ঝিনাইদহে প্রবাসীর স্ত্রীর ‘হানি ট্র্যাপে’ প্রতারিতদের সংবাদ সম্মেলন

শেখ ইমন, ঝিনাইদহ : এগারো বছর ধরে স্বামী থাকেন বিদেশ কিন্তু স্ত্রী আসমা খাতুন সাথী তিন মাস পরপর গর্ভবতী হচ্ছেন! শুনতে অবাক হলেও ঝিনাইদহ আদালতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় এমন মিথ্যা ও জালিয়াতিপুর্ণ কাগজ দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযােগ তার বিরুদ্ধে।

হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য হচ্ছে আসমা খাতুন সাথি ঝিনাইদহ শহরের কোরাপাড়া কাঠালবাগান এলাকার আফজাল হোসেনের মেয়ে। সাথির প্রতারণা থেকে বাদ পড়েনি তার শ্বশুরও।

সাথির ‘হানি ট্র্যাপে’ প্রতারিতরা মঙ্গলবার (২০ মে) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকলাপাড়া এলাকার গুলশানারা নামে এক নারী।

এসময় আসমা খাতুন সাথীর শ্বশুর কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের কামাল হোসেন, বেতাই-চন্ডিপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন, চাঁদপুর গ্রামের আল আমিন, শাখারীদহ গ্রামের মিলন, কাপাশহাটিয়া গ্রামের তানজিলসহ প্রতারিত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া বিয়ের কাবিননামা বানিয়ে ব্লাকমেইল করে একাধিক যুবকের কাছ থেকে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এভাবে সে মর্জিনা খাতুনের কাছ থেকে ৫ লাখ, আল আমিনের কাছ থেকে দুই লাখ ও নিজের শ্বশুর কামালের কাছ থেকেই দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক সাথি।

ঝিনাইদহ আদালতের কতিপয় আইনজীবী,নারী কেলেংকারীর হোতা সদর উপজেলার বেড়াশুলা গ্রামের ইয়াসিন মন্ডলের ছেলে বিল্লাল হোসেন মহুরী ও ঝিনাইদহ সদর থানার সাবেক এক এসআই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।

চক্রটির মূলহোতা আসমা খাতুন সাথী বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া কাবিননামা ও কল রেকর্ড ফাঁসের হুমকি, ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, অর্থ লেনদেনের মিথ্যা ডকুমেন্ট তৈরি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন ও মামলা করছেন। ঝিনাইদহের বিভিন্ন আদালতে এমন ৭টি মামলা রয়েছে,যার প্রত্যেকটি ভুয়া।

স্বামী বিদেশ থাকলেও মসিউর রহমান, আল আমিন ও সিলেটের জনৈক যুবকের সঙ্গে বিয়ের ভুয়া অভিযোগ তুলে গর্ভবতীর জাল কাগজ তৈরি করে ধর্ষণ মামলা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

গুলশান আরা ও মর্জিনা খাতুন নামের দুই ভিকটিম অভিযোগ করেন, বারবার নিজের ঠিকানা পাল্টে, স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করে আসমা খাতুন সাথীর নেতৃত্বে চক্রটি বহু পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে। মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতিনিয়ত তারা টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাথী ও তার চক্রের ফাঁদে পড়ে বহু সংসার ভেঙে গেছে। অনেক পুরুষ মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নারীরা মামলার ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না।

এ পর্যন্ত ঠিকানা বদল করে প্রতারক আসমা খাতুন সাথী খুলনা ও ঝিনাইদহের আদালতে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ভুয়া অভিযোগে ৮টি মামলা দায়ের করেছে। এ বিষয়ে আসমা খাতুন সাথীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »