অস্ট্রিয়ায় করোনার টিকাদানে আগ্রহ বেড়েছে, অস্ট্রিয়ানরা টিকাদান কেন্দ্র ও অস্থায়ী বক্সে ভিড় করছে

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সরকার করোনার প্রতিষেধক টিকা ফ্রি এবং বাধ্যতামূলক নয় বলে জানালেও,এমন নিয়ম করছে যে টিকা ছাড়া চলাফেরা করাই যাবে না।

অস্ট্রিয়ান সংবাদ মাধ্যম স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন শনিবার পর্যন্ত, অস্ট্রিয়াতে ৫০,০৫,১২৫ জন মানুষ কমপক্ষে করোনার প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। সামগ্রিকভাবে বলা যায় দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশেরও বেশী মানুষ এখন করোনার টিকা বা ভ্যাকসিন পেয়েছেন।

তাছাড়াও অস্ট্রিয়ার কয়েকটি রাজ্যে রবিবার কোন পূর্ব নিবন্ধন ছাড়াই করোনার টিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা করায়,সে সমস্ত টিকাদান কেন্দ্রে শত শত মানুষের উপচে পড়া ভির লক্ষ্য করা গেছে।

গত বুধবার অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকাদান বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্য তিনি সকলকে করোনার এই ফ্রি প্রতিষেধক টিকা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

সেবাস্তিয়ান কুর্জ আরও বলেন, করোনার দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধির পরও আগামী ২২ জুলাই থেকে অস্ট্রিয়ার দোকানপাটে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে তিনি সকলকে করোনার নতুন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপারে ব্যক্তিগত সাবধানতা গ্রহণের পরামর্শ দেন। এখানে উল্লেখ্য যে,গত তিন যাবৎ করোনার নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজ সকালে করোনায় যে ১৫৯ জন সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন তা শনিবার সকাল থেকে রবিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত পরিসংখ্যান। ফলে অস্ট্রিয়ার সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন সপ্তাহের মাঝামাঝি এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে করোনার এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারন ভারতের করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

বৃটেনে এখন দৈনিক সংক্রমণ প্রায় ৩৫,০০০ হাজার। বৃটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই বলেছেন,১৯ জুলাই থেকে বৃটেনে করোনার সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ফলে আগস্ট মাসে করোনার দৈনিক সংক্রমণ এক লাখে উঠতে পারে।

অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ আরও বলেন,করোনা ভাইরাস আমাদের সাথেই থাকবে। তবে যদি আমরা সবাই করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করি, তাহলে এর সংক্রমণের বিস্তারের গতিশীলতা হ্রাস পাবে। অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন বছরের শুরুতে অস্ট্রিয়ার জনগণের মাত্র ৩০% মানুষ করোনার প্রতিষেধক টিকা নেয়ার পক্ষে ছিল কিন্ত বর্তমানে সে সংখ্যা প্রায় ৮০% এ উন্নীত হয়েছে।

অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে অ্যাস্ট্রাজেনেকা(সীমিত) ফাইজার/বায়োএনটেক,মোডার্না ও জনসন এন্ড জনসনের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

এপিএ আরও জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়া গত মে মাসেই অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকার নতুন অর্ডার বন্ধ  করে দিয়েছে। বর্তমানে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে টিকা দেয়া হচ্ছে তা পুরানো চালানের। যদিও অস্ট্রিয়ান সরকার বলেছে যে, সরবরাহ জনিত সমস্যার কারনে নতুন অর্ডার বন্ধ করা হয়েছে। তবে এক জনমত সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অস্ট্রিয়ার সিংহভাগ জনগণ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১৫৯ জন এবং করোনায় আজ কেহ মৃত্যুবরণ করেন নি। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৮৬ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ১৯ জন, Steiermark রাজ্যে ১৮ জন, Tirol রাজ্যে ১৩ জন, OÖ রাজ্যে ৯ জন, Salzburg রাজ্যে ৫ জন,Kärnten রাজ্যে ৪ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৪ জন এবং Burgenland রাজ্যে ১ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে আজ করোনার প্রতিষেধক টিকাদান করা হয়েছে ৪৯,০৮২ ডোজ এবং এই পর্যন্ত মোট টিকাদান করা হয়েছে ৮৫,৭৭,৫১১ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার উভয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩৭ লাখ ৫ হাজার ৯৩৯ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪১,৫৬%।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৫১,৬১২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭২৩ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৬,৩৮,৮৮৯ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,০০০ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩৯ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১০২ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »