ভিয়েনা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হবিগঞ্জে বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ অস্ট্রিয়ায় তুষারধসে আরও ২ জন নিহত : পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন আকবর স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত আমিরসহ বিরোধীদলীয় নেতারা ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

স্পেনে অভিবাসীবিরোধী সহিংসতায় আহত ৫, উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৯:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • ২০৭ সময় দেখুন

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর তোরে পাচেকোতে টানা দুই রাত সংঘর্ষ হয়েছে। উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা একদল যুবক তার ওপর হামলা করেছেন, এক স্প্যানিশ পেনশনভোগী এমন অভিযোগ করার কয়েকদিন পরই এই সহিংসতা শুরু হয়

ইউরোপ ডেস্কঃ রবিবার (১৩ জুলাই) স্প্যানিশ সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের একটি শহরে অভিবাসী এবং বাসিন্দাদের মধ্যে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটেছে উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে। শনিবার রাতের সহিংসতায় পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মার্সিয়া অঞ্চলের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি মারিওলা গুয়েভারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “অভিবাসীদের সন্ধানে” লেখা কিছু পোস্ট সনাক্ত করার পরই কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেন। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই সহিংসতা শুরু হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ জুলাই এক বৃদ্ধ স্প্যানিশ নাগরিকের ওপর অজ্ঞাত আততায়ীদের হামলার কয়েকদিন পর শনিবার (১২ জুলাই) গভীর রাতে লাঠিসোটা হাতে সজ্জিত একটি গোষ্ঠী টানা দুই রাত মার্সিয়ার কাছে তোরে পাচেকো শহরের রাস্তায় মাঝরাতে টহল শুরু করে।

স্থানীয় সংবাদপত্র লা অপিনিয়ন ডি মুর্সিয়া জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির মধ্যেই এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের খুঁজে বেড়াচ্ছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে যে ৪০ হাজার জনসংখ্যার এই শহরের কেন্দ্রস্থলে কট্টর-ডানপন্থি প্রতীক সম্বলিত পোশাক পরা বেশকিছু পুরুষ এবং মরক্কোর পতাকা বহনকারী অভিবাসীরা একে অপরের দিকে নানা জিনিস ছুঁড়ছে।

শহরটির মেয়র পেদ্রো অ্যাঞ্জেল রোকা সংবাদমাধ্যম এর সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন। রোকা বলেছেন, দাঙ্গায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ অন্যান্য এলাকা থেকে শহরটিতে এসেছিলেন।

যে স্প্যানিশ পেনশনভোগী নাগরিকের ওপর হামলার অভিযোগে এই সহিংসতার সূত্রপাত, ৬৮ বছর বয়সি সেই ব্যক্তি তার আঘাত থেকে সেরে উঠছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর আফ্রিকার কোনও একটি দেশের বংশোদ্ভূত তিন যুবক তার উপর আক্রমণ করেছিল। এই হামলার ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে। তবে এই হামলার কারণ স্পষ্ট নয় এবং ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

স্প্যানিশ পুলিশ গার্ডিয়া সিভিলের মুর্সিয়া অঞ্চলের প্রধান ফ্রান্সিসকো পুলিদো গণমাধ্যমকে বলেছেন, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে বাড়তি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঘৃণামূলক অপরাধ তদন্তের দিকেও মনোনিবেশ করছে পুলিশ।

হুমকির মুখে অভিবাসীরা: স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসের তথ্য অনুযায়ী, তোরে পাচেকোতে বসবাসকারী মরক্কান বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি দিয়ে নানা পোস্ট কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে।

জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মুর্সিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান ফার্নান্দো লোপেজ মিরাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “তোরে পাচেকোকে অবশ্যই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।” রক্ষণশীল এই রাজনীতিবিদ বলেন,”আমি হতাশার কারণ বুঝতে পারছি, কিন্তু কোনওভাবেই সহিংসতাকে সমর্থন করা যায় না।”

আরেকটি স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল মুন্দো জানিয়েছে, শহরটির আশেপাশের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশই অভিবাসী, যা স্পেনের গড় হিসাবের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শহরটির আশেপাশের এলাকায় অনেক অভিবাসী কৃষি শ্রমিক হিসাবেও কাজ করেন।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশ স্পেনে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। তবে প্রবাসীদের সিংহভাগই রাজধানী মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো বড় শহরগুলোতে বাস করেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর 

