ভিয়েনা ১০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৬:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮০ সময় দেখুন

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে

ইউরোপ ডেস্কঃ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ লেবার পার্টির সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দলের ভেতরেই স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এর পেছনের মূল কারণ হলো পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।

ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। এই কেলেঙ্কারির জেরে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি রোববার পদত্যাগ করেছেন।

ব্লুমবার্গ আরো জানায়, লেবার পার্টির অনেক এমপি অবাক হয়েছেন যে স্টারমার এখনও প্রধানমন্ত্রীর পদে আছেন, কারণ ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছিলেন তিনিই।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা গোপনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্টারমারকে পদত্যাগে রাজি করানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। কেউ কেউ এমনকি নিজেদের পদত্যাগের হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদায় ত্বরান্বিত করার কথাও ভাবছেন। এক মন্ত্রীর উপদেষ্টার মতে, আগামী সপ্তাহেই স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ’।

নিজের অবস্থান ধরে রাখতে স্টারমার তার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে আবার সরকারে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিতে পারেন বলে জানা গেছে। রেইনার গত সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ইংল্যান্ডে একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি না দেওয়ার অভিযোগে মন্ত্রিসভা ছেড়েছিলেন।

পাশাপাশি, জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এর আগে স্টারমারের পদত্যাগ হলে রেইনার ও মিলিব্যান্ড—দুজনকেই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

এছাড়া ব্রিটিশ গণমাধ্যম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং তার উপমন্ত্রী অ্যালিস্টার কার্নস।

তবে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ মানেই যে নতুন সাধারণ নির্বাচন হবে, এমন নয়; বরং লেবার পার্টি দলীয় ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করতে পারে, যিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।

উল্লেখ্য যে,২০২২ সালে কনজারভেটিভ পার্টিও একইভাবে এক বছরের মধ্যে দুইবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করেছিল—বরিস জনসন ও লিজ ট্রাসের পর।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর 

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

আপডেটের সময় ০৬:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে

ইউরোপ ডেস্কঃ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ লেবার পার্টির সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দলের ভেতরেই স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এর পেছনের মূল কারণ হলো পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।

ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। এই কেলেঙ্কারির জেরে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি রোববার পদত্যাগ করেছেন।

ব্লুমবার্গ আরো জানায়, লেবার পার্টির অনেক এমপি অবাক হয়েছেন যে স্টারমার এখনও প্রধানমন্ত্রীর পদে আছেন, কারণ ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছিলেন তিনিই।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা গোপনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্টারমারকে পদত্যাগে রাজি করানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। কেউ কেউ এমনকি নিজেদের পদত্যাগের হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদায় ত্বরান্বিত করার কথাও ভাবছেন। এক মন্ত্রীর উপদেষ্টার মতে, আগামী সপ্তাহেই স্টারমারের পদত্যাগের সম্ভাবনা ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ’।

নিজের অবস্থান ধরে রাখতে স্টারমার তার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে আবার সরকারে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিতে পারেন বলে জানা গেছে। রেইনার গত সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ইংল্যান্ডে একটি ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি না দেওয়ার অভিযোগে মন্ত্রিসভা ছেড়েছিলেন।

পাশাপাশি, জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এর আগে স্টারমারের পদত্যাগ হলে রেইনার ও মিলিব্যান্ড—দুজনকেই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

এছাড়া ব্রিটিশ গণমাধ্যম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং তার উপমন্ত্রী অ্যালিস্টার কার্নস।

তবে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ মানেই যে নতুন সাধারণ নির্বাচন হবে, এমন নয়; বরং লেবার পার্টি দলীয় ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করতে পারে, যিনি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।

উল্লেখ্য যে,২০২২ সালে কনজারভেটিভ পার্টিও একইভাবে এক বছরের মধ্যে দুইবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করেছিল—বরিস জনসন ও লিজ ট্রাসের পর।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর