ভিয়েনা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে জমি বিরোধের জের ধরে ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ আরাফি ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য নির্বাচিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা : লালমোহনে কর্মহীন প্রায় ২৭ হাজার জেলে লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ ! টাঙ্গাইলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আমতলা–বৈল্যা সড়কের উদ্বোধন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবেলায় সংবেদনশীলতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত মাটিবোঝাই ট্রাক ঢুকে গেলো বসতঘরে,  নিহত ১ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে বিদেশে রপ্তানি করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: টুকু

লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ !

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:৫৭:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ৪১ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : নাম তার ঢোল কলমি। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে বেদমা গাছ, অনেকে আবার বেড়াগাছ বা বেড়ালতাও বলে। একসময় ভোলার লালমোহনের প্রায় সকল রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলের ধারে সর্বত্রই একসময় চোখে পড়ত এ গাছিটি। গ্রামে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি। ঢোল কলমি গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এই গাছটি এখন লালমোহনে বিলুপ্তির পথে।

অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি বা বেদমা গাছের ফুল যেকোন বয়েসি মানুষের নজর কাড়বে। পাঁচটি হালকা বেগুনি পাপড়ির ফুল দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। একটি মঞ্জরিতে চার থেকে আটটি ফুল থাকে।

এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়। এ গাছ জমির ক্ষয়রোধ করে ও সুন্দর ফুল দেয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। নদীর তীরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোল কলমি জন্মে পাখির বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। ফুলের মধু সংগ্রহ করতে কালো ভোমরার আনাগোনা দেখা যায়। গ্রামের শিশুরা ঢোলকলমির ফুল দিয়ে খেলা করে।

৯০ দশকের দিকে পোকার ভয়ে এ গাছ ধ্বংস করার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। দেশজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ঢোলকলমি গাছে থাকা একধরনের পোকা। গুজব রটে যায়, এই পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এরপর আতঙ্কে সকলে দিলে গণহারে ঢোলকলমি গাছ কেটে সাবার করেছিল। এখনো গ্রামাঞ্চলে কিছু ঢোল কলমি দেখা যায়।

লালমোহন উপজেলার চরভূতা ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কয়েকজন বৃদ্ধ জামান (৭৫), ইউসুফ (৬০), হাসান (৫৫) বলেন, ডোল কলমি গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। এই গাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের এ অঞ্চলের প্রায় মানুষই নতুন বাড়ী করলে এই বন্য গাছটি লাগাতো। এই গাছ গরু ছাগলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং বাড়ির বেড়া হিসেবে চারপাশে চারপাশে লাগানো হতো। কোন রকম যত্ন ছাড়াই এই গাছ বেড়ে উঠত। এই গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

লালমোহনে জমি বিরোধের জের ধরে ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে বিলুপ্তির পথে দৃষ্টিনন্দন ঢোল কলমি গাছ !

আপডেটের সময় ১১:৫৭:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : নাম তার ঢোল কলমি। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে বেদমা গাছ, অনেকে আবার বেড়াগাছ বা বেড়ালতাও বলে। একসময় ভোলার লালমোহনের প্রায় সকল রাস্তার ধারে, বাড়ির পাশে, মাঠে-ঘাটে, জলাশয়ের ধারে, খাল-বিলের ধারে সর্বত্রই একসময় চোখে পড়ত এ গাছিটি। গ্রামে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা হিসেবে পরিচিত বেড়ালতা বা ঢোল কলমি। ঢোল কলমি গুল্ম প্রজাতির উদ্ভিদ। এর কান্ড দিয়ে কাগজ তৈরি করা যায়। সবুজ পাতার গাছটি ছয় থেকে দশ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এই গাছটি এখন লালমোহনে বিলুপ্তির পথে।

অযত্নে অবহেলায় জন্ম নেয়া ঢোলকলমি বা বেদমা গাছের ফুল যেকোন বয়েসি মানুষের নজর কাড়বে। পাঁচটি হালকা বেগুনি পাপড়ির ফুল দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। সারা বছরই ঢোল কলমির ফুল ফোটে। তবে বর্ষার শেষে শরৎ থেকে শীতে ঢোলকলমি ফুল বেশি দেখা যায়। একটি মঞ্জরিতে চার থেকে আটটি ফুল থাকে।

এ গাছ অল্পদিনের মধ্যেই ঘন ঝাড়ে পরিণত হয়। এ গাছ জমির ক্ষয়রোধ করে ও সুন্দর ফুল দেয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই গাছ জমির বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। নদীর তীরে কিংবা বিশাল ফসলের মাঠে ঢোল কলমি জন্মে পাখির বসার জায়গা করে দেয়। এ গাছে বসে পাখি পোকামাকড় খায়। ফুলের মধু সংগ্রহ করতে কালো ভোমরার আনাগোনা দেখা যায়। গ্রামের শিশুরা ঢোলকলমির ফুল দিয়ে খেলা করে।

৯০ দশকের দিকে পোকার ভয়ে এ গাছ ধ্বংস করার একটা হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। দেশজুড়ে ভয়ংকর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ঢোলকলমি গাছে থাকা একধরনের পোকা। গুজব রটে যায়, এই পোকা এতটাই ভয়ংকর যে, কামড় দিলে মৃত্যু অবধারিত, এমন কি স্পর্শ লাগলেও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এরপর আতঙ্কে সকলে দিলে গণহারে ঢোলকলমি গাছ কেটে সাবার করেছিল। এখনো গ্রামাঞ্চলে কিছু ঢোল কলমি দেখা যায়।

লালমোহন উপজেলার চরভূতা ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কয়েকজন বৃদ্ধ জামান (৭৫), ইউসুফ (৬০), হাসান (৫৫) বলেন, ডোল কলমি গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। এই গাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল গরু ছাগলে না খাওয়ায় এটা বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমাদের এ অঞ্চলের প্রায় মানুষই নতুন বাড়ী করলে এই বন্য গাছটি লাগাতো। এই গাছ গরু ছাগলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং বাড়ির বেড়া হিসেবে চারপাশে চারপাশে লাগানো হতো। কোন রকম যত্ন ছাড়াই এই গাছ বেড়ে উঠত। এই গাছটি এখন বিলুপ্তির পথে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস