শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, টাঙ্গাইল : আগামীকাল ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও সাজ সাজ রব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর জেলা সফরকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। একই সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝেও তাদের নেতা তারেক রহমান-কে ঘিরে আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর দ্বিতীয় জেলা সফর এবং টাঙ্গাইলে প্রথম আগমন। এ সফরে তিনি দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা কৃষি খাতে একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সেখানে এক বিশাল কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ভাষণ শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে সফরকে ঘিরে শহরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ জোরদার করা হয়েছে। স্টেডিয়াম মাঠে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার দুপুরে সমাবেশস্থল ও কৃষি মেলার প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, “বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘কৃষক কার্ড’ চালু হতে যাচ্ছে। শুরুতে প্রি-পাইলটিং, পরে পাইলটিং পর্যায় শেষে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কার্ড বিতরণ করা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে ব্লকভিত্তিক এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে ১১টি ব্লকে প্রি-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট ১ হাজার ৪৭০ জন কৃষক এই কার্ড পাচ্ছেন। এর মধ্যে ১০০ জন কৃষক সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবেন এবং ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কৃষক কার্ড তুলে দেবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের তৎপরতায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস




















