ইবিটাইমস ডেস্কঃ শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না তিনি। একাধারে একজন সাহিত্যিক, কলামিস্ট, নাট্যকার। অভিনেতা হিসেবেও তার প্রতিভার স্বাক্ষর সমাদৃত । তিনি হানাহানির রাজনীতিকে কখনো প্রশ্রয় দেননি। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক। সমাজের অবহেলিত মানুষের উন্নয়নের জন্য তিনি বন্ধুজনের মতো একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান করে মানবসেবা করেছেন। তিনি ছিলেন ভোলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে আলোকিত একজন।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তিনি ছিলেন ভোলার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সংগঠক ও নেতা। ভোলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সভাপতিও ছিলেন তিনি। তিনি মোশারেফ হোসেন শাজাহান। মোশারেফ হোসেন শাজাহান ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা লেভেলের রাজনীতিক। যদিও আওয়ামীলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন তিনি। ভোলা-১ ও ভোলা -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ভোলা থেকে মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি প্রাক্তন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
মোশারেফ হোসেন শাজাহান ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে ভোলা জেলা সদরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আলতাজের রহমান তালুকদার ও মাতা মাসুমা খাতুন।
তিনি নাটক, সাংবাদিকতা, আবৃত্তি, ফটোগ্রাফিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। ছাত্রাবস্থায়ই রচনা করেন নাটক ‘নীড় ভাঙা ঝড়’। সেই নাটকে তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন। ভোলা থেকে পাকিস্তান আমলে ‘পাক্ষিক মেঘনা পত্রিকা’ প্রকাশ করেছিলেন।
তার উদ্যোগে ১৯৬৮ সালে সর্ব প্রথম ভোলা প্রেসক্লাবব প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি সেই প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালের তিনিই সর্বপ্রথম সাপ্তাহিক ভোলাবাণী প্রকাশের উদ্যোগ নেন।
এষণা, স্মৃতির ধুলায় পথিক, স্বপ্নের দ্বীপ প্রলয়ের দ্বীপ, চরকলমির সুখদুঃখ.. তা্ঁর অবিস্মরণীয় সাহিত্যকর্ম। ১৯৬৫ সালে মাত্র সাড়ে ২৫ বছর বয়সে এমপি নির্বাচিত হয়ে সম্পৃক্ত হন রাজনীতির সাথে। ভোলার ১ম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ছিলেন।
জিয়াউর রহমানের দলটি প্রতিষ্ঠার পরপরই শাজাহান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তিনি বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন । প্রেসিডেন্ট জিয়া তাকে উপমন্ত্রীর মর্যাদায় বৃহত্তর বরিশালের জেলা উন্নয়ন সমন্বয়কারী মনোনীত করেন।
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় তাকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
বহুমুখী সমাজসেবক ও সাহিত্যিক মোশারেফ হোসেন শাজাহান ৫ মে ২০১২ ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার স্ত্রী , এক ছেলে, তিন মেয়ে ও ২ ভাইসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।
ইউরো বাংলা টাইমস পরিবারের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। মহান রাব্বুল আলামিন এই মহান নেতা কে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন, আমিন।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এম আর

























