পর্তুগাল যুক্তরাষ্ট্রের টিকা দেওয়া পর্যটকদের অবকাশে স্বাগত জানিয়েছে

আসন্ন গ্রীষ্মের ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পর্তুগালের এই শিথিলতা

ইউরোপ ডেস্কঃ মঙ্গলবার ৮ জুন পর্তুগিজ রেডিও Renascenca জানিয়েছে,পর্তুগালের অর্থমন্ত্রী পেদ্রো সিজা ভিয়েরা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন “আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পর্তুগালে পর্যটকদের টিকাদানের সনদ থাকলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ও বিমানের অবতরণের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”। অর্থমন্ত্রী সিজা ভিয়েরা জানান,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণকারীরা পর্তুগালে ভ্রমণ করতে চাইলে তাদের ভ্রমণের কমপক্ষে ১৪ দিন আগে ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সি কর্তৃক অনুমোদিত একটি ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ডোজ নেওয়া সম্পন্ন থাকতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন,আগামী সপ্তাহ থেকেই এই ব্যাপারে আমরা আলাপ আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি। অবশ্য মন্ত্রী মার্কিন পর্যটকদের কখন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে তার সঠিক তারিখ বলেন নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স পর্তুগাল সরকারের এক পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান,বৈশ্বিক মহামারী করোনার পূর্বে ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১২ লাখ পর্যটক পর্তুগাল আগমন করেছিলেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারনে এই পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ২২৯ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক পর্তুগালে আগমন করেন।

অর্থমন্ত্রী সিজা ভিয়েরা আরও বলেন,গত সপ্তাহে বৃটেন পর্তুগাল থেকে কেহ বৃটেনে প্রবেশ করলে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করলে পর্তুগালের পর্যটন খাতে এক বড় ধাক্কা লাগে। ব্রিটেন পর্তুগালের অন্যতম বৃহত্তম বিদেশী পর্যটন বাজার এবং সমুদ্র সৈকত এবং গল্ফ কোর্সের জন্য বিখ্যাত।

বৈশ্বিক মহামারী করোনায়  ইউরোপের মধ্যে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ পর্তুগাল কয়েকদফা কঠোর লকডাউন ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে পর্তুগাল করোনার অনেক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

অবশ্য সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে করোনার নতুন সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। মাত্র ১০ মিলিয়নেরও বেশী দেশটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে কম সংক্রমণের হারের সাথে এবং ব্রিটেনের পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত তবে যাত্রীদের অবশ্যই আগমনকালে একটি নেতিবাচক করোনভাইরাস পরীক্ষা দেখাতে হবে।

পর্তুগালের পর্যটন খাত – মহামারীর আগে জিডিপির প্রায় ১২% হিসাবে চিহ্নিত – বৈশ্বিক মহামারী করোনার জন্য গত বৎসর ১৯৮০-এর দশকের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়েছিল। ২০১৯ সালের পর থেকে এই পর্যন্ত বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা শতকরা ৭৬% হ্রাস পেয়ে মাত্র ৪ মিলিয়নে নেমে এসেছে।

পর্তুগালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে গতকাল মঙ্গলবার দেশটিতে নতুন করে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৫৯৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। পর্তুগালে এই পর্যন্ত করোনার মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৫৩,৬৩২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ১৭,০৩৭ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৮,১২ ৯৬৪ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৩,৬৩১ জন এবং ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আছেন ৬৬ জন।

কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »