ভিয়েনা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বগুড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১ বাংলাদেশ থেকে ৪ সেক্টরে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু ঝিনাইদহে ধান উড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রী নিহত লালমোহনে ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত, সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী মাভাবিপ্রবিতে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত পদত্যাগের পথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এমপি আমির হামজাকে আদালতে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ইউরোপের আলোচনা

ভোলার বৃদ্ধাশ্রমে ভালো নেই বাবারা, সন্তানদের কথা মনে করে কেদে সময় পার করেন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩
  • ৭৮ সময় দেখুন

 মনজুর রহমান, ভোলা থেকে: কান্না জড়িত কন্ঠে  নির্মম গল্পের কথা শুনান দ্বীপ জেলা  ভোলার বৃদ্ধ নিবাসে বসবাসরত অসহায় বাবারা।ছেলে সন্তানের কথা করলে কেউ ভালো নেই। বৃদ্ধ নিবাস থেকে তাদের তিন বেলা খাবার দেয়া হলেও স্বজন থেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে। এমন কষ্ট আর অসহায়ত্বের কথা কারো কাছে বলতে পারছেন না। তবুও সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই তাদের।

বৃদ্ধ নিবাসের বাসিন্দা বৃদ্ধ বাবাদের এমনি গল্প। যা অত্যান্ত নির্মম বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে বাবাদের যেন এভাবে রাখা না হয়, সন্তানদের প্রতি সেই অনুরোধ সচেতন মহলের।

নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডশনের অর্থায়নে পরিচালিত ভোলা সদরের পৌর কাঠালির বৃদ্ধ নিবাসে গিয়ে জানা গেছে,  সদরের আলীনগর গ্রামের সামসল হক। সন্তানের ঘরে আশ্রয় হয়নি তার। সময় কাটেনা তাই  ৮৫ বছর বয়সেও নিপুন হাতে জাল বুনছেন। এ জাল কোন কাজে আসবে কিনা তা জানা নেই সামসল হকের। সন্তানদের বুকে আগলে রেখেছিলেন। সেই স্মৃতি মনে করে কাদলেও অস্পষ্ট স্বরে ছেলের প্রতি কোন অভিমান নেই তার।

সামসুল হক বলেন, তার ৬ মেয়ে এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ঘরে আছে পুত্রবধু। কিন্তু তার আচারন সন্তোষজনক না, তার পরেও কোন অভিযোগ নেই তার। বললেন, এখানেই ভালো আছেন তিনি। সন্তানের প্রতি কোন অভিমান নেই।

আরেক বাবা আঃ রশিদ। ছেলেকে বৃদ্ধাশ্রমে এসে দেখা করতে নিষেদ করেছেন। বললেন, ছেলের সম্মানের কথা বিবেচনা করেই আসতে নিষেধ করা হয়েছে। চাপা কষ্ট বুকে চেপে রেখে   বললেন বৃদ্ধাশ্রমে ভালো আছেন তিনি।

আঃ রশিদ বলেন, আমার কেন অভাব নেই। তারপরেও এখানে থাকি। মাঝে মধ্যে বাড়িতে যাই সবার সাথে দেখা করতে।

শুধু সামসল হক কিংবা আঃ রশিদ নয়, তাদের মত  একই অবস্থা যেন আঃ মন্নান ও ইউনুস সহ অন্য বাবাদের। যাদের বৃদ্ধশ্রমে আসার গল্পটা ভিন্ন হলেও পরিনতি যেন একই।

এ বৃদ্ধনিবাসে এ থাকেন ১৭ জন বৃদ্ধ বাবা। খাবার-সেবা যত্ন নিয়মিত চললেও সন্তানদের কথা মনে করে কাঁদের তারা। পরিবার থেকেই যেন নেই তাদের। কেউ খোঁজ নেয়না। সন্তানদের লালন পালন করেছেন সেই সন্তনরা আজ আলাদা। কেউ অভাবের তাড়নায় কেউ বা ভরনপোষনের দায় এড়াতে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছেন বাবাদের।

ভেলা সদরের ভেদুরিয়া গ্রামের আরেক বাবা আঃ মান্নান। ৬ ছেলে রয়েছে। তাদের কেউ  চট্রগ্রাম কেউবা ঢাকায়  থাকেন। এক ছেলে বাসায় ঠাই হয়েছে তার স্ত্রীর। কিন্তু থাকেন বৃদ্ধাশ্রমে একা। পরিবার থেকে আলাদা।  কেউ খোজ নেয় না। স্ত্রী-সন্তানদের কথা মনে করে নিরবে কাদেন।

বৃদ্ধাশ্রমে বাবারা এমন  দুর্বিসহ দিন কাটালেও স্বজনরা তাদের দেখা করতে আসেন না বলে জানালেন বৃদ্ধাশ্রমের ম্যানেজার সালেহ উদ্দিন সেলিম জানান, এভাবে সন্তানদের দুরে ঠেলে দেয়া ঠিক না। প্রত্যেক সন্তানদের উচিত তাদের সন্তানদের কাছে রাখা। এমন দিন আসবে তারাও বৃদ্ধ হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ৫০ শয্যার এ বৃদ্ধ নিবাস প্রতিষ্ঠিত হয়। রুতে ৫০ জন বাবার আশ্রয় হলেও বিভিন্ন সময়ে প্রিয়জন রেখে এখানেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাবারা।

ভোলা /ইবিটাইমস 

জনপ্রিয়

বগুড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভোলার বৃদ্ধাশ্রমে ভালো নেই বাবারা, সন্তানদের কথা মনে করে কেদে সময় পার করেন

আপডেটের সময় ০৫:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩

 মনজুর রহমান, ভোলা থেকে: কান্না জড়িত কন্ঠে  নির্মম গল্পের কথা শুনান দ্বীপ জেলা  ভোলার বৃদ্ধ নিবাসে বসবাসরত অসহায় বাবারা।ছেলে সন্তানের কথা করলে কেউ ভালো নেই। বৃদ্ধ নিবাস থেকে তাদের তিন বেলা খাবার দেয়া হলেও স্বজন থেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে। এমন কষ্ট আর অসহায়ত্বের কথা কারো কাছে বলতে পারছেন না। তবুও সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই তাদের।

বৃদ্ধ নিবাসের বাসিন্দা বৃদ্ধ বাবাদের এমনি গল্প। যা অত্যান্ত নির্মম বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে বাবাদের যেন এভাবে রাখা না হয়, সন্তানদের প্রতি সেই অনুরোধ সচেতন মহলের।

নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডশনের অর্থায়নে পরিচালিত ভোলা সদরের পৌর কাঠালির বৃদ্ধ নিবাসে গিয়ে জানা গেছে,  সদরের আলীনগর গ্রামের সামসল হক। সন্তানের ঘরে আশ্রয় হয়নি তার। সময় কাটেনা তাই  ৮৫ বছর বয়সেও নিপুন হাতে জাল বুনছেন। এ জাল কোন কাজে আসবে কিনা তা জানা নেই সামসল হকের। সন্তানদের বুকে আগলে রেখেছিলেন। সেই স্মৃতি মনে করে কাদলেও অস্পষ্ট স্বরে ছেলের প্রতি কোন অভিমান নেই তার।

সামসুল হক বলেন, তার ৬ মেয়ে এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ঘরে আছে পুত্রবধু। কিন্তু তার আচারন সন্তোষজনক না, তার পরেও কোন অভিযোগ নেই তার। বললেন, এখানেই ভালো আছেন তিনি। সন্তানের প্রতি কোন অভিমান নেই।

আরেক বাবা আঃ রশিদ। ছেলেকে বৃদ্ধাশ্রমে এসে দেখা করতে নিষেদ করেছেন। বললেন, ছেলের সম্মানের কথা বিবেচনা করেই আসতে নিষেধ করা হয়েছে। চাপা কষ্ট বুকে চেপে রেখে   বললেন বৃদ্ধাশ্রমে ভালো আছেন তিনি।

আঃ রশিদ বলেন, আমার কেন অভাব নেই। তারপরেও এখানে থাকি। মাঝে মধ্যে বাড়িতে যাই সবার সাথে দেখা করতে।

শুধু সামসল হক কিংবা আঃ রশিদ নয়, তাদের মত  একই অবস্থা যেন আঃ মন্নান ও ইউনুস সহ অন্য বাবাদের। যাদের বৃদ্ধশ্রমে আসার গল্পটা ভিন্ন হলেও পরিনতি যেন একই।

এ বৃদ্ধনিবাসে এ থাকেন ১৭ জন বৃদ্ধ বাবা। খাবার-সেবা যত্ন নিয়মিত চললেও সন্তানদের কথা মনে করে কাঁদের তারা। পরিবার থেকেই যেন নেই তাদের। কেউ খোঁজ নেয়না। সন্তানদের লালন পালন করেছেন সেই সন্তনরা আজ আলাদা। কেউ অভাবের তাড়নায় কেউ বা ভরনপোষনের দায় এড়াতে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছেন বাবাদের।

ভেলা সদরের ভেদুরিয়া গ্রামের আরেক বাবা আঃ মান্নান। ৬ ছেলে রয়েছে। তাদের কেউ  চট্রগ্রাম কেউবা ঢাকায়  থাকেন। এক ছেলে বাসায় ঠাই হয়েছে তার স্ত্রীর। কিন্তু থাকেন বৃদ্ধাশ্রমে একা। পরিবার থেকে আলাদা।  কেউ খোজ নেয় না। স্ত্রী-সন্তানদের কথা মনে করে নিরবে কাদেন।

বৃদ্ধাশ্রমে বাবারা এমন  দুর্বিসহ দিন কাটালেও স্বজনরা তাদের দেখা করতে আসেন না বলে জানালেন বৃদ্ধাশ্রমের ম্যানেজার সালেহ উদ্দিন সেলিম জানান, এভাবে সন্তানদের দুরে ঠেলে দেয়া ঠিক না। প্রত্যেক সন্তানদের উচিত তাদের সন্তানদের কাছে রাখা। এমন দিন আসবে তারাও বৃদ্ধ হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ৫০ শয্যার এ বৃদ্ধ নিবাস প্রতিষ্ঠিত হয়। রুতে ৫০ জন বাবার আশ্রয় হলেও বিভিন্ন সময়ে প্রিয়জন রেখে এখানেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাবারা।

ভোলা /ইবিটাইমস