ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশন দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছে

ভিয়েনা ডেস্কঃ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘ কার্যালয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশন এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি তৌফিক হাসান-এর আহ্বানে অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রাচার প্রধান, জাতিসংঘের সংস্থা IAEA, UNIDO, UNODC, CTBTO, Austrian Commission for UNESCO এবং ভিয়েনা সিটি কাউন্সিলের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘ অফিস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তারা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং পরবর্তীতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে CTBTO এর নির্বাহী সচিব CTBTO এর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি পোস্টার মান্যবর রাষ্ট্রদূত এর হাতে তুলে দেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ৫২ এর ভাষা শহীদদের স্মরণের পাশাপাশি আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ভাণ্ডার হিসেবে ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বৈশ্বিক ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান ও উদযাপনের পাশাপাশি সাহিত্য, শিল্প, সঙ্গীত কিংবা নৃত্য সহ যে কোনো সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় ভাষাসমূহ সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক কুটনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, নেপাল, স্লোভাকিয়া, ও শ্রীলংকার সাংস্কৃতিক দল নিজ মাতৃভাষায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন। অনুষ্ঠানে ভিয়েনাস্থ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, স্থায়ী প্রতিনিধি, অন্যান্য কূটনীতিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিগণ, ভিয়েনায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং সপরিবারে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যাহ্নভোজ প্রদানের মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রভাতে মান্যবর রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করেন। অতঃপর মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া বীর সেনানীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য মোনাজাত করে দিবসটি উদযাপনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর



















