শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইলে এমনভাবে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা হবে, যাতে মানুষের আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে না হয়; বরং পর্যটকরাই টাঙ্গাইলে আসবেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, আগামী দিনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত স্লোগান— “ভোট দেব ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে”— বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। তিনি জানান, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে এক নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমানের কাছে জেলার উন্নয়নে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে এবং তিনি সেগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল সদরের একজন মানুষও যাতে বেকার না থাকে, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর অন্তত অর্ধেক চাকরি সদর উপজেলার মানুষের হবে, ফলে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, যমুনা তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সেখানে একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তখন চরের মানুষকে আর দূরদূরান্তে যেতে হবে না; বরং বাইরের মানুষই টাঙ্গাইলে ভ্রমণে আসবে।
বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেন, “একটি দলের প্রধান টাঙ্গাইলে এসে উন্নয়ন নিয়ে কিছু বলেননি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার রাজনীতি সঠিক নয়। বক্তব্যে তিনি মাওলানা ভাসানীর একটি উদ্ধৃতিও উল্লেখ করেন।
টুকু বলেন, টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ নগরে পরিণত করতে তিনি কাজ করবেন। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস



















