স্পোর্টস ডেস্ক: গোলরক্ষক উনাই সিমোনের হাস্যকর ভুলে পিছিয়ে পড়া স্পেন ঘুরে দাঁড়াল দারুণভাবে। তিনবার ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে জয়ের সুবাসই পাচ্ছিল তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের শেষদিকের নাটকীয়তায় পাল্টে গেল ম্যাচের চিত্র। সাত মিনিটের মধ্যে দুবার লক্ষ্যভেদ করে সমতায় ফিরে ক্রোয়েশিয়া। তবে অতিরিক্ত সময়ে আরও দুই গোল করে নাটকীয় জয় নিয়ে ইউরোর শেষ আটে পা রাখল লুইস এনরিকের দল।
সোমবার কোপেনহেগেনের পারকেন স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৩ ব্যবধানে জিতেছে আসরের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নির্ধারিত সময় শেষে সমতা ছিল ৩-৩ গোলে।
শুরু থেকেই বল পায়ে রেখে খেলতে থাকে স্পেন। ২০তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ব্যাক-পাস দেন পেদ্রি। মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায় দলের বিপদ ডেকে আনেন সিমোন। বল তার বুটে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে যায়।
কয়েক মিনিটের চাপ সামলে আবারও ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নেয় স্প্যানিশরা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে সমতায়ও ফেরে তারা। ৩৮তম মিনিটে হোসে গায়ার শট লিভাকোভিচ আটকে দেওয়ার পর ফিরতি শটে জাল খুঁজে নেন সারাবিয়া।
বিরতির পরও একই ধাঁচে খেলতে থাকা স্প্যানিশরা লিড নেয় ৫৭তম মিনিটে। ডি-বক্সের বাম দিক থেকে ফেরানের ক্রসে দারুণ হেডে নিশানা ভেদ করেন অ্যাজপিলিকুয়েতা। ৭৭তম মিনিটে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করে দলটি। রক্ষণ থেকে বদলি পাউ তোরেসের লম্বা করে বাড়ানো চোখ ধাঁধানো আড়াআড়ি পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন ফেরান।
৮৫তম মিনিটে গোলমুখে জটলার মধ্যে লক্ষ্যভেদ করেন ওরসিচ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তার ক্রসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ থেকে দারুণ হেডে গোল করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান পাসালিচ।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথমার্ধের শুরুতে দাপট দেখায় ক্রোয়াটরা। ৯২তম মিনিটে ওরসিচের জোরালো শট পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। চার মিনিট পর আন্দ্রেই ক্রামারিচের প্রচেষ্টা রুখে দেন সিমোন।
১০০তম মিনিটে ফের এগিয়ে যায় স্পেনিশরা। বদলি দানি অলমোর নিখুঁত ক্রস পা দিয়ে নামিয়ে বুলেট গতির শটে গোল করেন মোরাতা। তিন মিনিট পর আবারও অলমোর অ্যাসিস্ট। এবারে ওইয়ারজাবাল লক্ষ্য খুঁজে নিয়ে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন।
বাকি অংশে গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি ক্রোয়াটরা।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন মোকাবিলা করবে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচের বিজয়ী দলকে।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এমএন