ভিয়েনা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জ্বালানির পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে: জাতিসংঘ ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোটগ্রহণ চলছে ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর অভিযান : পেন্টাগন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বৈঠক ইরানে সহায়তা পাঠালো বাংলাদেশ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর লালমোহনে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করলেন ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নবীগঞ্জে কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার নিয়োগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি

শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে: জাতিসংঘ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক :কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেক শিশু নিয়মিত টিকা নিতে পারেনি। সেই ঘাটতি পূরণে তিন বছর ধরে একটি বৈশ্বিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে জাতিসংঘ। এর মাধ্যমে ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকাদানের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য এখন পূরণের পথে রয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে সংস্থাটি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারী স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে হাম ও পোলিওর মতো সংক্রামক রোগ ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), শিশু সংস্থা ইউনিসেফ এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিগ ক্যাচ-আপ’ নামের এই কর্মসূচি ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণের পথে রয়েছে।

গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে এই টিকাদান কর্মসূচি। তবে এখনও চূড়ান্ত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকা ও এশিয়ার ৩৬টি দেশে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী আনুমানিক এক কোটি ৮৩ লাখ শিশুকে ১০ কোটিরও বেশি ডোজ জীবনরক্ষাকারী টিকা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ শিশু আগে কোনো টিকাই পায়নি। আর প্রায় দেড় কোটি শিশু আগে কখনও হামের টিকা নেয়নি।

এই উদ্যোগ অনেক দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকেও আরও উন্নত করেছে বলে সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এর মাধ্যমে টিকা থেকে বাদ পড়া তুলনামূলক বড় শিশুদের শনাক্ত করাও সহজ হয়েছে।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, কোভিড-১৯-এর কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্ন ঘটায় যেসব শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তাদের সুরক্ষার মাধ্যমে এই কর্মসূচি মহামারির অন্যতম বড় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

টিকাবিরোধী প্রচারণা

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয় বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।

তাদের তথ্যমতে, টিকা নিয়ে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের প্রবণতা বাড়ছে। একইসঙ্গে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায়ও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

সংস্থাগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়মিত টিকাদানে দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখন স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

আগে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার বেশি ছিল, সেখানেও টিকার প্রতি আস্থা কমে গেছে। যে কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন বিষয়ক পরিচালক কেট ও’ব্রায়েন সাংবাদিকদের বলেন, টিকার বিষয়ে অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরে। তবে সকলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, টিকা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে রাজনৈতিকীকরণ বাড়ছে।

গ্যাভির প্রধান নির্বাহী সানিয়া নিশতার বলেন, ‘আমরা এমন একটি সামাজিক মাধ্যমের বিরুদ্ধে লড়ছি যেখানে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ারও প্রণোদনা রয়েছে। বিষয়টি কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ঘৃণা, বিভ্রান্তি ও মিথ্যা তথ্যকে উৎসাহিত করে। ভালো কোনো তথ্য প্রচার করলেও তা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না বলেও মন্তব্য করেন।

ইউনিসেফের টিকাদানবিষয়ক গ্লোবাল প্রধান এফ্রেম লেমাঙ্গো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমগুলো সাধারণত সঠিকতার চেয়ে উত্তেজনা বা বিতর্ককে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে ভ্যাকসিনবিরোধী কনটেন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এটিকে ঘিরে এক ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামোও তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’

অন্যদিকে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে তহবিল সংকোচনের কারণে টিকাদান সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে দীর্ঘদিনের অর্জিত অগ্রগতি উল্টে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘসময় ধরে অর্জিত অগ্রগতিকে বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ আগে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছিল, তা পিছিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দেন।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়

জ্বালানির পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে: জাতিসংঘ

আপডেটের সময় ১২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক :কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেক শিশু নিয়মিত টিকা নিতে পারেনি। সেই ঘাটতি পূরণে তিন বছর ধরে একটি বৈশ্বিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে জাতিসংঘ। এর মাধ্যমে ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকাদানের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য এখন পূরণের পথে রয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে সংস্থাটি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারী স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে হাম ও পোলিওর মতো সংক্রামক রোগ ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), শিশু সংস্থা ইউনিসেফ এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিগ ক্যাচ-আপ’ নামের এই কর্মসূচি ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণের পথে রয়েছে।

গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে এই টিকাদান কর্মসূচি। তবে এখনও চূড়ান্ত তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকা ও এশিয়ার ৩৬টি দেশে ১ থেকে ৫ বছর বয়সী আনুমানিক এক কোটি ৮৩ লাখ শিশুকে ১০ কোটিরও বেশি ডোজ জীবনরক্ষাকারী টিকা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ শিশু আগে কোনো টিকাই পায়নি। আর প্রায় দেড় কোটি শিশু আগে কখনও হামের টিকা নেয়নি।

এই উদ্যোগ অনেক দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকেও আরও উন্নত করেছে বলে সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এর মাধ্যমে টিকা থেকে বাদ পড়া তুলনামূলক বড় শিশুদের শনাক্ত করাও সহজ হয়েছে।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, কোভিড-১৯-এর কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্ন ঘটায় যেসব শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তাদের সুরক্ষার মাধ্যমে এই কর্মসূচি মহামারির অন্যতম বড় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

টিকাবিরোধী প্রচারণা

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয় বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।

তাদের তথ্যমতে, টিকা নিয়ে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের প্রবণতা বাড়ছে। একইসঙ্গে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায়ও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

সংস্থাগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়মিত টিকাদানে দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখন স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।

আগে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার বেশি ছিল, সেখানেও টিকার প্রতি আস্থা কমে গেছে। যে কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন বিষয়ক পরিচালক কেট ও’ব্রায়েন সাংবাদিকদের বলেন, টিকার বিষয়ে অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরে। তবে সকলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, টিকা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে রাজনৈতিকীকরণ বাড়ছে।

গ্যাভির প্রধান নির্বাহী সানিয়া নিশতার বলেন, ‘আমরা এমন একটি সামাজিক মাধ্যমের বিরুদ্ধে লড়ছি যেখানে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ারও প্রণোদনা রয়েছে। বিষয়টি কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ঘৃণা, বিভ্রান্তি ও মিথ্যা তথ্যকে উৎসাহিত করে। ভালো কোনো তথ্য প্রচার করলেও তা খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না বলেও মন্তব্য করেন।

ইউনিসেফের টিকাদানবিষয়ক গ্লোবাল প্রধান এফ্রেম লেমাঙ্গো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমগুলো সাধারণত সঠিকতার চেয়ে উত্তেজনা বা বিতর্ককে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে ভ্যাকসিনবিরোধী কনটেন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এটিকে ঘিরে এক ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামোও তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’

অন্যদিকে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে তহবিল সংকোচনের কারণে টিকাদান সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে দীর্ঘদিনের অর্জিত অগ্রগতি উল্টে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘসময় ধরে অর্জিত অগ্রগতিকে বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ আগে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছিল, তা পিছিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দেন।
ঢাকা/এসএস