ভিয়েনা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষ্ণ সাগরে দুইটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা পাকিস্তান মানবিক সাহায্যের জন্য আফগান সীমান্ত খুলে দিতে পারে বুলগেরিয়ান সীমান্তে তিন মিশরীয় অনিয়মিত অভিবাসী প্রত্যাশী কিশোরের মৃত্যু ইন্দোনেশিয়য় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেন শান্তি পরিকল্পনার আলোচকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন – ভলোদিমির জেলেনস্কি অস্ট্রিয়ার আগামী বাজেট ঘাটতি পেনশন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে মাভাবিপ্রবিতে পরিবেশ বিষয়ক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে : সিইসি

বিয়ের দাবিতে অনশন প্রেমিক, পরিবারের হুমকী-ধামকী, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে জান্নাত

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৬:৪২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • ২০ সময় দেখুন

চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ প্রেমিক মিজানুর রহমান তৈয়বের পরিবারের লোকজনের হুমকী-ধামকীতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন ইডেন কলেজের সাবেক ছাত্রী জান্নাত।

গত ১২ মে বিয়ের দাবীতে ঢাকা থেকে এসে ভোলার চরফ্যাসনের ওমরপুর ইউনিয়নের আলীগাও গ্রামে প্রেমিক মিজানুর রহমান তৈয়বের বাবা মুজাম্মেল হাওলাদারের ঘরে অবস্থান করছেন জান্নাত। গত ১০দিনে থানা পুলিশের হাতঘুরে জান্নাত এখন বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতেই অবস্থান করছেন। কিন্ত দীর্ঘ এই সময়ে কোন সুরাহা যেমন হয়নি তেমনি বাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দিতে অব্যহত ভাবে হুমকী-ধামকী দেয়া হচ্ছে। ফলে জান্নাত এখন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

জানাগেছে, ঢাকা মীরপুরের বাসিন্দা জান্নাত ইডেন কলেজ থেকে অনার্স মাষ্টার্স করে ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করছেন। দেড় বছর আগে একটি চাকুরীর পরীক্ষা দিতে গিয়ে মিজানুর রহমান তৈয়বের সাথে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের জের ধরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকুরী হলে মিজান তাকে বিয়ে করবেন এমন আশ্বাসে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তিনমাস আগে মিজানের তিতাস গ্যাস কোম্পানীতে চাকুরী হয়। এর পর থেকে সাদিয়াকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে মিজান। তার মোবাইল নম্বর, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ সহ সবকিছুতে বøক করে দেয়। ফলে গত ১২ মে ঢাকা থেকে মিজানুর রহমান তৈয়বের চরফ্যাসনের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করে।

ওই দিন চরফ্যাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থল তৈয়রের বাড়ি থেকে সাদিয়া জান্নাতকে সমঝোতার কথা বলে চরফ্যাসন থানায় নিয়ে আসেন। ওই সময় পুলিশ মিজানুর রহমান তৈয়বের দুই ভাই- আইয়ুব ও রাশেদকে আটক করে থানায় নিয়ে নিয়ে আসে। পরে মিজানকে উপস্থিত করার শর্তে তাদের মুছলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের এই তৎপরতার ফলে ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মিজানের সাথে তার বিয়ের কথাও হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনেও মিজান উপস্থিত হননি। ফলে থানা পুলিশ এবং স্থানীয়দের সমঝোতার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে জান্নাত ১৮ মে আবারও মিজানুর রহমান তৈয়বের বাড়িতে অবস্থান নেন এবং অনশন শুরু করেন।

জান্নাত বলেন, নিরূপায় হয়ে তিনি ওই বাড়িতে এসেছেন। বিয়ে করা ছাড়া তার দ্বিতীয় কোন পথ নেই। বিয়ের না হওয়া পর্যন্ত তিনি মিজানের বাড়িতেই অবস্থান করবেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, এই বাড়িতে অবস্থান করায় মিজানের পরিবারের লোকজন তাকে হুমকী-ধামকী দিতে শুরু করেছেন। অব্যহত হুমকী-ধামকীতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

চরফ্যান থাকার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরিন হক বিষয়টি মিমাংসার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় জান্নাত এখন মিজানুর রহমান তৈয়বের বাবার জিম্মায় ওই বাড়িতেই আছেন। তাকে হুমকী-ধামকীর বিষয়ে তিনি(জান্নাত) পুলিশকে অবহিত করেননি। তবে তিনি অভিযোগ করলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে মিজানুর রহমান তৈয়বের বাবা মোজাম্মেল হক হাওলাদার বলেছেন, এটা ছেলে-মেয়ের বিষয়। মেয়েটি বাড়ি আসার আগ পর্যন্ত তিনি কিছুই জানতেন না। মেয়েকে হুমকী-ধামকীর বিষয় তিনি অস্বীকার করেছেন।

শহিদুল ইসলাম জামাল/ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

কৃষ্ণ সাগরে দুইটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

বিয়ের দাবিতে অনশন প্রেমিক, পরিবারের হুমকী-ধামকী, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে জান্নাত

আপডেটের সময় ০৬:৪২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ প্রেমিক মিজানুর রহমান তৈয়বের পরিবারের লোকজনের হুমকী-ধামকীতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন ইডেন কলেজের সাবেক ছাত্রী জান্নাত।

গত ১২ মে বিয়ের দাবীতে ঢাকা থেকে এসে ভোলার চরফ্যাসনের ওমরপুর ইউনিয়নের আলীগাও গ্রামে প্রেমিক মিজানুর রহমান তৈয়বের বাবা মুজাম্মেল হাওলাদারের ঘরে অবস্থান করছেন জান্নাত। গত ১০দিনে থানা পুলিশের হাতঘুরে জান্নাত এখন বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতেই অবস্থান করছেন। কিন্ত দীর্ঘ এই সময়ে কোন সুরাহা যেমন হয়নি তেমনি বাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দিতে অব্যহত ভাবে হুমকী-ধামকী দেয়া হচ্ছে। ফলে জান্নাত এখন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

জানাগেছে, ঢাকা মীরপুরের বাসিন্দা জান্নাত ইডেন কলেজ থেকে অনার্স মাষ্টার্স করে ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরী করছেন। দেড় বছর আগে একটি চাকুরীর পরীক্ষা দিতে গিয়ে মিজানুর রহমান তৈয়বের সাথে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের জের ধরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকুরী হলে মিজান তাকে বিয়ে করবেন এমন আশ্বাসে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। তিনমাস আগে মিজানের তিতাস গ্যাস কোম্পানীতে চাকুরী হয়। এর পর থেকে সাদিয়াকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে মিজান। তার মোবাইল নম্বর, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ সহ সবকিছুতে বøক করে দেয়। ফলে গত ১২ মে ঢাকা থেকে মিজানুর রহমান তৈয়বের চরফ্যাসনের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করে।

ওই দিন চরফ্যাসন থানা পুলিশ ঘটনাস্থল তৈয়রের বাড়ি থেকে সাদিয়া জান্নাতকে সমঝোতার কথা বলে চরফ্যাসন থানায় নিয়ে আসেন। ওই সময় পুলিশ মিজানুর রহমান তৈয়বের দুই ভাই- আইয়ুব ও রাশেদকে আটক করে থানায় নিয়ে নিয়ে আসে। পরে মিজানকে উপস্থিত করার শর্তে তাদের মুছলেকা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের এই তৎপরতার ফলে ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মিজানের সাথে তার বিয়ের কথাও হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনেও মিজান উপস্থিত হননি। ফলে থানা পুলিশ এবং স্থানীয়দের সমঝোতার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে জান্নাত ১৮ মে আবারও মিজানুর রহমান তৈয়বের বাড়িতে অবস্থান নেন এবং অনশন শুরু করেন।

জান্নাত বলেন, নিরূপায় হয়ে তিনি ওই বাড়িতে এসেছেন। বিয়ে করা ছাড়া তার দ্বিতীয় কোন পথ নেই। বিয়ের না হওয়া পর্যন্ত তিনি মিজানের বাড়িতেই অবস্থান করবেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, এই বাড়িতে অবস্থান করায় মিজানের পরিবারের লোকজন তাকে হুমকী-ধামকী দিতে শুরু করেছেন। অব্যহত হুমকী-ধামকীতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।

চরফ্যান থাকার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরিন হক বিষয়টি মিমাংসার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় জান্নাত এখন মিজানুর রহমান তৈয়বের বাবার জিম্মায় ওই বাড়িতেই আছেন। তাকে হুমকী-ধামকীর বিষয়ে তিনি(জান্নাত) পুলিশকে অবহিত করেননি। তবে তিনি অভিযোগ করলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে মিজানুর রহমান তৈয়বের বাবা মোজাম্মেল হক হাওলাদার বলেছেন, এটা ছেলে-মেয়ের বিষয়। মেয়েটি বাড়ি আসার আগ পর্যন্ত তিনি কিছুই জানতেন না। মেয়েকে হুমকী-ধামকীর বিষয় তিনি অস্বীকার করেছেন।

শহিদুল ইসলাম জামাল/ইবিটাইমস