ঢাকা প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্বস্থ করেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং কেউ তা ঠেকাতে পারবে না। তিনি আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত চক্রের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, খুনিদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনিদের সঙ্গে কোনো সংলাপ বা আলোচনা হবে না এবং বাংলাদেশের জনগণও তা চায় না। আর আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং কেউ তা ঠেকাতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গণবভনে তাঁর সাম্প্রতিক বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন। গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে যোগদানের জন্য ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবর এই সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা কাজ করবে। তিনি বলেন, আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মন্ত্রিসভা তাদের রুটিন কাজ করবে এবং মন্ত্রীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারণার সময় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) পুলিশ হাসপাতালেও হামলা করেছে এবং সেখানেও ইসরাইলিদের মতো (ফিলিস্তিনের ওপর হামলা) মানুষ হত্যা করেছে।’ ‘বিএনপি ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই কারণ হামলার বর্বরতা একই ছিল,’ যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশকে হত্যা, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমি বলব এসব কাজ থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত। এতে রাজনৈতিক ভাবে তাদেরই ক্ষতি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, আর নির্বাচনের ব্যাপারে যেটা আমার ধারণা, এরা আসলে নির্বাচন চায় না। এরা একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরী করতে চায়। তিনি এসব সন্ত্রাসিদের উচিত শিক্ষা দেওয়াও প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন। বিশেষ ট্রাইব্যুনালের অধীনে তাদের বিচারের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা আলোচনা করব। তিনি বলেন, ‘তারা জঘন্য কাজ বন্ধ না করলে তাদের এই ধরনের অপরাধমূলক কাজের পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
এরআগে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত ভাষণে তাঁর ব্রাসেলস সফরকে ‘অত্যন্ত সফল’ উল্লেখ করে বলেন, “এই সফরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে অংশীদারিত্ব একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এনএল