মোতাব্বির হোসেন কাজল, হবিগঞ্জ : র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দায়ের করা একটি গণধর্ষণ মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই মাদক উদ্ধার, হত্যা, সন্ত্রাস দমন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, জঙ্গি দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাহিনীটি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার এক নারী (ভিকটিম) পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় চার মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। পরে তিনি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শৈলজুরা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। এ সময় সুমন মিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে সুমন মিয়া ভিকটিমকে তার ভাইয়ের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর সিটি পার্ক এলাকার দিকে নিয়ে যায়। পথে সুরাবই এলাকার নাপিতটিলা এলাকায় পৌঁছালে তাজুল ইসলাম মনির, কাওছার মিয়া ও আলমগীর হোসেন তাদের পথরোধ করে। এ সময় ভয়ভীতি দেখালে সুমন মিয়া ভিকটিমকে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে দুর্বৃত্তরা ভিকটিমকে জোরপূর্বক পাশের একটি রাবার বাগানে নিয়ে গিয়ে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করে। ঘটনার পরদিন সকালে তাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬, সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল ২০ এপ্রিল ২০২৬ রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের চরিপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামলার পলাতক আসামি সুমন মিয়া (২৬), পিতা জালাল মিয়া, সাং- শ্রীপুর, হবিগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে একই মামলার এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা/এসএস



















