শহিদুল ইসলাম জামাল, চরফ্যাশন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের খোদেজা বাগ এলাকার ৯নং ওয়ার্ডে নূর হোসেন ফরাজী নামে এক কৃষকের জমির ঘাসের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫ টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় আরও ৩ টি গরু অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। একাধিক গরুর এমন মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে। কৃষক নূর হোসেন ফরাজীর ৮টি গৃহপালিত গরুর মধ্যে হঠাৎ কয়েকটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি খারাপ হলে এর মধ্যে দুটি গরু জবাই করতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গ্রামের কৃষি জমি থেকে ঘাস কেটে এনে গরুগুলোকে খাওয়ানো হয়েছিল। ঘাস খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পাঁচটি গরু মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘাসের সঙ্গে বিষাক্ত কোনো উপাদান মিশে ছিল।
খামারি নূর হোসেন ফরাজী জানান, কোরবানি ঈদ ও দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য আমি নিজের সন্তানের মতো করে গরু গুলোকে লালন পালন করে বড় করতেছিলাম। কিন্তু ঘাস খাওয়ানের কারণে যে এভাবে মৃত্যু হবে তা কখোনই ভাবনি।
অসুস্থ গরুগুলোর চিকিৎসা করেছেন ভোলার প্রাক্তন প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বাপ্পি। বর্তমানে বাকি তিনটি গরুর চিকিৎসা চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় কৃষক পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বাপ্পি বলেন, জমির কীটনাশকের বিষক্রিয়ার কারণে কিংবা বৃষ্টির সময় কচি ঘাসে নাইট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকে। সেই নাইট্রেট বিষক্রিয়ায় গরুগুলো মারা যেতে পারে। খামারি নিজ জমির পাশ থেকে ঘাস কেটে আনলে তা খেয়ে গরুগুলোর শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। খামারিদের এই মুহূর্তে গরুকে শুধু কাঁচা ঘাস দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত বলে জানান।
ঢাকা/ইবটাইমস/এসএস




