জনপ্রিয়

ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

স্পেনে অভিবাসীবিরোধী সহিংসতায় আহত ৫, উগ্র ডানপন্থিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে

আপডেটের সময় ০৯:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর তোরে পাচেকোতে টানা দুই রাত সংঘর্ষ হয়েছে। উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা একদল যুবক তার ওপর হামলা করেছেন, এক স্প্যানিশ পেনশনভোগী এমন অভিযোগ করার কয়েকদিন পরই এই সহিংসতা শুরু হয়

ইউরোপ ডেস্কঃ রবিবার (১৩ জুলাই) স্প্যানিশ সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের একটি শহরে অভিবাসী এবং বাসিন্দাদের মধ্যে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটেছে উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে। শনিবার রাতের সহিংসতায় পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মার্সিয়া অঞ্চলের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি মারিওলা গুয়েভারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “অভিবাসীদের সন্ধানে” লেখা কিছু পোস্ট সনাক্ত করার পরই কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেন। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই সহিংসতা শুরু হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ জুলাই এক বৃদ্ধ স্প্যানিশ নাগরিকের ওপর অজ্ঞাত আততায়ীদের হামলার কয়েকদিন পর শনিবার (১২ জুলাই) গভীর রাতে লাঠিসোটা হাতে সজ্জিত একটি গোষ্ঠী টানা দুই রাত মার্সিয়ার কাছে তোরে পাচেকো শহরের রাস্তায় মাঝরাতে টহল শুরু করে।

স্থানীয় সংবাদপত্র লা অপিনিয়ন ডি মুর্সিয়া জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির মধ্যেই এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের খুঁজে বেড়াচ্ছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে যে ৪০ হাজার জনসংখ্যার এই শহরের কেন্দ্রস্থলে কট্টর-ডানপন্থি প্রতীক সম্বলিত পোশাক পরা বেশকিছু পুরুষ এবং মরক্কোর পতাকা বহনকারী অভিবাসীরা একে অপরের দিকে নানা জিনিস ছুঁড়ছে।

শহরটির মেয়র পেদ্রো অ্যাঞ্জেল রোকা সংবাদমাধ্যম এর সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন। রোকা বলেছেন, দাঙ্গায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ অন্যান্য এলাকা থেকে শহরটিতে এসেছিলেন।

যে স্প্যানিশ পেনশনভোগী নাগরিকের ওপর হামলার অভিযোগে এই সহিংসতার সূত্রপাত, ৬৮ বছর বয়সি সেই ব্যক্তি তার আঘাত থেকে সেরে উঠছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর আফ্রিকার কোনও একটি দেশের বংশোদ্ভূত তিন যুবক তার উপর আক্রমণ করেছিল। এই হামলার ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে। তবে এই হামলার কারণ স্পষ্ট নয় এবং ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

স্প্যানিশ পুলিশ গার্ডিয়া সিভিলের মুর্সিয়া অঞ্চলের প্রধান ফ্রান্সিসকো পুলিদো গণমাধ্যমকে বলেছেন, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে বাড়তি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঘৃণামূলক অপরাধ তদন্তের দিকেও মনোনিবেশ করছে পুলিশ।

হুমকির মুখে অভিবাসীরা: স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসের তথ্য অনুযায়ী, তোরে পাচেকোতে বসবাসকারী মরক্কান বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি দিয়ে নানা পোস্ট কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে।

জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মুর্সিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান ফার্নান্দো লোপেজ মিরাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “তোরে পাচেকোকে অবশ্যই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।” রক্ষণশীল এই রাজনীতিবিদ বলেন,”আমি হতাশার কারণ বুঝতে পারছি, কিন্তু কোনওভাবেই সহিংসতাকে সমর্থন করা যায় না।”

আরেকটি স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল মুন্দো জানিয়েছে, শহরটির আশেপাশের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশই অভিবাসী, যা স্পেনের গড় হিসাবের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শহরটির আশেপাশের এলাকায় অনেক অভিবাসী কৃষি শ্রমিক হিসাবেও কাজ করেন।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের দেশ স্পেনে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন। তবে প্রবাসীদের সিংহভাগই রাজধানী মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো বড় শহরগুলোতে বাস করেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর