ভিয়েনা ০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইল মহাসড়কে পিকআপের চাপায় স্কুলছাত্রী নিহত টাঙ্গাইলে ৫ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছে ভিটামিন এ ক্যাপসুল লালমোহনে মা-ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত ! ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৪৩০ মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা মেসির গোলে শতভাগ জয় নিয়ে নক আউটে আর্জেন্টিনা রাঙ্গামাটিতে সার জব্দ করেছে বিজিবি এবারের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মান অত্যন্ত ভালো : স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ শিক্ষা বাজেটের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

লালমোহনে মা-ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত ! ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০২:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৮ সময় দেখুন

Oplus_131072

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ৫২ বছর বয়সী এক মা মোসা. মমতাজ বেগম| তিনি গত এক বছর ধরে ভুগছেন ব্রেস্ট ক্যান্সারে| ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে| তাকে দেখতে চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে ঢাকায় ছুটে যান বড় ছেলে মো. জাবের (৩০)| সেখানে যাওয়ার পর শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করেন জাবেরও| এরপর তিনিও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন| পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জাবেরেরও ফুসফুস ক্যান্সার শনাক্ত হয়| একই মাসে এক নির্মম-নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হন মা-ছেলে| শুরু হয় দু’জনের বাঁচার সংগ্রাম| গত এক বছরে মা-ছেলের চিকিৎসা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যয় হয়ে গেছে প্রায় ১৭ লাখ টাকা| তবে নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও নিজের বাঁচার চিন্তা না করে ছেলেকে বাঁচাতে চান মা মমতাজ বেগম| মায়েরা হয়তো আসলেই এমনই হন| মমতাজ বেগম নিজের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে নিষেধ করছেন সন্তান-স্বজনদের| তিনি চাচ্ছেন তার ছেলে জাবেরই যেন চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন| এমনই এক করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া ওই দুই মা-ছেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৪ ন¤^র ওয়ার্ডের পূর্ব চতলা (জনতা বাজার) এলাকার হামিদ পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা|

মমতাজ বেগমের ছোট ছেলে মো. জোবায়ের জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে মায়ের ব্রেস্টে একটি ছোট টিউমার দেখা দেয়| এরপর তাকে দ্রুত ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই| সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে| পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তা অপারেশন করা হয়| অসুস্থ মাকে দেখতে চট্টগ্রামে গার্মেন্টেসে চাকরি করা আমার বড় ভাই জাবের ছুটি নিয়ে ঢাকায় চলে যান| তবে সেখানে যাওয়ার পর জাবেরের শারীরিক অবস্থা খারাপ অনুভব করায় তিনিও একটি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন| সেখানের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ফুসফুস ক্যান্সার শনাক্ত করেন| মায়ের পরে ভাইয়েরও ক্যান্সার, এতে করে আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়ি|

তিনি জানান, এ পর্যন্ত মাকে আটটি কেমোথেরাপি এবং পনেরটি রেডিওথেরাপি দেয়া হয়েছে| আর ভাই জাবেরকে প্রথমে দেশে চারটি কেমোথেরাপি দেয়া হয়| তবে এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়| সেখানের চিকিৎসক ইমিউনোথেরাপি দেয়ার কথা বলেন| অর্থাভাবে সেখানে আর ভাইয়ের চিকিৎসা করা যায়নি| যার জন্য তাকে আবার দেশে ফিরে আসতে হয়| দেশে আসার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে তাকে একটি ইমিউনোথেরাপি দেয়া হয়েছে, এখনো আরও তিনটি ইমিউনোথেরাপি দিতে হবে| তবে এখন আর কোনোভাবেই অর্থের জোগাড় করতে পারছি না| কারণ এরইমধ্যে মা এবং ভাইয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর চিকিৎসায় ৬৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে আর আত্মীয়-¯^জনদের সহযোগিতায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে| এখন বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কোনো সম্পদ নেই| মা আর ভাইয়ের চিকিৎসা নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি| সামনের দিকে কিভাবে মা আর ভাইয়ের চিকিৎসা করাবো?

তিনি আরও জানান, বাবা বৃদ্ধ এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ্য| তিনি এখন কাজ করতে পারেন না| যার জন্য খুব অল্প বয়সেই আমার বড় ভাই জাবেরকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে| সুস্থ্য থাকতে তিনিই গার্মেন্টেসে চাকরি করে যা বেতন পেতেন তা দিয়েই সুন্দরভাবে সংসার চালাতেন| এছাড়া আমার ভাইও বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতেন| এখন তিনি নিজেই অসহায় হয়ে পড়েছেন| বর্তমানে কোনোভাবে অর্থের জোগাড় করতে না পারায় মা বলছেন- আমাকে আর চিকিৎসা করানোর দরকার নেই| আমার বয়স হয়েছে, আমি আর বাঁচবোই বা কত বছর! সবাই মিলে যেন জাবেরের চিকিৎসাটাই করাই| তা তো আর হয় না, চোখের সামনে মাকেই বা ধুঁকে ধুঁকে কিভাবে মারা যেতে দেখবো?

জোবায়ের জানান, এখন মা এবং ভাইয়ের পুরোপুরি চিকিৎসা করাতে হলে আরও অন্তত ২০ লাখ টাকার দরকার| এত টাকা কই পাবো, এসব নিয়ে পরিবারের সবাই চরম হতাশাগ্রস্ত| তবে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সমাজের বিত্তবান ও দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষজনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেলে হয়তো মা এবং ভাই সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন| আমার মা এবং ভাইয়ের চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭২৭০১৩৩০৭ (বিকাশ ব্যক্তিগত) এবং ০১৭৯৫০৮০০১৬ (নগদ ব্যক্তিগত) ন¤^রে যোগাযোগের বিনীত অনুরোধ করছি|

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, মা-ছেলে ক্যান্সার আক্রান্ত-এটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনায়| দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের যে অনুদান রয়েছে তা যেন তার পান সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো|
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

টাঙ্গাইল মহাসড়কে পিকআপের চাপায় স্কুলছাত্রী নিহত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে মা-ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত ! ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি

আপডেটের সময় ০২:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ৫২ বছর বয়সী এক মা মোসা. মমতাজ বেগম| তিনি গত এক বছর ধরে ভুগছেন ব্রেস্ট ক্যান্সারে| ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে| তাকে দেখতে চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে ঢাকায় ছুটে যান বড় ছেলে মো. জাবের (৩০)| সেখানে যাওয়ার পর শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করেন জাবেরও| এরপর তিনিও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন| পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জাবেরেরও ফুসফুস ক্যান্সার শনাক্ত হয়| একই মাসে এক নির্মম-নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হন মা-ছেলে| শুরু হয় দু’জনের বাঁচার সংগ্রাম| গত এক বছরে মা-ছেলের চিকিৎসা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যয় হয়ে গেছে প্রায় ১৭ লাখ টাকা| তবে নিজে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও নিজের বাঁচার চিন্তা না করে ছেলেকে বাঁচাতে চান মা মমতাজ বেগম| মায়েরা হয়তো আসলেই এমনই হন| মমতাজ বেগম নিজের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে নিষেধ করছেন সন্তান-স্বজনদের| তিনি চাচ্ছেন তার ছেলে জাবেরই যেন চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন| এমনই এক করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া ওই দুই মা-ছেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৪ ন¤^র ওয়ার্ডের পূর্ব চতলা (জনতা বাজার) এলাকার হামিদ পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা|

মমতাজ বেগমের ছোট ছেলে মো. জোবায়ের জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে মায়ের ব্রেস্টে একটি ছোট টিউমার দেখা দেয়| এরপর তাকে দ্রুত ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই| সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে| পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তা অপারেশন করা হয়| অসুস্থ মাকে দেখতে চট্টগ্রামে গার্মেন্টেসে চাকরি করা আমার বড় ভাই জাবের ছুটি নিয়ে ঢাকায় চলে যান| তবে সেখানে যাওয়ার পর জাবেরের শারীরিক অবস্থা খারাপ অনুভব করায় তিনিও একটি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন| সেখানের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ফুসফুস ক্যান্সার শনাক্ত করেন| মায়ের পরে ভাইয়েরও ক্যান্সার, এতে করে আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়ি|

তিনি জানান, এ পর্যন্ত মাকে আটটি কেমোথেরাপি এবং পনেরটি রেডিওথেরাপি দেয়া হয়েছে| আর ভাই জাবেরকে প্রথমে দেশে চারটি কেমোথেরাপি দেয়া হয়| তবে এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়| সেখানের চিকিৎসক ইমিউনোথেরাপি দেয়ার কথা বলেন| অর্থাভাবে সেখানে আর ভাইয়ের চিকিৎসা করা যায়নি| যার জন্য তাকে আবার দেশে ফিরে আসতে হয়| দেশে আসার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে তাকে একটি ইমিউনোথেরাপি দেয়া হয়েছে, এখনো আরও তিনটি ইমিউনোথেরাপি দিতে হবে| তবে এখন আর কোনোভাবেই অর্থের জোগাড় করতে পারছি না| কারণ এরইমধ্যে মা এবং ভাইয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর চিকিৎসায় ৬৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে আর আত্মীয়-¯^জনদের সহযোগিতায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে| এখন বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কোনো সম্পদ নেই| মা আর ভাইয়ের চিকিৎসা নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি| সামনের দিকে কিভাবে মা আর ভাইয়ের চিকিৎসা করাবো?

তিনি আরও জানান, বাবা বৃদ্ধ এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ্য| তিনি এখন কাজ করতে পারেন না| যার জন্য খুব অল্প বয়সেই আমার বড় ভাই জাবেরকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে| সুস্থ্য থাকতে তিনিই গার্মেন্টেসে চাকরি করে যা বেতন পেতেন তা দিয়েই সুন্দরভাবে সংসার চালাতেন| এছাড়া আমার ভাইও বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতেন| এখন তিনি নিজেই অসহায় হয়ে পড়েছেন| বর্তমানে কোনোভাবে অর্থের জোগাড় করতে না পারায় মা বলছেন- আমাকে আর চিকিৎসা করানোর দরকার নেই| আমার বয়স হয়েছে, আমি আর বাঁচবোই বা কত বছর! সবাই মিলে যেন জাবেরের চিকিৎসাটাই করাই| তা তো আর হয় না, চোখের সামনে মাকেই বা ধুঁকে ধুঁকে কিভাবে মারা যেতে দেখবো?

জোবায়ের জানান, এখন মা এবং ভাইয়ের পুরোপুরি চিকিৎসা করাতে হলে আরও অন্তত ২০ লাখ টাকার দরকার| এত টাকা কই পাবো, এসব নিয়ে পরিবারের সবাই চরম হতাশাগ্রস্ত| তবে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সমাজের বিত্তবান ও দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষজনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেলে হয়তো মা এবং ভাই সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন| আমার মা এবং ভাইয়ের চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭২৭০১৩৩০৭ (বিকাশ ব্যক্তিগত) এবং ০১৭৯৫০৮০০১৬ (নগদ ব্যক্তিগত) ন¤^রে যোগাযোগের বিনীত অনুরোধ করছি|

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, মা-ছেলে ক্যান্সার আক্রান্ত-এটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনায়| দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের যে অনুদান রয়েছে তা যেন তার পান সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো|
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস