বাংলাদেশ ডেস্কঃ মাদারীপুর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে,অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় সাগরের মধ্যে নৌকায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় মাদারীপুরের পাঁচ জন যুবক মারা গেছে।
আজ শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের মধ্যে ইমরানের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ঠাণ্ডায় মৃত্যুবরণকারী এই হতভাগা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেশে তাদের মরদেহ পাঠাতে সর্বাত্মক সহযোগীতা করছে।
এই জেলার আরও ৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ দেশে আসার অপেক্ষায় আছে বাকী চারজনের আত্মীয় স্বজন। বাকী চারজন হলেন,মাদারীপুরের পেয়ারপুর গ্রামের রতন জয় তালুকদার, ঘটকচর গ্রামের সাফায়েত, মোস্তফাপুর গ্রামের জহিরুল এবং সদর উপজেলার বাপ্পী।
সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ইমরানের লাশ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুরে নিয়ে আসা হয়। পরে লাশ একনজর দেখতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা। আজ শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইমরানের আত্মীয় স্বজনরা জানায়, ধার-দেনা করে দক্ষিণপাড়া গ্রামের সলেমান বেপারীর ছেলে মানব পাচারচক্রের সক্রিয় সদস্য সামাদ বেপারীর হাতে ৮ লাখ টাকা তুলে দেন ইমরানের ভ্যানচালক বাবা শাজাহান হাওলাদার। পরে আর খোঁজ রাখেনি দালালচক্র। এই ঘটনায় দালালদের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ইমরানের চাচা মো. শওকত হাওলাদার বলেন, এলাকার অল্পবয়সী ছেলেদের প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি নেয়ার কথা বলে দালালচক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর আসছে। দালালদের বিচার না হওয়ায় এই অপরাধ থামছে না।
গত ২৫ অক্টোবর মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের ভ্যানচালক শাজাহান হাওলাদারের ছেলে ইমরান হোসেন অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। সবশেষ ২২ জানুয়ারি বিকেলে লিবিয়া থেকে শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর থেকে আর খোঁজ নেই ইমরানের।
দালালরা ইমরানের স্বজনদের বলেন, চিকিৎসাধীন রয়েছে ইমরান। কিন্তু শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) খবর আসে ভূমধ্যসাগরের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে মারা গেছে ইমরান। শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে ইমরানের লাশ মাদারীপুরের বাড়িতে আসে। এবং সকাল ১০টার দিকে দাফন করা হয়।
আজ শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চারজনের লাশ গ্রামে পৌছাবে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মইনউদ্দিন।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, গত ২২ জানুয়ারি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালি যাওয়ার পথে ঠান্ডায় মারা যায় ৭ বাংলাদেশি। মারা যাওয়া ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই মাদারীপুরের বাসিন্দা। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে দালালচক্রকে ধরতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইতিপূর্বে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিলেন, ইতালির আগ্রিগ্যান্টো অঞ্চলের প্রসিকিউটর লুইজি প্যাট্রোনাজিয়ো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটির ল্যাম্পাডুসা দ্বীপের উপকূলে ঠাণ্ডাজনিত কারণে এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু হয়েছে। একটি নৌযানে করে লিবিয়া থেকে ইউরোপের দেশ ইতালির পথে সাগর পাড়ি দিচ্ছিলেন তারা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভূমধ্য সাগরের জনমানবশূন্য দ্বীপ ল্যাম্পিয়নে আশ্রয় নিতে চেয়েছিল অভিবাসনপ্রত্যাশী দলটি। উপকূল থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় তীব্র ঠাণ্ডায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলা হয়েছে।দেশটির কোস্টগার্ড সদস্যরা মৃতদের উদ্ধার করেন। আহতদের দেয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা।
ল্যাম্পাডুসার মেয়র স্যালভাটর মারটেল্লো বলেন, ‘নৌযানটিতে অন্তত ২৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, অবৈধ মানবপাচার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করেছে তার কার্যালয়। ইউরোপে ঢুকার পথ হিসেবে ইতালিকে ব্যবহার করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর