ভিয়েনা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ঈদুল আজহা দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঈদে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি নেই: র‌্যাব মহাপরিচালক সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত হবিগঞ্জে RAB এর অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিচারকরা সম্পূর্ণ স্বাধীন, যে কারণে তারা গ্রেফতারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন: আইনমন্ত্রী ঢাকা- টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার ধীরগতি আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি সরকার পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করতে চাইছে: ঝিনাইদহে হাসনাত আবদুল্লাহ

অস্ট্রিয়ায় মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান কঠিন, ÖVP দলের ইনস্টাগ্রামের পোস্ট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ শরীক দলের

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৩৫ সময় দেখুন

অস্ট্রিয়ায় মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান কঠিন,
ÖVP দলের ইনস্টাগ্রামের পোস্ট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
প্রকাশ শরীক দলের

মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান সম্পর্কে পিপলস পার্টির (ÖVP) সাম্প্রতিক একটি পোস্ট ব্যাপক সমালোচনার
সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় গণমাধ্যম
ক্রোনেন জাইতুং (Kronen Zeitung) জানায়,
অস্ট্রিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টিগ্রেশন ব্যারোমিটার অস্ট্রিয়ানদের ওপর পরিচালিত এক
পরিসংখ্যান গবেষণার ফলাফল অনুসারে জানায়, মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান এতটা আশাব্যঞ্জক নয়।

প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল অস্ট্রিয়ার তিন দলীয় কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ দল
অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির (ÖVP) ইনস্টাগ্রামে পোস্ট
করার পর জোটের শরিকরা হতবাক হয়েছেন এবং
তীব্র সমালোচনা করেছেন।

গণমাধ্যমটি আরও জানায় ইন্টিগ্রেশন ফান্ড কর্তৃক কমিশন করা ইন্টিগ্রেশন ব্যারোমিটারের ফলাফল উপস্থাপনের পর পিপলস পার্টির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্টটি বেশ কয়েকদিন আগে প্রকাশিত হয়েছিল। কালো পটভূমিতে বড় অক্ষরে লেখা ছিল: “আপনি কি জানেন যে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মুসলিমদের সাথে সহাবস্থানকে কঠিন বলে মনে করেন?”

সোমবার সকালে কার্নার Ö1 “মরগেনজার্নাল” রেডিও অনুষ্ঠানে বলেন যে বিবৃতিটি একটি “নামকরা প্রতিষ্ঠান” দ্বারা পরিচালিত একটি “বৈজ্ঞানিক গবেষণা” থেকে এসেছে। অধিকন্তু, কার্নার যুক্তি দিয়েছিলেন যে, এটি একটি “সত্য” যে অস্ট্রিয়ান এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থানে “সর্বদা আলোচনা” হয়: “এটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমালোচনা নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল।”

এদিকে পিপলস পার্টির (ÖVP) সাধারণ সম্পাদক নিকো মার্চেটি একটি সংবাদ সম্মেলনের ফাঁকে জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি ব্যারোমিটারের ফলাফলগুলিকে “একেবারে বৈধ” বলে মনে করেন এবং তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সেগুলি নিশ্চিত করতে পারেন।

রাজনীতিবিদদের “নৈতিকভাবে ক্ষুব্ধ হওয়ার পরিবর্তে অভিবাসন এবং একীকরণ সম্পর্কে জনসংখ্যার অনুভূতিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত,” সাধারণ সম্পাদক আবেদন করেছেন।

জোটের অংশীদার SPÖ এবং NEOS এর তীব্র সমালোচনা:

পিপলস পার্টির জোটের অংশীদার, SPÖ এবং NEOSও পোস্টটির সাথে তীব্র বিরোধিতা করেছেন। SPÖ এর অর্থমন্ত্রী মার্কাস মার্টারবাউয়ার পোস্টটির তীব্র সমালোচনা করে বলেন,”দুঃখিত! আমরা
অস্ট্রিয়ানরা এমন নই।”

কোয়ালিশন জোটের আরেক শরিকদল NEOS এর সংসদীয় দলের নেতা ইয়্যানিক শেট্টি পিপলস পার্টিকে আরও জানিয়েছেন: “যে কেউ সমস্ত মুসলিমকে সাধারণ সন্দেহের আওতায় রাখে সে ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজকে বিভক্ত করছে এবং এর মাধ্যমে ডানপন্থী, চরমপন্থী এবং ইসলামপন্থী উভয়কেই উৎসাহিত করছে।” এটি “মৌলিকভাবে ভুল এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত আনাড়ি গবেষণা।”

ঊল্লেখ্য যে,বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত মুসলিম
জনগোষ্ঠির সংখ্যা আট লাখের ওপরে। অস্ট্রিয়ান
মুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তুরস্কের বংশোদ্ভূত।
তারপর যথাক্রমে বসনিয়া,আলবেনিয়া,মেসোডোনিয়া,
চেচনিয়া, মিশর,তিউনিশিয়া,মরোক্কো আলজেরিয়া,
ইরান,ইরাক,পাকিস্তান,আফগানিস্তান ভারত ও বাংলাদেশ সহ আরও একাধিক দেশ থেকে আগত। অস্ট্রিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংখ্যা আনুমানিক
সাড়ে ছয় হাজারের ওপরে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/ভিয়েনা

Tag :
জনপ্রিয়

জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

অস্ট্রিয়ায় মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান কঠিন, ÖVP দলের ইনস্টাগ্রামের পোস্ট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ শরীক দলের

আপডেটের সময় ০৮:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

অস্ট্রিয়ায় মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান কঠিন,
ÖVP দলের ইনস্টাগ্রামের পোস্ট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ
প্রকাশ শরীক দলের

মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান সম্পর্কে পিপলস পার্টির (ÖVP) সাম্প্রতিক একটি পোস্ট ব্যাপক সমালোচনার
সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় গণমাধ্যম
ক্রোনেন জাইতুং (Kronen Zeitung) জানায়,
অস্ট্রিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টিগ্রেশন ব্যারোমিটার অস্ট্রিয়ানদের ওপর পরিচালিত এক
পরিসংখ্যান গবেষণার ফলাফল অনুসারে জানায়, মুসলিমদের সাথে সহাবস্থান এতটা আশাব্যঞ্জক নয়।

প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল অস্ট্রিয়ার তিন দলীয় কোয়ালিশন সরকারের নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ দল
অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির (ÖVP) ইনস্টাগ্রামে পোস্ট
করার পর জোটের শরিকরা হতবাক হয়েছেন এবং
তীব্র সমালোচনা করেছেন।

গণমাধ্যমটি আরও জানায় ইন্টিগ্রেশন ফান্ড কর্তৃক কমিশন করা ইন্টিগ্রেশন ব্যারোমিটারের ফলাফল উপস্থাপনের পর পিপলস পার্টির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্টটি বেশ কয়েকদিন আগে প্রকাশিত হয়েছিল। কালো পটভূমিতে বড় অক্ষরে লেখা ছিল: “আপনি কি জানেন যে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মুসলিমদের সাথে সহাবস্থানকে কঠিন বলে মনে করেন?”

সোমবার সকালে কার্নার Ö1 “মরগেনজার্নাল” রেডিও অনুষ্ঠানে বলেন যে বিবৃতিটি একটি “নামকরা প্রতিষ্ঠান” দ্বারা পরিচালিত একটি “বৈজ্ঞানিক গবেষণা” থেকে এসেছে। অধিকন্তু, কার্নার যুক্তি দিয়েছিলেন যে, এটি একটি “সত্য” যে অস্ট্রিয়ান এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থানে “সর্বদা আলোচনা” হয়: “এটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমালোচনা নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল।”

এদিকে পিপলস পার্টির (ÖVP) সাধারণ সম্পাদক নিকো মার্চেটি একটি সংবাদ সম্মেলনের ফাঁকে জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি ব্যারোমিটারের ফলাফলগুলিকে “একেবারে বৈধ” বলে মনে করেন এবং তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সেগুলি নিশ্চিত করতে পারেন।

রাজনীতিবিদদের “নৈতিকভাবে ক্ষুব্ধ হওয়ার পরিবর্তে অভিবাসন এবং একীকরণ সম্পর্কে জনসংখ্যার অনুভূতিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত,” সাধারণ সম্পাদক আবেদন করেছেন।

জোটের অংশীদার SPÖ এবং NEOS এর তীব্র সমালোচনা:

পিপলস পার্টির জোটের অংশীদার, SPÖ এবং NEOSও পোস্টটির সাথে তীব্র বিরোধিতা করেছেন। SPÖ এর অর্থমন্ত্রী মার্কাস মার্টারবাউয়ার পোস্টটির তীব্র সমালোচনা করে বলেন,”দুঃখিত! আমরা
অস্ট্রিয়ানরা এমন নই।”

কোয়ালিশন জোটের আরেক শরিকদল NEOS এর সংসদীয় দলের নেতা ইয়্যানিক শেট্টি পিপলস পার্টিকে আরও জানিয়েছেন: “যে কেউ সমস্ত মুসলিমকে সাধারণ সন্দেহের আওতায় রাখে সে ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজকে বিভক্ত করছে এবং এর মাধ্যমে ডানপন্থী, চরমপন্থী এবং ইসলামপন্থী উভয়কেই উৎসাহিত করছে।” এটি “মৌলিকভাবে ভুল এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত আনাড়ি গবেষণা।”

ঊল্লেখ্য যে,বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত মুসলিম
জনগোষ্ঠির সংখ্যা আট লাখের ওপরে। অস্ট্রিয়ান
মুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তুরস্কের বংশোদ্ভূত।
তারপর যথাক্রমে বসনিয়া,আলবেনিয়া,মেসোডোনিয়া,
চেচনিয়া, মিশর,তিউনিশিয়া,মরোক্কো আলজেরিয়া,
ইরান,ইরাক,পাকিস্তান,আফগানিস্তান ভারত ও বাংলাদেশ সহ আরও একাধিক দেশ থেকে আগত। অস্ট্রিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংখ্যা আনুমানিক
সাড়ে ছয় হাজারের ওপরে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/ভিয়েনা