ইবিটাইমস ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দীর্ঘদিনের বৈরী দেশ ইরান ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আটক থাকা এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে এবং তাকে দেশ ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে।
ট্রাম্প বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘তিনি এখন নিরাপদে ইরানের বাইরে রয়েছেন এবং সুস্থ আছেন।’
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ‘এই সদিচ্ছার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধন্যবাদ জানায়।’
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছেন।
তবে তিনি মুক্তি পাওয়া ওই নারীর নাম বা কেন তাকে আটক রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। শুধু বলেছেন, তাকে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ রাখা হয়েছিল।
তবে বুধবার রাতে ট্রাম্পের পোস্টের পর এক আইনজীবী জানান, মুক্তি পাওয়া ওই নারী তার মক্কেল।
আইনজীবী জ্যারেড জেনসার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমার মক্কেল, মার্কিন-ইরানি নাগরিক ডেনা কারারি, যাকে শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির ভিত্তিহীন অভিযোগে ইরানে আটকে রাখা হয়েছিল, তিনি এখন নিরাপদে ইরানের বাইরে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছেন—এ কথা জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
তিনি বলেন, কারারি ‘চিলড্রেন অব মেহের ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা পরিচালনা করতেন। ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে সংস্থাটি ইরানের দরিদ্র শিশুদের সহায়তা করত। এ কারণেই তিনি তেহরান কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন।
জেনসার বলেন, দেশত্যাগে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকাকালে তাকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বহুবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যদিও তাকে কখনো শারীরিকভাবে আটক করা হয়নি, তবু তিনি চরম শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ইরান যেন অন্যায়ভাবে কারাবন্দি সব মার্কিন নাগরিক, দেশত্যাগে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের এবং সব ইরানি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়।
ইরানের হেফাজতে কয়েকজন পশ্চিমা দেশের নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তাদের দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তেহরানের বিরুদ্ধে।
গত মে মাসে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত এক ইরানি নাগরিক ইরানে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন।
ঢাকা/এসএস




















