চরফ্যাসনে আরো ১৬০ গৃহহীন পাচ্ছেন স্বপ্নের নীড়

চরফ্যাসন, ভোলাঃ মুজিবর্ষের প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর তৃতীয় পর্যায়ের আরো ১৬০টি পাকা ঘরের চাবি ও জমির দলিল পাচ্ছেন ভোলার চরফ্যাসনের গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার। আগামীকাল ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ব্রজগোপাল টাউন হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব ঘরের চাবি ও দলিল হস্তান্তর করবেন।

জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর তৃতীয় পর্যায়ে চরফ্যাসন উপজেলায় ৩৪০টি ঘরের জন্য বরাদ্দ আসে। তার মধ্যে হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নে ২টি আলাদা লোকেশনে ৯০টি, জাহানপুর ইউনিয়নের মাছঘাট এলাকা হিসেবে পরিচিত পাঁচকপাট স্লুইজ গেটের কাছাকাছি ৫০টি ঘর। চরমানিকা ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া মাছঘাট এলাকায় ৬০টি, জিন্নাগড় ইউনিয়নে ৩টি, নজরুলনগর ইউনিয়নের বজলুবাজার এলাকায় ৬০টি, ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নে ৩৩টি, মোট ৩১০টি ঘরের নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। মাটি কমপ্যাক্ট না হবার কারণে ৩০টি ঘরের কাজ শুরু করা যায়নি। নির্মাণ সমাপ্ত হওয়া ১২০ টি ঘরের চাবি ও জমির দলিল ইতোমধ্যে উপকার ভোগীদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসব ঘরে নিরাপদে ঠাই পেয়েছেন ১২টি প্রতিবন্ধি পরিবার, ৪৮টি নদীভাঙ্গা পরিবার, ১৫টি স্বামী পরিত্যক্তা পরিবার, ২১টি শ্বশুর বাড়িতে আশ্রিত পরিবার এবং ২৪টি স্বামী- স্ত্রী সন্তনসহ অসহায় ভূমিহীন পরিবার। বাকি ১৬০টি ঘর বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল নোমান বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন- চরফ্যাসনে মোট ৩৪০ টি ঘর বরাদ্দ আসে। তার মধ্যে ২৬০ টি ঘর খাস জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। ৮০ টি ঘরের জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে। মাটি কমপ্যাক্ট না হবার কারণে ৩০ টি ঘরের কাজ শুরু করা যায়নি। নির্মাণ সমাপ্ত হওয়া ১২০ টি ঘরের চাবি ও জমির দলিল ইতোমধ্যে উপকার ভোগীদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুহস্পতিবার ১৬০ টি ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন- ঘর গুলি নির্মাণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বাজারের সবচেয়ে ভালো ব্র্যান্ডের সিমেন্ট, টিএমটি বার রড, ভালো ইট, উন্নতমানের পিকেট খোয়া, ভালো মেহগনি কাঠ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। নিজের কাজ মনে করেই এসব কাজ করা হয়েছে। এসব দুস্থ পরিবার গুলো যেন এসব ঘরে বসবাস করে শান্তি পায় সে বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য একটি করে টিউবওয়েল স্থাপন করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান- এসব প্রকল্পে অনেক ছোট ছোট বাচ্চা আছে এদের খেলা ধুলা করার তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। তাদের কথা বিবেচনা করেই এসব প্রকল্পগুলোতে মিনি পার্ক নির্মাণ করা হবে, পার্ক নির্মাণের জন্য প্রতিটি প্রকল্প এলাকায় কিছু খালি জায়গা রাখা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ সারা বিশ্বের মধ্যে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে তিনি অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

শহিদুল ইসলাম জামাল/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »