ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন,সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ তার যুক্তরাষ্ট্র সফরে আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণের পূর্বে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুয়েতেরেসের সাথেও দেখা করেন।
অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে জানান, অস্ট্রিয়া তার উদ্বৃত্ত করোনার টিকা পশ্চিম বলকান রাস্ট্র সমূহে সরবরাহ করছে। তিনি বলেন ইতিমধ্যেই করোনার প্রতিষেধক টিকার ৬ লাখ ডোজ পশ্চিম বলকান দেশ সমূহে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অস্ট্রিয়ায় মজুদ থাকা আরও ১০ লাখ অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার প্রতিষেধক টিকা পশ্চিম বলকান দেশসমূহে পাঠানো হবে।
সেবাস্তিয়ান কুর্জ আরও বলেন,”একটি বিষয় পরিষ্কার”, আর তা হল আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে এবং একে অপরকে সমর্থন করতে হবে”। “আমাদের একে অপরের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের উদাহরণগুলি ভাগ করতে হবে”।
চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “অস্ট্রিয়া তার প্রতিবেশীদের সাহায্যে বিপদ-আপদে সবসময়ই পাশে থাকতে চেষ্টা করে”।বৈশ্বিক মহামারী করোনায় আমাদের সকলেরই একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে চলতে হবে যাতে আমরা একসাথে এই সংকট থেকে বেঁচে থাকতে পারি এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারি”।
কুর্জ সাধারণ অধিবেশনকে আরও অবহিত করেন যে, অস্ট্রিয়ায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সবকিছু খুলে দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সবকিছু খুলে দেয়ার পর এখন করোনার নতুন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ পুনরায় বিস্তার লাভ করছে। চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ তার ভাষণে আরও বলেন,অস্ট্রিয়ায় করোনার পরে এখন নতুন নতুন ভর্তুকি আসছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণের পর অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান সেবাস্তিয়ান কুর্জ অস্ট্রিয়ান ফ্রি মেট্রোরেল পত্রিকা Heute এর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবের কারনে পুনরায় অস্ট্রিয়ায় মাস্ক বাধ্যতামূলক এবং শরৎকালে অনুমেয়যোগ্য পদক্ষেপগুলি শক্ত করা বা কঠোর বিধিনিষেধ প্রয়োগের কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেন, আমার লক্ষ্য হ’ল মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতার উপর এইসব দখলকাজ অতীতের একটি বিষয়।” এগুলি কেবল একটি “জরুরি অবস্থার শেষ অবলম্বন”। ভবিষ্যতে, কুর্জ ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার উপর নির্ভর করে: “কেবল কোনও কিছু বাধ্যতামূলক নয় এর অর্থ এই নয় যে আপনার এমন করার সুযোগ নেই”।
অস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণ পুনরায় ক্রমশ বৃদ্ধি পেলেও সরকার কোন নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে তিনি সকলকে ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে বলেছেন।কেননা করোনা ভাইরাসটির উপস্থিতি এখনও আমাদের মাঝে বেশ সক্রিয় ও বিপদজনক অবস্থায় আছে।
সেবাস্তিয়ান কুর্জ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলির প্রতিনিধিদের সাথেও তার সাক্ষাতের করার কথা রয়েছে। বিকেলে তিনি নিউইয়র্কে অস্ট্রিয়ান কনসুলেট জেনারেলে হলোকাস্ট বেঁচে থাকা অস্ট্রিয়ান নাগরিকত্বের বংশধরদের সাথে দেখা করবেন এবং সন্ধ্যায় তিনি চায়না টাউনে তার প্রিয় থালা – পিকিং হাঁসের উপর ভোজে অংশগ্রহণ করবেন।
আগামীকাল বুধবার (১৪ জুলাই) তিনি নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গের সাথে “বিগ অ্যাপল” তে একটি বৈঠকে মিলিত হবেন এবং হাই লাইন ধরে হাঁটা সহ লিটল দ্বীপে একটি সফরেও যাবেন। বৃহস্পতিবার চ্যান্সেলর মন্টানায় বিশিষ্ট শিল্পপতিদের এক বৈঠকেও যোগদান করবেন।
আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২১৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৮৩ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে Steiermark রাজ্যে ৩৮ জন, Tirol রাজ্যে ৩০ জন, OÖ রাজ্যে ২২ জন, NÖ রাজ্যে ১৯ জন,Kärnten রাজ্যে ১৬ জন, Salzburg রাজ্যে ৫ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৩ জন এবং Burgenland রাজ্যে ২ জন নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ৩৪,৮০৮ ডোজ এবং এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ৮৬,৫০,০৩৫ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার সম্পূর্ণ টিকা সম্পন্ন করেছেন ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮২৫ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪২,২%।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৫২,০২২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭২৪ জন। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ৬,৩৯,০৩৫ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,২৬৩ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩৯ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১১১ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস