জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : একসময় ভোলার লালমোহনের গ্রামাঞ্চলের প্রায় বাড়িতে দেখা যেত ভেন্না গাছ। বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে অবহেলায় জন্মাতো এই তেল উৎপাদনকারী গাছটি। স্থানীয় ভাবে এই গাছ টিকে মানুষ ভেরন বা ভেরেন্ডা হিসেবে ডাকতো। বর্তমান প্রজন্ম এই গাছ সম্পর্কে জানেই না। অথচ একসময় এই গাছটিকে ঔষুধি গাছ হিসেবে সবাই জানতো। ভেন্না পাতার রস ও ফলের তৈল মানুষ বাত ব্যথা, ফোঁড়া, পোড়া ক্ষত এবং চুলকানি নিরাময়ে ব্যবহার করতো। অনেকে ভেন্নার তৈল মাথা ঠান্ডা রাখতে ব্যবহার করতো।
উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ফুলবাগিচা এলাকার ৪নং ওয়ার্ড আবাসন প্রকল্পের মধ্যে কিছু ভেন্না গাছ দেখা গেছে। আবাসনের বাসিন্দা আবু ইউসুফ (৬০) বলেন, আগে আমরা এই গাছের পাতার রস ঔধুষ হিসেবে ব্যবহার করতাম। ভেন্নার বীজ থেকে তৈল বের করে গায়ে মাখতাম চুলকানির জন্য এবং পোড়া ও ক্ষতস্থানে লাগাতাম। গাছটিকে আমরা ঔষুধি গাছ হিসেবে জানতাম। ভেন্না গাছে কোন যত্ন লাগেনা, আগে পুকুর পাড়, ক্ষেতের আইল, ও পতিত জমি ও বিভিন্ন মাঠে এই গাছ দেখা যেন। এখন এই গাছটি দেখা যায় না। আমাদের এই আবাসনে কয়েকটি ভেন্না গাছ হয়েছে। এই গাছগুলো কেই লাগাইনি। যত্ন ছাড়াই বড় হয়েছে এবং ফল এসেছে।
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে মানবদেহের নানা রোগে ভেন্না গাছের পাতা ও বীজ থেকে তৈরি তেল প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চোখ ওঠায় ভেন্না পাতার রস হালকা গরম করে ছ্যাঁকা দিলে অল্প সময়েই আরোগ্য পাওয়া যায়। পেটে ব্যথা হলে ভেন্নার কঁচি পাতা পানিতে সেদ্ধ করে পরিমাণমতো খেলে পেট ব্যথা সেরে যায়, এতে মাথাব্যথাও সেরে যায়। রাতকানা রোগে ১০ থেকে ১৫ গ্রাম ভেন্না পাতা ঘিয়ে ভেজে বা যেকোনো শাকের সঙ্গে ভেজে খেলে তা কমে যায়। মহিলাদের রক্তস্রাবের কারণে তলপেটে ব্যথা নিরাময়ে ভেন্না পাতা গরম করে তলপেটে ছ্যাঁকা দিলে ব্যথা সেরে যায় এবং এভাবে দু-একদিন ব্যবহারে এ থেকে নিরাময় মেলে। এ ছাড়াও ভেন্না গাছের মূলের ছাল ও হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যবহারে খোস চুলকানি তাড়াতাড়ি সেরে যায়। প্রস্রাব কমে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ভেন্না গাছের কাঁচা ছাল পানিতে সেদ্ধ করে পরিমাণ মতো খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়াও ভেন্না গাছের পাতা, পাতার রস ও বীজ এবং বীজ থেকে তৈরি তেল মানুষের আরও অনেক রোগ নিরাময়ে আদিকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
লালমোহন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডাঃ মো. ইউসুফ হোসেন বলেন, ভেরেন্ডা বা ভেন্না গাছ ইউনানি চিকিৎসায় এরণ্ড (Eranda) নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম জরপরহঁং Ricinus communis ইউনানি চিকিৎসায় এর বীজ, পাতা ও মূল ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে ক্যাস্টর অয়েল তৈরিতে যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও বাতব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এর আঠালো রস একজিমা ও চর্মরোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। এটি ভেষজ গুণসম্পন্ন, তবে এটি একটি শক্তিশালী রেচক (laxative) হওয়ায় অতিরিক্ত সেবন এড়িয়ে চলা উচিত।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস



















