ভিয়েনা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: জামায়াত আমির

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১০:৫০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯০ সময় দেখুন

ইবিটাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। ভোটের দিন বুথে ঢুকে প্রথম ভোটটি দিতে হবে ‘হ্যাঁ’-তে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কবর রচিত হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বিপ্লব ঘটাতে হবে। চব্বিশের ৫ আগস্টের বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে। আর এবার ব্যালটের মাধ্যমে বিপ্লব করতে হবে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করা এবং রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ব্যবস্থাকে তছনছ করতে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ অন্যরা।

জামায়াত আমির জানান, ভোটের দিন দু’টি ভোট হবে। একটি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আরেকটি পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষে ভোট। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। আর ‘হ্যাঁ’ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা-দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, নারী নির্যাতনকারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবহেলাকারী এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চিরতরে লালকার্ড।

জামায়াত আমির বলেন, ৫৪ বছরের রাজনীতি দেশকে অন্ধকার গলিতে ঠেলে দিয়েছে এবং কোনো কোনো রাষ্ট্রের তাবেদারে পরিণত করেছে। যুবসমাজ আর সেই বাংলাদেশ দেখতে চায় না। আবু সাঈদ ও আবরার ফাহাদ এই পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের রক্ত দেশবাসীর কাছে আমানত।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তারা নিজেদের মালিক নয় বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করব। কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেওয়া হবে না। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজেদের ও পরিবারের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে দিতে হবে। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, তা জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী যুবকদের জন্য সরকারি খরচে ৩ মাস, ৬ মাস, ৯ মাস ও এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। মায়েদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাজনীতি হলো নীতির খেলা। প্রত্যেকে তার নীতি নিয়ে আসবে, সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। জনগণ যাকে গ্রহণ করবে তাকে সম্মান দেখাতে হবে। আমরা দেশবাসীর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি।

তিনি বলেন, বন্ধ ও খুঁড়িয়ে চলা শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা হবে। চুরি ও লুটপাট বন্ধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উৎপাদন বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করতে চাই।

তিনি বলেন, তিনটি বিষয় যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে চাই— প্রথমত, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ। দ্বিতীয়ত, গরিব-ধনী, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, নারী-পুরুষ, শিশু, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার। তৃতীয়ত, জনগণের চাওয়া অনুযায়ী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। দেশ বদলের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করা হবে না।
ঢাকা/এসএস

জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: জামায়াত আমির

আপডেটের সময় ১০:৫০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইবিটাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। ভোটের দিন বুথে ঢুকে প্রথম ভোটটি দিতে হবে ‘হ্যাঁ’-তে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কবর রচিত হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বিপ্লব ঘটাতে হবে। চব্বিশের ৫ আগস্টের বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে। আর এবার ব্যালটের মাধ্যমে বিপ্লব করতে হবে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করা এবং রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ব্যবস্থাকে তছনছ করতে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ অন্যরা।

জামায়াত আমির জানান, ভোটের দিন দু’টি ভোট হবে। একটি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আরেকটি পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষে ভোট। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। আর ‘হ্যাঁ’ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা-দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, নারী নির্যাতনকারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবহেলাকারী এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চিরতরে লালকার্ড।

জামায়াত আমির বলেন, ৫৪ বছরের রাজনীতি দেশকে অন্ধকার গলিতে ঠেলে দিয়েছে এবং কোনো কোনো রাষ্ট্রের তাবেদারে পরিণত করেছে। যুবসমাজ আর সেই বাংলাদেশ দেখতে চায় না। আবু সাঈদ ও আবরার ফাহাদ এই পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের রক্ত দেশবাসীর কাছে আমানত।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তারা নিজেদের মালিক নয় বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করব। কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেওয়া হবে না। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বছর নিজেদের ও পরিবারের সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে দিতে হবে। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, তা জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী যুবকদের জন্য সরকারি খরচে ৩ মাস, ৬ মাস, ৯ মাস ও এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। মায়েদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাজনীতি হলো নীতির খেলা। প্রত্যেকে তার নীতি নিয়ে আসবে, সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। জনগণ যাকে গ্রহণ করবে তাকে সম্মান দেখাতে হবে। আমরা দেশবাসীর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি।

তিনি বলেন, বন্ধ ও খুঁড়িয়ে চলা শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করা হবে। চুরি ও লুটপাট বন্ধ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই উৎপাদন বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করতে চাই।

তিনি বলেন, তিনটি বিষয় যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে চাই— প্রথমত, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ। দ্বিতীয়ত, গরিব-ধনী, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, নারী-পুরুষ, শিশু, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার। তৃতীয়ত, জনগণের চাওয়া অনুযায়ী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। দেশ বদলের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করা হবে না।
ঢাকা/এসএস