ভিয়েনা ০৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

করোনার নতুন হটস্পট বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল,মংলায় শনাক্তের হার ৭০ শতাংশ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৬:৪৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুন ২০২১
  • ৫০ সময় দেখুন

 সীমান্তবর্তী জেলা সমূহে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ,করোনার তৃতীয় ঢেউ কি আসছে?

বাংলাদেশ ডেস্কঃ বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম এবং বিবিসি ও জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে (DW) তাদের নিজস্ব সংবাদধাতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী বিভাগের বেশ কিছু জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে৷ বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আক্রান্তদের অধিকাংশই ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শিকার বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন৷

রাজশাহী বিভাগে সর্বশেষ শনিবার ২৮৮ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ এর মধ্যে রাজশাহী জেলাতেই ১৩৩ জন৷ আর সীমান্ত এলাকায় করোনার হটস্পট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০৮ জন৷ এ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭ হাজার ৩২১ জনে৷ গত ২৪ ঘন্টায় ওই বিভাগে মারা গেছেন ১২ জন৷ এর আগের দিন মারা গেছেন ১৬ জন৷

সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন গতকাল শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ জন, রাজশাহীতে ৪ জন, নওগাঁয় ১ জন ও বগুড়ায় ১ জন মারা গেছেন৷ এই বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনায়  ৫৯২ জনে মারা গেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, জেলায় নমুনা পরীক্ষায় শতকরা ৪০ ভাগ এখনো পজেটিভ আসছে৷ আর হাসপাতালের বেড যত বাড়ানো হয় ততই ভরে যায়৷ প্রথমে করোনা রেগীদের জন্য ২০ বেড, তারপর ৩০ বেড এবং এখন ৫০ বেড করা হয়েছে৷ তাও ভরে গেছে৷ তিনি জানান, পরিস্থিতি সামলাতে তারা তিনটি চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন৷ লকডাউনেও মসজিদে লোক সমাগম কমানো যচ্ছেনা৷ আমের মৌসুম হওয়ায় আম ব্যবসায়ীরা লকডাউন মানছেন না৷ সীমান্তে অবৈধ যাতায়ত বন্ধ করা যাচ্ছেনা৷

এদিকে বিবিসি জানিয়েছেন,বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা সহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন হটস্পট হয়ে উঠছে। ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল শনিবার ৫ জুন সন্ধ্যার পর থেকে সাতদিনের জন্য বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বাগেরহাটের মংলায় গত কয়েকদিন ধরে সংক্রমণের শতকরা হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে, যা নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

দেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরের জেলা সমৃহেও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল শনিবার সংবাদ মাধ্যমেরখবর অনুযায়ী দেশের মধ্যাঞ্চলে ১৭ জনের দেহে ভারতীয় ধরন ‘ডেল্টা’ শনাক্ত হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১০ জন ও গোপালগঞ্জ জেলার তেলিভিটা গ্রামে সাতজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরণ ‘ডেল্টা’ শনাক্ত হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার আশঙ্কায় রাজধানীর আইডিইসিআরে তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আক্রান্তদের ঢাকার বক্ষব্যাধী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এখনো তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর তাদের শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।’

অন্যদিকে গোপালগঞ্জ সদর থানার বোলতলী ইউনিয়নের তেলিভিটা গ্রামের সাতজনের ভারতীয় ধরণ ডেল্টা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ২৬ মে তেলিভিটা গ্রামের ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিডিআর’বি তে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাতজনের ডেল্টা শনাক্ত হলো।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ‘আগে থেকেই সদরের বোলতলী, শাখপাড়, শাহাপুর ইউনিয়নে লকডাউন চলছে। তবে এ ঘটনার পর তেলিভিটা গ্রামে লকডাউন অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হবে।’

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

করোনার নতুন হটস্পট বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল,মংলায় শনাক্তের হার ৭০ শতাংশ

আপডেটের সময় ০৬:৪৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুন ২০২১

 সীমান্তবর্তী জেলা সমূহে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ,করোনার তৃতীয় ঢেউ কি আসছে?

বাংলাদেশ ডেস্কঃ বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম এবং বিবিসি ও জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে (DW) তাদের নিজস্ব সংবাদধাতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী বিভাগের বেশ কিছু জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে৷ বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আক্রান্তদের অধিকাংশই ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের শিকার বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন৷

রাজশাহী বিভাগে সর্বশেষ শনিবার ২৮৮ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ এর মধ্যে রাজশাহী জেলাতেই ১৩৩ জন৷ আর সীমান্ত এলাকায় করোনার হটস্পট চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০৮ জন৷ এ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭ হাজার ৩২১ জনে৷ গত ২৪ ঘন্টায় ওই বিভাগে মারা গেছেন ১২ জন৷ এর আগের দিন মারা গেছেন ১৬ জন৷

সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন গতকাল শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ জন, রাজশাহীতে ৪ জন, নওগাঁয় ১ জন ও বগুড়ায় ১ জন মারা গেছেন৷ এই বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনায়  ৫৯২ জনে মারা গেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, জেলায় নমুনা পরীক্ষায় শতকরা ৪০ ভাগ এখনো পজেটিভ আসছে৷ আর হাসপাতালের বেড যত বাড়ানো হয় ততই ভরে যায়৷ প্রথমে করোনা রেগীদের জন্য ২০ বেড, তারপর ৩০ বেড এবং এখন ৫০ বেড করা হয়েছে৷ তাও ভরে গেছে৷ তিনি জানান, পরিস্থিতি সামলাতে তারা তিনটি চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন৷ লকডাউনেও মসজিদে লোক সমাগম কমানো যচ্ছেনা৷ আমের মৌসুম হওয়ায় আম ব্যবসায়ীরা লকডাউন মানছেন না৷ সীমান্তে অবৈধ যাতায়ত বন্ধ করা যাচ্ছেনা৷

এদিকে বিবিসি জানিয়েছেন,বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা সহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন হটস্পট হয়ে উঠছে। ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল শনিবার ৫ জুন সন্ধ্যার পর থেকে সাতদিনের জন্য বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বাগেরহাটের মংলায় গত কয়েকদিন ধরে সংক্রমণের শতকরা হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে, যা নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

দেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরের জেলা সমৃহেও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল শনিবার সংবাদ মাধ্যমেরখবর অনুযায়ী দেশের মধ্যাঞ্চলে ১৭ জনের দেহে ভারতীয় ধরন ‘ডেল্টা’ শনাক্ত হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১০ জন ও গোপালগঞ্জ জেলার তেলিভিটা গ্রামে সাতজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরণ ‘ডেল্টা’ শনাক্ত হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার আশঙ্কায় রাজধানীর আইডিইসিআরে তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আক্রান্তদের ঢাকার বক্ষব্যাধী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এখনো তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর তাদের শরীরে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।’

অন্যদিকে গোপালগঞ্জ সদর থানার বোলতলী ইউনিয়নের তেলিভিটা গ্রামের সাতজনের ভারতীয় ধরণ ডেল্টা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ২৬ মে তেলিভিটা গ্রামের ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিডিআর’বি তে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাতজনের ডেল্টা শনাক্ত হলো।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ‘আগে থেকেই সদরের বোলতলী, শাখপাড়, শাহাপুর ইউনিয়নে লকডাউন চলছে। তবে এ ঘটনার পর তেলিভিটা গ্রামে লকডাউন অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হবে।’

কবির আহমেদ /ইবি টাইমস