স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হেরেছে আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজের গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দারুণ ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। আন্তোনিও সানাব্রিয়া সমতা ফেরানোর পর প্যারাগুয়ের জয় এনে দেন ওমার আলদেরেতে। প্যারাগুয়ের মাঠ আসুনসিওনের দেল চাকো স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ম্যাচটি হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। অবশ্য হারের পরও পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রয়েছে লিওনেল মেসির দল।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচে পুরো সময়ই খেলেছেন মেসি। তবে দলের সেরা তারকাকে পুরো সময় খেলিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে অবশ্য প্রথম লিডের দেখা পেয়েছিল আর্জেন্টিনাই। ১১ মিনিটে বা পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ।
১৯ মিনিটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। প্রথমে গুস্তাভো গোমেজের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে ঠিকভাবে বিপদমুক্ত করতে না পারায় কয়েক জনের পা ঘুরে বল পেয়ে যান ভেলাসকেস। তার ক্রস থেকে অসাধারণ বাইসাইকেল কিকে বল জালে পাঠান সানাব্রিয়া। ছয় মিনিট পর লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন মেসি। ৪৪ মিনিটে মেসির শট ব্লক হলে পেয়ে যান আলভারেজ। তবে তার শট ধরতে সমস্যা হয়নি গোলরক্ষক রোবার্তো ফার্নান্দেজের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। গোমেজের ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক ডাইভিং হেডে দলকে এগিয়ে দেন আলদেরেতে। ৬৯ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ নষ্ট করেন রদ্রিগো ডি পল। ৭৯ মিনিটে মেসির দূরপাল্লার শট একজনের গায়ে লেগে বারপোস্ট ঘেঁষে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
এদিকে, অপর ম্যাচে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে গিয়ে আশা জাগালেও জয় বঞ্চিত থাকতে হয়েছে ব্রাজিলকে। ম্যাচে আক্রমণে গিয়ে বারবারই হতাশ করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও তার সতীর্থরা। নবম মিনিটে বক্সে বল নিয়ে ঢুকলেও ওয়ান অন ওয়ান পজিশনে শট নিতে ব্যর্থ হন ভিনি। গোলরক্ষকের বাধার মুখে পাস দেন রাফিনিয়াকে। তিনি বল বারের উপর উড়িয়ে মারেন। ১৪তম মিনিটে বক্সে গেরসন দারুণ এক জোরালো শট নিলেও সেটা লক্ষ্যে থাকেনি।
২২তম মিনিটে ভাগ্য সহায় না হওয়ায় সহজ গোল মিস হয় ভিনিসিয়ুসের। সতীর্থের পাস বক্সে পেয়ে পেনাল্টি এরিয়া থেকে পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে উইঙ্গার। সে বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও বারে লেগে ফিরে আসে। কয়েক সেকেন্ড পর বক্সের বাইরে থেকে নেয়া গেরসনের জোরালো শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে ফিরিয়ে দেন ভেনেজুয়েলার গোলরক্ষক রাফায়েল রোমো।
পাঁচ মিনিট পর ভুল পাস দিয়ে বিপদ প্রায় ডেকে এনে ছিলেন এডারসন। এগিয়ে এসে ওয়ান অন ওয়ান পজিশনে ভেনেজুয়েলার শট না ঠেকালে গোল প্রায় হজমই করে বসেছিল সেলেসাওরা। ৪০তম মিনিটে বক্সে দারুণ সুযোগ মিস করেন স্যাভিনিও। অনেক চেষ্টার পর ৪৩তম মিনিটে সফলতার মুখ দেখে ব্রাজিল। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে রাফিনিয়ার নেয়া বাঁকানো শট দুরূহ পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি রোমো।
তবে ব্রাজিলের সে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিরতির পর মাঠে নেমেই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। বক্সে স্যাভারিনোর পাস পেয়ে এগিয়ে এসে বুলেট গতির শট নেন তেলাসকো সেগোভিয়া। শট ফেরাবেন কী, গতির কাছেই পরাস্ত হন এডারসন। তবে ব্রাজিলকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন ভিনি। ৫৯তম মিনিটে বল নিয়ে বাঁ প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকার পথে ঝাপিয়ে পড়ে বাধা দেন ভেনেজুয়েলার গোলরক্ষক। ভিআর চেকে ফাউল ধরে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু স্পটকিক নিতে ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। যদিও তিনি আরেকবার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ফিরতি বলও জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।
১১ ম্যাচে ৫ জয় ও ২ ড্রয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত কনমেবল অঞ্চলের তৃতীয় সেরা দল ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সাতে অবস্থান ভেনেজুয়েলার। ১০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এনএল/আরএন