ভিয়েনা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার করা সকল অর্থ ফেরত আনা হবে- মেজর হাফিজ লালমোহনে সাবেক বিএনপির সভাপতি আনিচল মিয়া ও পৌর মেয়র কবির পাটোয়ারীর কবর জিয়ারত করলেন মেজর হাফিজ হবিগঞ্জে ধানের তুষের নিচে লুকানো ৩ কোটি টাকার ভারতীয় কসমেটিকস ও ঔষুধ জব্দ ভিয়েনায় ট্রামে গুলি করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের জেল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা বদ্ধপরিকর – নওগাঁর জনসভায় তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে লরিতে করে পালানোর সময় ২৩ বাংলাদেশী আটক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিষিদ্ধ জোন্স পাটগ্রামে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু ঝিনাইদহে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ নারী গ্রেফতার জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ভোলার লালমোহনে প্রধান শিক্ষক নেই ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, শিক্ষার গুণগতমান নিয়ে শঙ্কা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৪:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৩৭ সময় দেখুন

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: দ্বীপ জেলা ভোলার মধ্যবর্তী লালমোহন উপজেলা একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলায় বর্তমানে রয়েছে ২১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরমধ্যে ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এছাড়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে ৬৮টি। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক শূণ্য থাকায় ওইসব বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। শঙ্কা দেখা দিয়েছে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে। এছাড়াও দিন দিন বিদ্যালয়গুলোতে কমছে শিশুর সংখ্যা। লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রধান শিক্ষক নেই এমন কয়েকটি বিদ্যালয়ের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি আমাদের মতোই একজন সহকারী শিক্ষক। তাই অনেক ক্ষেত্রেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষককে বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে চরম ব্যাঘ পেতে হচ্ছে। অনেক সহকারী শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। যার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিগ্ন ঘটছে। তাই বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ণ খুবই জরুরি।

অপরদিকে প্রধান শিক্ষকহীন ওইসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা বলছেন, যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, তিনি মূলত ওই বিদ্যালয়েরই একজন সহকারী শিক্ষক। ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অফিসিয়াল কাজে অনেক সময়ই ব্যস্ত থাকেন। যার জন্য তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতে পারেন না। এছাড়া বিদ্যালয়েল অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরাও তার নির্দেশনা সঠিকভাবে মানছেন না। যার ফলে আমাদের বাচ্চাদের পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুত এসব বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ণ করে শিক্ষার গুণগত মান ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান মিলন জানান, আমাদের উপজেলার ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। যার জন্য সত্যিই প্রশাসনিক কর্মকা-সহ বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য আমরা এরইমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান শিক্ষক পদায়ণের জন্য তালিকা পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ ওই তালিকা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ণ করলেই বিদ্যালয়গুলোতে যে সমস্যা হচ্ছে তা কেটে যাবে। আশা করছি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ণ করবেন।

এই শিক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান, এছাড়া লালমোহন উপজেলায় এখনো ৬৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। আমরা সহকারী শিক্ষকের ওইসব পদ পূরণের জন্যও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছি। সামনে নতুন শিক্ষকের নিয়োগ হলেই উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নেই তা পূরণ হয়ে যাবে। আশা করছি এরপর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আর কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার করা সকল অর্থ ফেরত আনা হবে- মেজর হাফিজ

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভোলার লালমোহনে প্রধান শিক্ষক নেই ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, শিক্ষার গুণগতমান নিয়ে শঙ্কা

আপডেটের সময় ০৪:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: দ্বীপ জেলা ভোলার মধ্যবর্তী লালমোহন উপজেলা একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলায় বর্তমানে রয়েছে ২১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরমধ্যে ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে চলছে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এছাড়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে ৬৮টি। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক শূণ্য থাকায় ওইসব বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। শঙ্কা দেখা দিয়েছে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে। এছাড়াও দিন দিন বিদ্যালয়গুলোতে কমছে শিশুর সংখ্যা। লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রধান শিক্ষক নেই এমন কয়েকটি বিদ্যালয়ের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি আমাদের মতোই একজন সহকারী শিক্ষক। তাই অনেক ক্ষেত্রেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষককে বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে চরম ব্যাঘ পেতে হচ্ছে। অনেক সহকারী শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। যার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিগ্ন ঘটছে। তাই বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ণ খুবই জরুরি।

অপরদিকে প্রধান শিক্ষকহীন ওইসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা বলছেন, যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, তিনি মূলত ওই বিদ্যালয়েরই একজন সহকারী শিক্ষক। ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অফিসিয়াল কাজে অনেক সময়ই ব্যস্ত থাকেন। যার জন্য তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতে পারেন না। এছাড়া বিদ্যালয়েল অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরাও তার নির্দেশনা সঠিকভাবে মানছেন না। যার ফলে আমাদের বাচ্চাদের পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুত এসব বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ণ করে শিক্ষার গুণগত মান ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান মিলন জানান, আমাদের উপজেলার ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। যার জন্য সত্যিই প্রশাসনিক কর্মকা-সহ বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য আমরা এরইমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান শিক্ষক পদায়ণের জন্য তালিকা পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ ওই তালিকা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ণ করলেই বিদ্যালয়গুলোতে যে সমস্যা হচ্ছে তা কেটে যাবে। আশা করছি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ণ করবেন।

এই শিক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান, এছাড়া লালমোহন উপজেলায় এখনো ৬৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। আমরা সহকারী শিক্ষকের ওইসব পদ পূরণের জন্যও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছি। সামনে নতুন শিক্ষকের নিয়োগ হলেই উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নেই তা পূরণ হয়ে যাবে। আশা করছি এরপর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আর কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস