ভিয়েনা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালীর কর্তৃত্ব সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের রেকর্ড জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে কুকুরের কামড়ে ৯ শিশুসহ ৫৪ জন আহত লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়ম, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ লালমোহনে অটোরিকশা-পিকআপ সংঘর্ষে আহত ৬ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হকের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাবার স্মৃতি বিজড়িত শার্শার উলসী খাল পুনঃখনন করলেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ হবিগঞ্জে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চোরচক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়ম, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:৪১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৫ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক সম্প্রসারণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বমুখী মফিজুল ইসলাম কানু সড়কের হেরিংবোন (Herringbone) সম্প্রসারণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সড়কের নিম্নমানের কাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, সড়কের দুই পাশে উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে পিচ ঢালাইয়ের পরিবর্তে পুরোনো পদ্ধতিতে ইট বসিয়ে হেরিংবোন নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহৃত ইট অত্যন্ত নিম্নমানের এবং যথাযথ বেডিং (বালু/সাববেস) ও কম্প্রেশন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ফলে ইট বসানোর পরদিনই ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাচ্ছে। লালমোহন মহিলা কলেজের সামনে সদ্য নির্মিত অংশে ট্রাক চলাচলের কারণে একদিনের মধ্যেই রাস্তা বসে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এতে যে-কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পে পচা, পিকেট ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণ বালি ও পানি ব্যবহার না করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে বড়ো প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ, জসিম ও মতিনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কের নিচে প্রয়োজনীয় বালির স্তর দেওয়া হচ্ছে না। সামান্য পানির ছিটা দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমেই সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (LGED) কর্মকর্তাদের কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (এসও) মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তদারকির জন্য অফিসের একজন স্টাফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে তার উপস্থিতিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজনকেই কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিরণ দাবি করেন, শুরুতে এক গাড়ি নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল, তবে তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের ইট দিয়েই কাজ চলছে।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মোশারফ জানান, করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বদিকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট সড়কের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকার কাজ তারা পেয়েছেন। সীমিত বাজেটে কাজটি বাস্তবায়ন কঠিন হলেও মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন— কাজের শুরুতেই যখন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তখন পুরো প্রকল্পের গুণগত মান কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব? দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়

হরমুজ প্রণালীর কর্তৃত্ব সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়ম, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেটের সময় ০৩:৪১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক সম্প্রসারণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বমুখী মফিজুল ইসলাম কানু সড়কের হেরিংবোন (Herringbone) সম্প্রসারণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সড়কের নিম্নমানের কাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, সড়কের দুই পাশে উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে পিচ ঢালাইয়ের পরিবর্তে পুরোনো পদ্ধতিতে ইট বসিয়ে হেরিংবোন নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহৃত ইট অত্যন্ত নিম্নমানের এবং যথাযথ বেডিং (বালু/সাববেস) ও কম্প্রেশন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ফলে ইট বসানোর পরদিনই ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাচ্ছে। লালমোহন মহিলা কলেজের সামনে সদ্য নির্মিত অংশে ট্রাক চলাচলের কারণে একদিনের মধ্যেই রাস্তা বসে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এতে যে-কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পে পচা, পিকেট ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণ বালি ও পানি ব্যবহার না করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে বড়ো প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ, জসিম ও মতিনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কের নিচে প্রয়োজনীয় বালির স্তর দেওয়া হচ্ছে না। সামান্য পানির ছিটা দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমেই সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (LGED) কর্মকর্তাদের কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (এসও) মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তদারকির জন্য অফিসের একজন স্টাফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে তার উপস্থিতিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজনকেই কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিরণ দাবি করেন, শুরুতে এক গাড়ি নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল, তবে তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের ইট দিয়েই কাজ চলছে।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মোশারফ জানান, করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বদিকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট সড়কের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকার কাজ তারা পেয়েছেন। সীমিত বাজেটে কাজটি বাস্তবায়ন কঠিন হলেও মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন— কাজের শুরুতেই যখন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তখন পুরো প্রকল্পের গুণগত মান কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব? দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ও জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস