ভিয়েনা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট-বালিতে ঝুঁকিতে ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে ব্যয় সংকোচনে সাধনে এসি ব্যবহার করি না : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী লালমোহনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবদল কর্মী নিহত লালমোহনে জেলেদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কলেজ ছাত্র রিজওয়ান রশীদের বানানো ‘রেসিং কার’ চালিয়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী জাপানে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকলকর্মীরা রাজধানীর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সরকার মানুষের আশার প্রতিফলন: প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন এখন শুধুই স্মৃতি

লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট-বালিতে ঝুঁকিতে ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৪:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ সময় দেখুন

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণ কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বমুখী মফিজুল ইসলাম কানু সড়কের হেরিংবোন (Herringbone) সম্প্রসারণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজে পঁচা ইট, পিকেট ইট ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিমাণ বালি ও পানি ব্যবহার না করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ, জসিম ও মতিনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, রাস্তার নিচে প্রয়োজনীয় বালির স্তর দেওয়া হচ্ছে না। সামান্য পানির ছিটা দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এইভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমেই ইট দেবে গিয়ে সড়ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (LGED) কর্মকর্তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (এসও) মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তদারকির জন্য অফিসের একজন স্টাপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে তাদের কাউকেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি, যা তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে।

প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজনকেই কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিরণ দাবি করেন, এক গাড়ি নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল, তবে তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের ইট দিয়েই কাজ চলছে।

অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মো. মোশারফ জানান, করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বদিকে প্রায় ১৬শ ফুট সড়কের জন্য ৪০ লাখ টাকার কাজ পেয়েছি। সীমিত বাজেটে কাজটি করা কঠিন হলেও আমরা মান বজায় রাখার চেষ্টা করছি।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন! যেখানে কাজের শুরুতেই অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, সেখানে প্রকল্পের পুরো কাজের গুণগত মান কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব? এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস

জনপ্রিয়

লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট-বালিতে ঝুঁকিতে ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট-বালিতে ঝুঁকিতে ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প

আপডেটের সময় ০৪:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জাহিদ দুলাল, ভোলা দক্ষিণ : ভোলার লালমোহনে সড়ক সম্প্রসারণ কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বমুখী মফিজুল ইসলাম কানু সড়কের হেরিংবোন (Herringbone) সম্প্রসারণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজে পঁচা ইট, পিকেট ইট ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিমাণ বালি ও পানি ব্যবহার না করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ, জসিম ও মতিনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, রাস্তার নিচে প্রয়োজনীয় বালির স্তর দেওয়া হচ্ছে না। সামান্য পানির ছিটা দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এইভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমেই ইট দেবে গিয়ে সড়ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (LGED) কর্মকর্তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান (এসও) মুঠোফোনে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তদারকির জন্য অফিসের একজন স্টাপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে তাদের কাউকেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি, যা তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে।

প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজনকেই কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিরণ দাবি করেন, এক গাড়ি নিম্নমানের ইট আনা হয়েছিল, তবে তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের ইট দিয়েই কাজ চলছে।

অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মো. মোশারফ জানান, করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ থেকে পূর্বদিকে প্রায় ১৬শ ফুট সড়কের জন্য ৪০ লাখ টাকার কাজ পেয়েছি। সীমিত বাজেটে কাজটি করা কঠিন হলেও আমরা মান বজায় রাখার চেষ্টা করছি।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন! যেখানে কাজের শুরুতেই অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, সেখানে প্রকল্পের পুরো কাজের গুণগত মান কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব? এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস