চরফ্যাসনে বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসিনতায় চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

জামাল মোল্লা, চরফ্যাসন, ভোলা: বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসিনতায় বিদ্যুতের চরম দূর্ভোগে রয়েছে চরফ্যাসনবাসী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে একাধিকবার লোডশেডিং ও শনিবার (২৮ আগস্ট) সারাদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই চরফ্যাসনে। এতে চরম বিপাকে রয়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

ভোলার গ্যাসে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও জেলার অন্যান্য উপজেলাসহ চরফ্যাসনে বিদ্যুৎ সমস্যার কোন শেষ নেই। জানা গেছে, ভোলার প্রাপ্ত গ্যাস ব্যাবহার করে সরকারীভাবে ২২৫ মেঃওঃ, বেসরকারীভাবে ১০০ মেঃ ওঃ,ও আরেকটি বেসরকারী কোম্পানীর মাধ্যমে ৩৫ মেঃ ওঃ রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোলায় মোট ৩৬০ মেঃ ওঃ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। অথচ ভোলাসহ চরফ্যাসনে বিদ্যুতের ভোগান্তিতে রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৩২৫ মেঃ ওঃ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অথচ জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ সঠিকভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা। যা খুবই দুঃখজনক বলছেন ভুক্তভোগীরা।

ভোলা রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে উৎপাদিত ৩৫ মেঃ ওঃ বিদ্যুৎ ভোলা সদর দৌলতখান এবং জাতীয় গ্রিড থেকে ৪০ মেঃ ওঃ বিদ্যুৎ বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমুদ্দিনসহ চরফ্যাসন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ভোলার ৩৫ মেঃ ওঃ প্লান্টটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে প্রায়ই বন্ধ থাকে। এর ফলে ভোলাসহ চরফ্যাসনে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকেনা। তাই ভোলা জেলাকে জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবী জানিয়েছেন ভোলাবাসী।

এছাড়াও ভোলা থেকে চরফ্যাসন পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনটি অনেক পুরাতন ৩৩ কেভির লাইন। এছাড়া ভোলাসহ চরফ্যাসনে আরইবি ও ওজোপাডিকা যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে তাদের লাইন, সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার অনেক পুরোনো ও নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। সামান্য ঝড় বাতাস হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় চরফ্যাসন পৌরসভাসহ পুরো উপজেলায়। ঠিকমত লোড নিতে না পারার কারনে লো-ভোল্টেজের জন্য বানিজ্যিকভাবে কাজকর্ম করতে বেগ পেতে হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এছাড়াও টিভি, ফ্রিজ নষ্টের পাশাপাশি নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।

বিদ্যুৎ বিভাগে গ্রাহকরা এসব অভিযোগ করলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলেন, তারা পিজিসিবি ও পিডিবি থেকে সঠিক ভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা।

চরফ্যাসনের গ্রাহকরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও খামখেয়ালী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীর রয়েছে অনেক অভিযোগ। গ্রাহকরা বলছেন, চরফ্যাসনসহ ভোলায় নতুন লাইন, নতুন সাব স্টেশন তৈরী ও জেলার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করে সরবরাহ করা হলে জেলার ২২ লাখ মানুষ বিদ্যুতের ভোগান্তী থেকে রক্ষা ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে।

এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারন হল জাতীয় গ্রীড থেকে যে ৪০ মেঃ ওঃ বিদ্যুৎ দেয়া সেখানে ট্রান্সমিটার লোড নিতে পারে না। এ বিষয়ে জানতে চরফ্যাসন ওজোপডিকোর বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন দিলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

চরফ্যাসন/ইবিটাইমস/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »