ঝালকাঠি জেলায় এবছর বোরো আবাদ বেড়েছে, আবাদ কর্তন শুরু

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি জেলায় এবছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ৭০০ হেক্টরে বোরো আবাদ বেশি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে বোরো কর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এবছর উচ্চ ফলনশীল জাতের ১৩ হাজার ৭৭৫ হেক্টরে এবং ২ হাজার ২৫০ হেক্টরে হাইব্রীড জাতের বোরো আবাদসহ ১৬ হাজার হেক্টরে আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ দাবী করেছেন এবছর আবাদ বেশি হওয়ার ক্ষেত্রে জেলায় ১২ হাজার কৃষককে ১২ বিঘা চাষের জন্য সার ও বীজসহ প্রনোদনা সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং প্রদর্শণীয় দেয়া হয়েছে। জেলায় উন্নত জাত ও আধুনিক টেকশই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উৎসাহ ও পরামর্শ প্রদান করেছেন এবং প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এরফলে আবাদ বেড়েছে। এবছর আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় কৃষকদের বোরো ধান সংগ্রহ, মাড়াই ও শুকানো সহজেই সম্ভভ হয়েছে এবং বোরো চাষ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাজারমূল্য অনূকুলে রয়েছে। কৃষকদের বায়োমেটিক ৪৫০ জিংক সমৃদ্ধ বিশেষ করে ব্রী-৭৪ ও বঙ্গবন্ধু-১০০ জাতের আবাদ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে করে পুষ্টি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নতি হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে প্রাকৃতিক অবস্থানজনিত কারণে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা প্রধানত বোরো প্রধান এলাকা এবং রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলায় মাত্র ৭৪৫ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল ও ২৯৫ হেক্টরে হাইব্রীডসহ ১ হাজার ৪১ হেক্টরে বোরো আবাদ হয়েছে। ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় ৬ হাজার ১৭৯ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল জাত এবং নলছিটি উপজেলায় ৬ হাজার ৫৪১ হেক্টরে, রাজাপুর উপজেলায় ৩৩০ হেক্টরে এবং কাঠালিয়া উপজেলায় ৩০০ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ হয়েছে। সদর উপজেলায় ৮৮৩ হেক্টরে হাইব্রীড, নলছিটি উপজেলা ৮৮৯ হেক্টরে, রাজাপুর উপজেলায় ১৩০ হেক্টরে ও কাঠালিয়ায় ১৪৮ হেক্টরে হাইব্রীড জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। এবছর কর্তন থেকে উচ্চ ফলনশীল জাত চাল আকারে হেক্টর প্রতি ৪.১ মেট্রিক টন এবং হাইব্রীড থেকে ৫.২১ মেট্রিক টন চালের উৎপাদন থেকে কৃষি বিভাগ আশা করছে জেলায় এবছর ৫৯ হাজার মেট্রিক টন চালের উৎপাদন হবে। বর্তমান সময়ে প্রচন্ড তাপদাহের কারণে বিলম্বে রোপন করা ধানের উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

কর্তন শুরু হওয়ার পর প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ধান কর্তনে শ্রমিক সংকট রয়েছে তবে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে ধানের কর্তন করা হচ্ছে। এই জেলায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য বিভিন্ন ধরণের মেশিন কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করেছে। বোরো ধানের কর্তন বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরা দাবি করেছে ধানের বাজার মূল্য কমতে শুরু করেছে এবং এক শ্রেণির ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কেনার পায়তারা করছে। প্রচন্ড রোদ থাকায় এবছর বোরো চাষের বিগত বছরের চেয়ে দ্বিগুন পরিমাণ কৃষকদের সেচ খরচে ব্যয় করতে হয়েছে।

বাধন রায়/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »