মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর মসজিদটির নতুন কমিটি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে মসজিদের মুসল্লি ও এলাকাবাসীর পক্ষে আবুল কালাম নামের এক মুসল্লি লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ওই অভিযোগে মসজিদের তিনজন মুসল্লির লিখিত স্বাক্ষরসহ এমন ডকুমেন্ট প্রাতিবেদকের হাতে রয়েছে।

বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ আব্দুল জলিলের নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদগুলো চলা উচিত শরিয়তের দৃষ্টিতে কিন্তু বর্তমানে মসজিদগুলো চলছে রাজনৈতিক বিবেচনায়।

এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সত্য নয়। তবে মসজিদের কাজে যে সকল অর্থ ব্যায় করা হয়েছে মসজিদ কমিটির রেজুলেশন করে ওই সকল টাকায় মালামাল ক্রয় করা হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান, লালমোহন উত্তর বাজার বাইতুর রেজওয়ান মসজিদের খরচের ব্যাপারে কমিটির সদস্যদের রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং যথাযথ ভাউচার গ্রহণ করা হয়। এখানে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সবকিছু করা হয়। কোন সদস্য ইচ্ছা করলেই মনমতো কিছু করতে পারে না। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর মসজিদের টাকা জমার পরিমান বেড়েছে। সমজিদের সব টাকা আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে জমা করা হয়।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে মসজিদের টাকা নয়ছয়, ধর্মমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ

আপডেটের সময় ১২:৫৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী লালমোহন উত্তর বাজার বাইতুর রেজওয়ান জামে মসজিদের কার্যনির্বাহী কমিটির অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ লোপাট এর সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য ধর্মমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন মুসল্লিদের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক মুসল্লি।

অভিযোগে বর্তমান সভাপতি এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজের সুবিধার্থে স্বজনবান্ধব লোকদের নিয়ে ২০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. মিজানুর রহমানকে বেছে নেন তিনি।

অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, মিজানুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর একের পর এক অর্থ কেলেংকারি, মসজিদের স্টাফ ও মুসল্লিদের সাথে অসাদাচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছেন। এছাড়াও মসজিদের কক্ষ দখল করে নিজে ব্যবহার করছেন। ওই কক্ষে বসে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

যার মধ্যে রয়েছে, নির্মিত দান বাক্সের অতিরিক্ত ইট কর্তৃপক্ষের কাউকে না জানিয়ে নিজের বাসার কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া, মসজিদের বিভিন্ন মালামাল, রমজানের ইফতার, পাইপ দিয়ে মসজিদের পানি, বিভিন্ন বাজার থেকে আসা দান বাক্সের টাকা আত্নসাত করার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, মসজিদের রিপেয়ারিং, অহেতুক কার্পেট ক্রয়, মসজিদে রং, গ্রিজার ক্রয়, ছাদ বাগানসহ প্রায় ৬ লাখ টাকা বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করার অভিযোগ রয়েছে এই মিজানের বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, মসজিদের খাদেম/ স্টাফদের দিয়ে নিজ বাসার বিছানা চাদরসহ কাপড়চোপড় ধোয়া, বাসার ময়লা আবর্জনা অপসারণ করানো, সকাল বিকাল হোটেল থেকে নিজের জন্য নাস্তা আনানো এবং ওই সকল খাদেম/স্টাফদেরকে দিয়ে নিজের পা ধরানো এবং বডি মেসেজে কোন গাফলতি করলে তাদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার ও চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়ার হুমকি প্রদান।

শুক্রবারে মসজিদে আসা তবারকের ফিন্নি মুসল্লিদেরকে দেয়ার আগে বিভিন্ন পাত্রে করে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মসজিদের সেক্রেটারির এ ধরনের হীন মনমানসিকতার বিষয়টি নিয়ে সমজিদের দায়মী মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর মসজিদটির নতুন কমিটি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে মসজিদের মুসল্লি ও এলাকাবাসীর পক্ষে আবুল কালাম নামের এক মুসল্লি লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ওই অভিযোগে মসজিদের তিনজন মুসল্লির লিখিত স্বাক্ষরসহ এমন ডকুমেন্ট প্রাতিবেদকের হাতে রয়েছে।

বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ আব্দুল জলিলের নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদগুলো চলা উচিত শরিয়তের দৃষ্টিতে কিন্তু বর্তমানে মসজিদগুলো চলছে রাজনৈতিক বিবেচনায়।

এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সত্য নয়। তবে মসজিদের কাজে যে সকল অর্থ ব্যায় করা হয়েছে মসজিদ কমিটির রেজুলেশন করে ওই সকল টাকায় মালামাল ক্রয় করা হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান, লালমোহন উত্তর বাজার বাইতুর রেজওয়ান মসজিদের খরচের ব্যাপারে কমিটির সদস্যদের রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং যথাযথ ভাউচার গ্রহণ করা হয়। এখানে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সবকিছু করা হয়। কোন সদস্য ইচ্ছা করলেই মনমতো কিছু করতে পারে না। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর মসজিদের টাকা জমার পরিমান বেড়েছে। সমজিদের সব টাকা আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে জমা করা হয়।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস