ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে চলছে তীব্র তাপদাহ। এই তীব্র তাপদাহের কারণে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে মাথা ব্যাথা, হাল্কা জ্বর ও বোমিটিং এবং ডায়েরিয়া রোগের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। এই তাপদাহের কারণে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমজীবি নিম্ন আয়ের মানুষ। পাশাপাশি স্বাস্থ বিভাগ দিনের বেলা তাপদাহের মধ্যে প্রয়োজন না পড়লে মানুষকে বাহিরে না বের হবার পরমার্শ দিচ্ছেন। তাপদাহের কারণে বিত্তশালী মানুষের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত একটু কম টাকা পয়সার মালিক তারাও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক দোকান থেকে কিস্তিতে বাসা/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসি সংযোজন করছেন।
ঝালকাঠি সিঙ্গার কোম্পানির শো-রুম সূত্রে জানা গেছে তাদের স্টোরে থাকা এসি ইতিমধ্যেই বিক্রি হচ্ছে এবং অন্যান্য কোম্পানিরও এসি বিক্রির হিড়িক পরেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১৫ দিনে শুধু ঝালকাঠি জেলা শহরেই ৩শতাধিক এসি নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভাগও অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ঝালকাঠির বিদ্যুৎ বিতরনকারী ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের অত্যাধিক লোড বেড়েছে এবং তীব্র গরমের বিষয়টি বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগ ইতিমধ্যে বন্ধ থাকা কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যহত রেখে এই চাপকে সামাল দিচ্ছে।
বুধবার সকাল ১০টায় ঝালকাঠি শহরের ব্যস্ততম ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় স্বাস্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে তার কার্যালয়ে জনবল নিয়ে মাঠে নেমেছেন। একাধারে তীব্র তাপদাহের বিষয়ে সতর্কবাতা প্রচার করা হচ্ছে এবং অন্যদিকে রিক্সা চালকসহ রাস্তাঘাটে চলাচলকারী বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষদের পানীয় ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছেন।
সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম জহিরুল ইসলাম জানান, বুধবার এই কর্মসূচি পালনকালে ৩ হাজার মানুষকে পানীয় ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে। এসময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালীসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবকরাও এই কাজে সহযোগিতা করেছেন।
বাধন রায়/ইবিটাইমস