ভিয়েনা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শাহপরান ফেরি থেকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ৪ জন আটক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি, চূড়ান্ত চুক্তি এখনো দূরে: ইরানের স্পিকার বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় রাত ৩টা পর্যন্ত অফিসিয়াল কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ভিয়েনা সিটি ম্যারথনে যে সমস্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে ডাঃ আজাহার উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরার উদ্বোধন টাঙ্গাইলে ঝিনাই নদীর উপর ব্রিজের উদ্বোধন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মাদারীপুরে হাউসদী বাজারে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি ইরানের ইউরেনিয়াম ‘যুক্তরাষ্ট্রে’ আনা হবে: ট্রাম্প আংশিকভাবে আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান

বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বৃহত্তর বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৮:৩০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩
  • ৬২ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আইসিটি এবং অবকাঠামো খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বৃহত্তর বিনিয়োগের  আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার  বিশ্বাস মার্কিন কোম্পানিগুলো  বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইসিটি, অবকাঠামো, হালকা প্রকৌশল এবং ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সিরামিকের মতো সম্ভাব্য এবং উৎপাদনশীল খাতে আরও বেশি সুবিধা নেবে এবং বিনিয়োগ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ‘ইউএস- বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে দেয়া প্রারম্ভিক ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব পারস্পরিকভাবে উভয় দেশের জন্য সহায়ক  এবং দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস অত্যন্ত  গভীরে প্রোথিত। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদারদের একজন এবং আমাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের জন্য এফডিআই এবং রপ্তানি বাজারের একক বৃহত্তম উৎস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর প্রবৃদ্ধির গতিপথকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করছে। এ্ই টেকসই কৌশল  বিশ্ব অর্থনীতিবিদ ও সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে।  তিনি আরও বলেন, তাঁরা এখন আগের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ  স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায়  প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকায় আমাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগ নীতিকে সহজ করতে এবং এটিকে আপনাদেও জন্য  সহায়ক  করতে  আমি সর্বোত্তম সম্ভাব্য নীতি কাঠামোর বিষয়ে আশ্বস্ত করতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ এনার্জি টাস্কফোর্স এবং ইউএস-বাংলাদেশ ডিজিটাল ইকোনমি টাস্কফোর্স তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে উভয় দেশের কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা আরও গভীর করতে অবদান রাখবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করেছে যার মধ্যে রয়েছে একটি উদারীকৃত শিল্পনীতি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, ১০০% বিদেশী মালিকানার জন্য ভাতা, সহজ প্রস্থান নীতি, ১৫ বছরের কর অব্যাহতি, আমদানি করা যন্ত্রপাতির জন্য ভ্যাট অব্যাহতি, সুগমিত পরিষেবা এবং আরও অনেক কিছু। তিনি বলেন, শিল্পায়নের সুবিধার্থে তাঁরা সারাদেশে ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ১০৯টি হাই-টেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং আইটি প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি বলেন, গত বছর চালু হওয়া পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা শিগগিরই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকায় মেট্রো রেলের অংশ বিশেষ  এবং চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেলের মতো আরও কিছু মেগা প্রজেক্ট চালু করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই অবকাঠামোগুলো  সংযোগ এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উভয়কেই আরও প্রসারিত করবে, একইভাবে প্রবৃদ্ধির জন্য অনুঘটক হিসাবেও কাজ করবে।’ ১৭০ মিলিয়ন মানুষের বাজার উল্লেখ করে  তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় তিন বিলিয়ন গ্রাহকের বাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। তিনি আরো বলেন, এ কারণেই  তাঁর সরকার  প্রতিবেশীদের সাথে কানেকটিভিটির ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে এবং , যা বর্তমানে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ এশিয়া ইউ.এস. চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ, এক্সেলারেট এনার্জি (বোর্ড চেয়ার এবং মিশন প্রধান) সভাপতি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোস অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ডেস্ক/ইবিটাইমস/ এনএল

জনপ্রিয়

শাহপরান ফেরি থেকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ৪ জন আটক

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বৃহত্তর বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময় ০৮:৩০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩

ইবিটাইমস ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আইসিটি এবং অবকাঠামো খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বৃহত্তর বিনিয়োগের  আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার  বিশ্বাস মার্কিন কোম্পানিগুলো  বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইসিটি, অবকাঠামো, হালকা প্রকৌশল এবং ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সিরামিকের মতো সম্ভাব্য এবং উৎপাদনশীল খাতে আরও বেশি সুবিধা নেবে এবং বিনিয়োগ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (২৯ আগষ্ট) সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ‘ইউএস- বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে দেয়া প্রারম্ভিক ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব পারস্পরিকভাবে উভয় দেশের জন্য সহায়ক  এবং দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস অত্যন্ত  গভীরে প্রোথিত। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদারদের একজন এবং আমাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের জন্য এফডিআই এবং রপ্তানি বাজারের একক বৃহত্তম উৎস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর প্রবৃদ্ধির গতিপথকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করছে। এ্ই টেকসই কৌশল  বিশ্ব অর্থনীতিবিদ ও সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে।  তিনি আরও বলেন, তাঁরা এখন আগের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ  স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায়  প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকায় আমাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগ নীতিকে সহজ করতে এবং এটিকে আপনাদেও জন্য  সহায়ক  করতে  আমি সর্বোত্তম সম্ভাব্য নীতি কাঠামোর বিষয়ে আশ্বস্ত করতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউএস-বাংলাদেশ এনার্জি টাস্কফোর্স এবং ইউএস-বাংলাদেশ ডিজিটাল ইকোনমি টাস্কফোর্স তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে উভয় দেশের কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা আরও গভীর করতে অবদান রাখবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করেছে যার মধ্যে রয়েছে একটি উদারীকৃত শিল্পনীতি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, ১০০% বিদেশী মালিকানার জন্য ভাতা, সহজ প্রস্থান নীতি, ১৫ বছরের কর অব্যাহতি, আমদানি করা যন্ত্রপাতির জন্য ভ্যাট অব্যাহতি, সুগমিত পরিষেবা এবং আরও অনেক কিছু। তিনি বলেন, শিল্পায়নের সুবিধার্থে তাঁরা সারাদেশে ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ১০৯টি হাই-টেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং আইটি প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি বলেন, গত বছর চালু হওয়া পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা শিগগিরই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকায় মেট্রো রেলের অংশ বিশেষ  এবং চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেলের মতো আরও কিছু মেগা প্রজেক্ট চালু করতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই অবকাঠামোগুলো  সংযোগ এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উভয়কেই আরও প্রসারিত করবে, একইভাবে প্রবৃদ্ধির জন্য অনুঘটক হিসাবেও কাজ করবে।’ ১৭০ মিলিয়ন মানুষের বাজার উল্লেখ করে  তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় তিন বিলিয়ন গ্রাহকের বাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। তিনি আরো বলেন, এ কারণেই  তাঁর সরকার  প্রতিবেশীদের সাথে কানেকটিভিটির ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে এবং , যা বর্তমানে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ এশিয়া ইউ.এস. চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ, এক্সেলারেট এনার্জি (বোর্ড চেয়ার এবং মিশন প্রধান) সভাপতি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোস অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ডেস্ক/ইবিটাইমস/ এনএল