ভিয়েনা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পাখি মেরে পৈচাশিক আনন্দ পান লালমোহনের জামাল বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে ইরানের বুশেহর প্রদেশে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান ঝালকাঠিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন টাঙ্গাইলে বাসাইলে রাস্তার পাশে থেকে নবজাতক উদ্ধার চরফ্যাশনে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জরুরি ওষুধ বিতরণ প্রথমবারের মতো THE Impact Rankings 2026-এ স্থান পেল মাভাবিপ্রবি আপিল খারিজ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহাল রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

পপকর্ন বিক্রির আয়েই চলছে অসুস্থ মফিজের সংসার

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৫৩ সময় দেখুন
ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: ৪০ বছর বয়সী মো. মফিজ। বাঁশের সঙ্গে রশি পেঁছিয়ে পায়ে হেটে বিভিন্ন হাট-বাজারে পপকর্ন বিক্রি করেন তিনি। ওই পপকর্ন বিক্রির আয়েই চলছে তার সংসার। ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের করিমগঞ্জ এলাকার মাহমুদুল হক দালাল বাড়ির মৃত হজল হকের ছেলে মফিজ।
তিনি জানান, আগে এলাকায় মানুষের বাড়িতে গিয়ে নারিকেল গাছ পরিস্কার করে সংসার চালাতাম। এক বছর আগে অসাবধানতাবশত গাছ থেকে পড়ে আমার মেরুদন্ডের হাঁড় ও বাম হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় মানুষজনের সহযোগিতায় চিকিৎসা করি। চিকিৎসায় হাঁড় ভালো হলেও তারপর থেকে আর কোনো ভারি কাজ করতে পারছি না। তাই সংসার ও পেটের তাগিদে এখন বিভিন্ন বাজারে গিয়ে পপকর্ন বিক্রি করি।
মফিজ জানান, লালমোহন বাজার থেকে ভুট্টা কিনে বাড়িতে নিয়ে ভেজে পপকর্ন প্যাকেটে ভরে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করি। এই কাজে আমার স্ত্রী আমাকে সহায়তা করেন। ওই পপকর্ন নিয়ে প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে বিক্রি করি। বৃষ্টি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দিন বেচাকেনা কিছুটা কম হয়। বন্ধের দিনে ৫০ প্যাকেট পপকর্ন বিক্রি করতে পারি। যেদিন ভালো বেচাকেনা হয় সেদিন অন্তত একশত প্যাকেটের মতো বিক্রি করি। প্রতি প্যাকেট পপকর্ন ১০ টাকা করে বিক্রি করি। এই প্যাকেট প্রতি খরচ হয় ৬ টাকা। যার ফলে এক প্যাকেট বিক্রি করলে চার টাকার মতো লাভ হয়। এতে গড়ে প্রতিদিন তিনশত টাকার মতো লাভ হয়। যা দিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাসহ সংসার চালাচ্ছি। আমার দুই ছেলে রয়েছে। অভাবের কারণে তাদের তেমন পড়াতে পাড়িনি। যার জন্য তারা ঢাকায় গিয়ে এখন কাজ শিখছে। কাজ শেখার কারণে তারা সংসার চালাতে আপাতত কোনো টাকা দিতে পারছে না।
মফিজ আরো জানান, শুনেছি গরিবের জন্য সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমি এ পর্যন্ত কোনো সুবিধা পাইনি। আমার ঘরের ভিটা ছাড়া অন্য কোনো জমি বা সম্পত্তি নেই। আমি অসুস্থ্য, অসুস্থতার কারণে অনেক সময় শরীর যেন হাল ছেড়ে দেয়। তবুও পেটের তাগিদে এই অসুস্থ্য শরীর নিয়েই বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে পপকর্ন বিক্রি করি। সরকারিভাবে বা সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি আমাকে সহযোগিতা করে তাহলে আমার বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকান করতে পারতাম। তাতে পরিশ্রমও অনেক কম হবে। আর ওই দোকানের আয় দিয়েই এখনকার চেয়ে আরেকটু সুন্দরভাবে সংসার চালাতে পারবো।
এ বিষয়ে ধলীগৌরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমি এই ইউপি থেকে সদ্য চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। তবে মফিজকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদে তেমন কোনো বরাদ্দ নেই। তবে সামনে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো সুযোগ-সুবিধা আসলে মফিজকে তা প্রদানের চেষ্টা করবো।
জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস 
জনপ্রিয়

পাখি মেরে পৈচাশিক আনন্দ পান লালমোহনের জামাল

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

পপকর্ন বিক্রির আয়েই চলছে অসুস্থ মফিজের সংসার

আপডেটের সময় ১২:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: ৪০ বছর বয়সী মো. মফিজ। বাঁশের সঙ্গে রশি পেঁছিয়ে পায়ে হেটে বিভিন্ন হাট-বাজারে পপকর্ন বিক্রি করেন তিনি। ওই পপকর্ন বিক্রির আয়েই চলছে তার সংসার। ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের করিমগঞ্জ এলাকার মাহমুদুল হক দালাল বাড়ির মৃত হজল হকের ছেলে মফিজ।
তিনি জানান, আগে এলাকায় মানুষের বাড়িতে গিয়ে নারিকেল গাছ পরিস্কার করে সংসার চালাতাম। এক বছর আগে অসাবধানতাবশত গাছ থেকে পড়ে আমার মেরুদন্ডের হাঁড় ও বাম হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় মানুষজনের সহযোগিতায় চিকিৎসা করি। চিকিৎসায় হাঁড় ভালো হলেও তারপর থেকে আর কোনো ভারি কাজ করতে পারছি না। তাই সংসার ও পেটের তাগিদে এখন বিভিন্ন বাজারে গিয়ে পপকর্ন বিক্রি করি।
মফিজ জানান, লালমোহন বাজার থেকে ভুট্টা কিনে বাড়িতে নিয়ে ভেজে পপকর্ন প্যাকেটে ভরে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করি। এই কাজে আমার স্ত্রী আমাকে সহায়তা করেন। ওই পপকর্ন নিয়ে প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে বিক্রি করি। বৃষ্টি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দিন বেচাকেনা কিছুটা কম হয়। বন্ধের দিনে ৫০ প্যাকেট পপকর্ন বিক্রি করতে পারি। যেদিন ভালো বেচাকেনা হয় সেদিন অন্তত একশত প্যাকেটের মতো বিক্রি করি। প্রতি প্যাকেট পপকর্ন ১০ টাকা করে বিক্রি করি। এই প্যাকেট প্রতি খরচ হয় ৬ টাকা। যার ফলে এক প্যাকেট বিক্রি করলে চার টাকার মতো লাভ হয়। এতে গড়ে প্রতিদিন তিনশত টাকার মতো লাভ হয়। যা দিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাসহ সংসার চালাচ্ছি। আমার দুই ছেলে রয়েছে। অভাবের কারণে তাদের তেমন পড়াতে পাড়িনি। যার জন্য তারা ঢাকায় গিয়ে এখন কাজ শিখছে। কাজ শেখার কারণে তারা সংসার চালাতে আপাতত কোনো টাকা দিতে পারছে না।
মফিজ আরো জানান, শুনেছি গরিবের জন্য সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমি এ পর্যন্ত কোনো সুবিধা পাইনি। আমার ঘরের ভিটা ছাড়া অন্য কোনো জমি বা সম্পত্তি নেই। আমি অসুস্থ্য, অসুস্থতার কারণে অনেক সময় শরীর যেন হাল ছেড়ে দেয়। তবুও পেটের তাগিদে এই অসুস্থ্য শরীর নিয়েই বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে হেঁটে পপকর্ন বিক্রি করি। সরকারিভাবে বা সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি আমাকে সহযোগিতা করে তাহলে আমার বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকান করতে পারতাম। তাতে পরিশ্রমও অনেক কম হবে। আর ওই দোকানের আয় দিয়েই এখনকার চেয়ে আরেকটু সুন্দরভাবে সংসার চালাতে পারবো।
এ বিষয়ে ধলীগৌরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমি এই ইউপি থেকে সদ্য চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। তবে মফিজকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদে তেমন কোনো বরাদ্দ নেই। তবে সামনে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো সুযোগ-সুবিধা আসলে মফিজকে তা প্রদানের চেষ্টা করবো।
জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস