ভারতের প্রথম মহিলা আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হয়ে ইতিহাসে নাম লেখালেন দ্রৌপদী মুর্মু

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জিতলেন তিনি। আগামী ২৫ জুলাই ২০২২ সালে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে সমগ্র ভারতের নজর ছিল এই নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। যদিও প্রত্যাশার মতোই ফলাফল পাওয়া গেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত।

গত বৃহস্পতিবার(২০ জুলাই)সকাল এগোরাটা থেকে গণনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানা যায়, মার্জিনে বিরোধী প্রার্থী যশবন্ত সিনহাকে হারিয়ে ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হলেন দ্রৌপদী মুর্মু। ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথম আদিবাসী মহিলা, শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মূ রাষ্ট্রপতি রূপে নির্বাচিত
হওয়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসীরা তাদের আনন্দ প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

৫০ শতাংশের বেশি ভোটে জয় পান দ্রৌপদী মুর্মু। বিজেপি সূত্রে খবর, দলের দিল্লীর সদর দপ্তরেও দ্রৌপদীর জয় উদযাপনের আয়োজন চলছে। সব রাজ্য পার্টিকেও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর দলীয় দফতরে মিষ্টিমুখ কর্মসূচি পালন করতে।

দ্রৌপদী মুর্মু ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলার বাইদাপোসি গ্রামে বিরাঞ্চি নারায়ণ টুডুর কাছে একটি সাঁওতালি উপজাতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তার বাবা এবং দাদা উভয়েই পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার অধীনে গ্রামের প্রধান ছিলেন।

দ্রৌপদী মুর্মু শ্যাম চরণ মুর্মুকে বিয়ে করেছিলেন। এই দম্পতির দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। তাদের উভয় ছেলে মারা গেছে এবং মেয়ে সন্তান এখনও বেঁচে
আছেন।

রাজ্য রাজনীতিতে আসার আগে মুর্মু একজন স্কুল শিক্ষক হিসাবে শুরু করেছিলেন। তিনি শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, রায়রঙ্গপুর এর একজন সহকারী অধ্যাপক এবং ওড়িশা সরকারের সেচ বিভাগে জুনিয়র সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

মুর্মু ১৯৯৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন এবং রায়রঙ্গপুর নগর পঞ্চায়েতের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি তফসিলি উপজাতি মোর্চার জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন।

ওড়িশায় ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বিজু জনতা দলের জোট সরকারের সময়, তিনি ৬ মার্চ, ২০০০ থেকে ৬ আগস্ট, ২০০২ পর্যন্ত বাণিজ্য ও পরিবহন এবং ৬ আগস্ট, ২০০২ থেকে ১৬ মে ২০০৪ পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ উন্নয়নের স্বাধীন দায়িত্বের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ওড়িশার প্রাক্তন মন্ত্রী এবং ২০০৪ এবং ২০০৪ সালে রায়রঙ্গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একজন বিধায়ক। ২০০৭ সালে ওড়িশা বিধানসভা দ্বারা তিনি সেরা বিধায়কের জন্য নীলকণ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ছিলেন ঝাড়খণ্ডের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল। তিনি ওডিশা থেকে প্রথম মহিলা আদিবাসী নেত্রী যিনি ভারতীয় রাজ্যের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন।

তারপর তিনি ২০২২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের আনুষ্ঠানিক মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন পান। তিনি এর আগে ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের নবম রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওড়িশা রাজ্য থেকে আসা মুর্মু হলেন ঝাড়খণ্ডের প্রথম রাজ্যপাল যিনি পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন এবং প্রথম তফসিলি উপজাতির অন্তর্গত ব্যক্তি, যিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির পদে মনোনীত হন।

কবির আহমেদ, ব্যুরো চিফ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »