ভিয়েনা ০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১১:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। বুধবার দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজান জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গ্রেফতার হওয়া হামিদরেজা সাবেত এসমাইলপুরকে ভোরে ফাঁসি দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে মোসাদের এক এজেন্টের কাছে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

প্যারিস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর আগে জানায়, গত জুনে ইরান ও ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর একই ধরনের অভিযোগে অন্তত ১২ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনগুলো আরও উদ্বেগ জানিয়েছে যে চলতি মাসে বিক্ষোভের সময় গ্রেফতার হওয়া অনেকেই মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।

বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হতে পারে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির উদ্বেগ থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দমন অভিযানে অন্তত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা মিজান জানায়, এসমাইলপুর মোসাদের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ‘নাশকতামূলক অভিযান’ চালাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে তিনি সরঞ্জাম কেনেন ও বিস্ফোরক বোঝাই যানবাহন স্থানান্তরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

গত ৭ জানুয়ারি ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

ওইদিন আলি আরদেস্তানী নামের এক ব্যক্তিকে মোসাদের কাছে তথ্য দেওয়ার দায়ে ফাঁসি দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চীনের পর ইরানই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ।

এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে অন্তত এক হাজার ৫০০ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের পর ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতার সন্দেহে গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছে তেহরান।

ইরান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না।

দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের অভিযোগ, ইসরাইল তাদের পরমাণু স্থাপনায় নাশকতা চালাচ্ছে এবং বিজ্ঞানীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তবে জুনের যুদ্ধ ইরানে ইসরাইলের গভীর গোয়েন্দা অনুপ্রবেশের চিত্র সামনে আনে।

অবস্থানভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা জানিয়ে আসছে যে নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নির্দোষ মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, অথচ মাঠপর্যায়ে কাজ করা ইসরাইলি এজেন্টরা ধরা পড়ছে না।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

আস্থা লাইফের বীমার আওতায় সুইট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আপডেটের সময় ১১:৩৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। বুধবার দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজান জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গ্রেফতার হওয়া হামিদরেজা সাবেত এসমাইলপুরকে ভোরে ফাঁসি দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে মোসাদের এক এজেন্টের কাছে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

প্যারিস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর আগে জানায়, গত জুনে ইরান ও ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর একই ধরনের অভিযোগে অন্তত ১২ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনগুলো আরও উদ্বেগ জানিয়েছে যে চলতি মাসে বিক্ষোভের সময় গ্রেফতার হওয়া অনেকেই মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।

বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হতে পারে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির উদ্বেগ থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দমন অভিযানে অন্তত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা মিজান জানায়, এসমাইলপুর মোসাদের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ‘নাশকতামূলক অভিযান’ চালাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে তিনি সরঞ্জাম কেনেন ও বিস্ফোরক বোঝাই যানবাহন স্থানান্তরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

গত ৭ জানুয়ারি ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

ওইদিন আলি আরদেস্তানী নামের এক ব্যক্তিকে মোসাদের কাছে তথ্য দেওয়ার দায়ে ফাঁসি দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চীনের পর ইরানই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ।

এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে অন্তত এক হাজার ৫০০ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের পর ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতার সন্দেহে গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছে তেহরান।

ইরান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না।

দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের অভিযোগ, ইসরাইল তাদের পরমাণু স্থাপনায় নাশকতা চালাচ্ছে এবং বিজ্ঞানীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তবে জুনের যুদ্ধ ইরানে ইসরাইলের গভীর গোয়েন্দা অনুপ্রবেশের চিত্র সামনে আনে।

অবস্থানভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইরানি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা জানিয়ে আসছে যে নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নির্দোষ মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, অথচ মাঠপর্যায়ে কাজ করা ইসরাইলি এজেন্টরা ধরা পড়ছে না।
ঢাকা/এসএস