ভিয়েনা ১২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদ ছুটিতেও চলছে লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০২:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ৬৩ সময় দেখুন

লালমোহন ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে গত ২৯মার্চ থেকে আগামী ৫এপ্রিল পর্যন্ত ৮ দিনের সরকারি ছুটি পেয়ে সবাই যখন ছুটি কাটাতে ব্যস্ত, তখনও প্রসূতি মায়েদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্তব্যরতরা।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, ঈদ উল ফিতরের ৮ দিনের ছুটির মধ্যে গত ছয় দিনে (২৯ মার্চ-৩এপ্রিল) ৩০টি সফল ডেলিভারি সম্পন্ন করা হয়েছে।

চাঁদ রাত (৩০ মার্চ) রাত পৌনে ১২ টার দিকে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতানী গ্রাম থেকে স্বপ্না নামে এক প্রসূতি মাকে নিয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন তার স্বজনরা। ঈদের দিন ভোরে সন্তান প্রসব তিনি।

স্বপ্নার স্বজনেরা জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকরি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তার নার্স পাবোনা ভেবে খুবই চিন্তিত ছিলাম। তবে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খোলা পেয়ে চিন্তা মুক্ত হয়েছি।একইদিন সাতানী গ্রাম থেকে আসেন সোমা (২০) নামে আরেক প্রসূতি মা।

ঈদের দিন (৩১ মার্চ) সকাল সোয়া ৭টায় উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের রায়রাবাদ গ্রাম থেকে নাহিদা (২২) নামে প্রসূতি মাকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা। এদিন দুপুরে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড ওয়েস্টার্ন পাড়া থেকে ঝর্ণা (৩০) নামে আরেক প্রসূতি মাকে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা।
ঈদের দিনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খোলা ও সেবা পেয়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন তারা।
তারা জানান, ঈদের দিনে সবাই ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা। এমন সময় চিকিৎসা সেবা পাবো কীনা, সন্দেহ ছিলো। কিন্তু লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খোলা যাওয়ায় দুশ্চিন্তা মুক্ত হলাম।

লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) মিরা রানী দাস জানান, গত ২৯ মার্চ ৮টি, ৩০ মার্চ ৬টি, ৩১ মার্চ ৩টি, ১ এপ্রিল ৮টি, ২ এপ্রিল ১টি ও ৩ এপ্রিল ৪টি সফল ডেলিভারি সম্পন্ন করেছেন তারা।

ভোলা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, তাদের (লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র) কাজ প্রশংসনীয়, তারা ভালো কাজ করে। জনবল সংকট নিয়ে তিনি বলেন, সারা ভোলাতেই এ সংকটটা বিদ্যমান। সারা বাংলাদেশে কর্মী হলেও ভোলাতেই কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটিতে মেডিকেল অফিসার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই দীর্ঘদিন ধরে। এরমধ্যেও প্রসূতি মায়েদের সেবায় কর্তব্যরতদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতনমহল। একইসঙ্গে লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে জনবল বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ঈদ ছুটিতেও চলছে লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম

আপডেটের সময় ০২:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

লালমোহন ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে গত ২৯মার্চ থেকে আগামী ৫এপ্রিল পর্যন্ত ৮ দিনের সরকারি ছুটি পেয়ে সবাই যখন ছুটি কাটাতে ব্যস্ত, তখনও প্রসূতি মায়েদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্তব্যরতরা।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, ঈদ উল ফিতরের ৮ দিনের ছুটির মধ্যে গত ছয় দিনে (২৯ মার্চ-৩এপ্রিল) ৩০টি সফল ডেলিভারি সম্পন্ন করা হয়েছে।

চাঁদ রাত (৩০ মার্চ) রাত পৌনে ১২ টার দিকে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাতানী গ্রাম থেকে স্বপ্না নামে এক প্রসূতি মাকে নিয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন তার স্বজনরা। ঈদের দিন ভোরে সন্তান প্রসব তিনি।

স্বপ্নার স্বজনেরা জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকরি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তার নার্স পাবোনা ভেবে খুবই চিন্তিত ছিলাম। তবে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খোলা পেয়ে চিন্তা মুক্ত হয়েছি।একইদিন সাতানী গ্রাম থেকে আসেন সোমা (২০) নামে আরেক প্রসূতি মা।

ঈদের দিন (৩১ মার্চ) সকাল সোয়া ৭টায় উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের রায়রাবাদ গ্রাম থেকে নাহিদা (২২) নামে প্রসূতি মাকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা। এদিন দুপুরে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড ওয়েস্টার্ন পাড়া থেকে ঝর্ণা (৩০) নামে আরেক প্রসূতি মাকে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা।
ঈদের দিনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খোলা ও সেবা পেয়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন তারা।
তারা জানান, ঈদের দিনে সবাই ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা। এমন সময় চিকিৎসা সেবা পাবো কীনা, সন্দেহ ছিলো। কিন্তু লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খোলা যাওয়ায় দুশ্চিন্তা মুক্ত হলাম।

লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) মিরা রানী দাস জানান, গত ২৯ মার্চ ৮টি, ৩০ মার্চ ৬টি, ৩১ মার্চ ৩টি, ১ এপ্রিল ৮টি, ২ এপ্রিল ১টি ও ৩ এপ্রিল ৪টি সফল ডেলিভারি সম্পন্ন করেছেন তারা।

ভোলা জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, তাদের (লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র) কাজ প্রশংসনীয়, তারা ভালো কাজ করে। জনবল সংকট নিয়ে তিনি বলেন, সারা ভোলাতেই এ সংকটটা বিদ্যমান। সারা বাংলাদেশে কর্মী হলেও ভোলাতেই কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটিতে মেডিকেল অফিসার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই দীর্ঘদিন ধরে। এরমধ্যেও প্রসূতি মায়েদের সেবায় কর্তব্যরতদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতনমহল। একইসঙ্গে লালমোহন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে জনবল বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস