ভিয়েনা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব চরফ্যাশনে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে কৃষকদলের নির্বাচনী কর্মী সমাবেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লালমোহনে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৮ দেশের কূটনীতিকের অংশগ্রহণ করেছেন হবিগঞ্জে তরমুজের নিচে লুকিয়ে পাচারকালে ১৬ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ শিবির-জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিতে কুশপুতুল দাহ ও জুতা মিছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: আনোয়ারুল ইসলাম লালমোহন-তজুমুদ্দিনে কাউকে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেয়া হবে না : হাফিজ

গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০১:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক :ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার।

আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাস গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করেছে। তারপরও বারবার মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।

প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এ সময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

শফিকুল আলমের ভাষ্য, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি গভীর অর্থবোধক—সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।

প্রেস সচিব অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই ফেসবুক পোস্টকেই সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।

সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তাঁর অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করে।

এর আগে মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, তখনও ভুল এবং অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। সে সময় একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে নয় ঘণ্টার বেশি আটকে রাখে এবং আরেকটি গ্রুপ সচিবালয়ে ভাঙচুর চালায়। তাঁর মতে, ‘গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দিতে যাচ্ছিল।’

সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।
ঢাতা/এসএস

Tag :
জনপ্রিয়

গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেস সচিব

আপডেটের সময় ০১:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক :ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার।

আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাস গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করেছে। তারপরও বারবার মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।

প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এ সময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

শফিকুল আলমের ভাষ্য, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি গভীর অর্থবোধক—সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।

প্রেস সচিব অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই ফেসবুক পোস্টকেই সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।

সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তাঁর অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করে।

এর আগে মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, তখনও ভুল এবং অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। সে সময় একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে নয় ঘণ্টার বেশি আটকে রাখে এবং আরেকটি গ্রুপ সচিবালয়ে ভাঙচুর চালায়। তাঁর মতে, ‘গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দিতে যাচ্ছিল।’

সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।
ঢাতা/এসএস