ভিয়েনা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খসড়া প্রস্তাবে ১২শ’ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি ইরানের : রাষ্ট্রীয় টিভি চুক্তি না হলে আবারও ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র শেষ হলো হজের আনুষ্ঠানিকতা, আজ রাতেই শুরু হচ্ছে ফিরতি ফ্লাইট শাহাদাত বার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা লালমোহনে পাকা সড়কের দাবিতে মানববন্ধন রোমানিয়ার আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন হামলা, আহত ২ ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আরও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আগামীকাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী অস্ট্রিয়ায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি : স্পিকার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন এখন শুধুই স্মৃতি

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৩ সময় দেখুন
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা রেলপথ এক সময় ছিল এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলপথটি এখন কেবল স্মৃতি আর ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ।
চার দশকের বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি এখন বিলুপ্তির পথে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে ১৯২৮-২৯ সালে চুনারুঘাট থেকে বাল্লা পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রুটে চুনারুঘাট জংশনসহ মোট আটটি স্টেশন ছিল- হবিগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ কোর্ট, ধুলিয়াখাল, পাইকপাড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, বারকোটা, সুতাং বাজার, চুনারুঘাট, আমুরোড, আসামপাড়া ও সীমান্তবর্তী বাল্লা। চুনারুঘাট উপজেলার অন্তত ২২টি চা-বাগানের উৎপাদিত চা রপ্তানি ও শ্রমিকদের রেশন, জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল এই ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে শরণার্থী ফেরত আনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগে এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে সময় কয়লার ইঞ্জিনের পরিবর্তে ডিজেল ইঞ্জিন যুক্ত করা হয় এবং দিনে দুবার ট্রেনটি চলাচল করত। তবে সময়ের ব্যবধানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় রেলপথটির অবনতি শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে ট্রেনটি চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন ও লোকসানের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ১৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ১৯৮০-এর দশকে প্রথমবার এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে কয়েক দফা সীমিত পরিসরে চালু হলেও ১৯৯১ সালে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুদিন চলার পর ২০০২-০৩ সাল থেকে এই রুটে স্থায়ীভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেলপথের অবকাঠামো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রেলের শত শত কোটি টাকার সম্পদ লুট হয়ে গেছে। রেলের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এমনকি কিছু রেলকর্মচারীর বিরুদ্ধেও রেলের জায়গা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার এই রেলপথ পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ পুনরায় চালু হলে এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল বলেন, বাল্লা লোকাল ট্রেন এখন আমাদের কাছে কেবল স্মৃতি। এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং রেলপথটি পুনরায় সচল করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মোতাব্বির হোসেন কাজল/ইবিটাইমস/এম আর
জনপ্রিয়

খসড়া প্রস্তাবে ১২শ’ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি ইরানের : রাষ্ট্রীয় টিভি

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন এখন শুধুই স্মৃতি

আপডেটের সময় ০৩:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা রেলপথ এক সময় ছিল এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলপথটি এখন কেবল স্মৃতি আর ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ।
চার দশকের বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি এখন বিলুপ্তির পথে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে ১৯২৮-২৯ সালে চুনারুঘাট থেকে বাল্লা পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রুটে চুনারুঘাট জংশনসহ মোট আটটি স্টেশন ছিল- হবিগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ কোর্ট, ধুলিয়াখাল, পাইকপাড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, বারকোটা, সুতাং বাজার, চুনারুঘাট, আমুরোড, আসামপাড়া ও সীমান্তবর্তী বাল্লা। চুনারুঘাট উপজেলার অন্তত ২২টি চা-বাগানের উৎপাদিত চা রপ্তানি ও শ্রমিকদের রেশন, জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল এই ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে শরণার্থী ফেরত আনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগে এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে সময় কয়লার ইঞ্জিনের পরিবর্তে ডিজেল ইঞ্জিন যুক্ত করা হয় এবং দিনে দুবার ট্রেনটি চলাচল করত। তবে সময়ের ব্যবধানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় রেলপথটির অবনতি শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে ট্রেনটি চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন ও লোকসানের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ১৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ১৯৮০-এর দশকে প্রথমবার এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে কয়েক দফা সীমিত পরিসরে চালু হলেও ১৯৯১ সালে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুদিন চলার পর ২০০২-০৩ সাল থেকে এই রুটে স্থায়ীভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেলপথের অবকাঠামো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রেলের শত শত কোটি টাকার সম্পদ লুট হয়ে গেছে। রেলের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এমনকি কিছু রেলকর্মচারীর বিরুদ্ধেও রেলের জায়গা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার এই রেলপথ পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ পুনরায় চালু হলে এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল বলেন, বাল্লা লোকাল ট্রেন এখন আমাদের কাছে কেবল স্মৃতি। এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং রেলপথটি পুনরায় সচল করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মোতাব্বির হোসেন কাজল/ইবিটাইমস/এম আর